চিকা। এটি ইঁদুরের একটি বিশেষ প্রজাতি। এর বৈজ্ঞানিক নাম-Suncus murinus । অতি খারাপ ধরণের বমি উদ্রেক কারী গন্ধের জন্য বিখ্যাত এই প্রাণীটি। এই প্রাণীটি ভয়ংকর ভাবে আজও আমার স্মৃতিতে জাগ্রত।
২০০৮ এর শেষের দিকের কথা। এইস এস সি পরীক্ষা আর কয়েকদিন পরেই। পরীক্ষা উপলক্ষে আমি ও রাজীব (রাজীব আমার কলেজ জীবনের বন্ধু। বর্তমানে রংপুর মেডিকেল কলেজে অধ্যয়নরত) একই রুমে থাকি। ফলে যা সচরাচর হয় তাই ঘটতে শুরু করল।
রাত ১২ টার পর ঘুরে বেড়ানো, ছিনেমা দেখা, কার্ড খেলা থেকে শুরু করে চুরি পর্যন্ত করলাম আমরা। পড়ালেখা পুটলি বেঁধে সিন্দুকে ভরে রাখা হল।
মাষ্টার কলোনি নামক অদ্ভুত টাইপের একটা মেসে থাকতাম আমরা। মেসটির পূর্বদিকে জঘন্য একটা রুম বরাদ্দ করা হয়েছিল আমাদের জন্য। সেখানে না আসত কোন বাতাস, না আসত আলো।
মোটামুটি কারাগারের জীবন বলা চলে একে। রাত হলেই মশার দল চলে আসত ঘুম পাড়ানী গান শুনাতে। রাত ১২ টার পর আগমন ঘটত একদল চিকার। দিনের শেষে জরুরী মিটিংটা আমাদের রুমেই সারত ওরা। এদের গন্ধে দম বন্ধ হয়ে আসতে চাইত আমাদের।
মাথা গরম হয়ে যেত এত সব অত্যাচারে। কিছু একটা করা দরকার। হ্যাঁ, কিছু
একটা শুরু করেছিলাম আমরা। প্রতিদিন একটা করে চিকা মারতাম স্ট্যাম্প, ব্যাট দিয়ে। আর ওগুলো মফিজুল ভাইয়ের লুঙ্গির সাথে বেঁধে রেখে আসতাম।
মফিজুল আমাদের ম্যাসের বড় ভাই। উনি আমাদের ম্যাসের বাজার করতেন। আর তার বাজার লিস্টে কমন ছিল মূলা নামক সবজিটা। এ আর এক ধরণের অত্যাচার। একই খাবার প্রতিদিন।
তাই আমাদের প্রতিবাদি মন ওই সিদ্ধান্তটা নিয়েছিল সেদিন। আমরা জানতামনা চিকা গুলো কি করত মফিজদা। তার পরও কিন্তু বাজার লিস্ট থেকে মূলা শব্দটা বাদ দেয়নি মিচকে শয়তান মফিজ। অপরদিকে প্রতিদিন একটি করে চিকা মারার পরও চিকার সংখ্যা দিনকে দিন বেড়েই চলল আমাদের রুমে। এরপর থেকে আর কোনদিন চিকা মারিনি আমরা।
কোন লাভ হচ্ছেনা যেখানে সেখানে খামখা নিরীহ প্রাণীগুলোকে মেরে লাভ কি!
এর কিছুদিন পর ঢাকার জীবন শুরু হল আমার। অপরিচিত যান্ত্রিক শহরটা নরক মনে হচ্ছিল আমার কাছে। সারাদিন রুমে বসে থাকি। হঠাৎ একদিন খবর পেলাম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কিছু ছাত্র ভাই নাকি চিকা মারে। তবে ওরা দেয়ালে চিকা মারে।
আমার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে। স্বজাতি ভেবে ছুটে গেলাম। আমাকে আশাহত হতে হয়েছিল। ওরা আমার স্বজাতি না। ওরা চিকা মারার নাম করে দেয়ালে-দেয়ালে উচ্চস্তরের চাপাবাজি মূলক কথা লেখে।
"জীবন যেখানে দ্রোহের প্রতিশব্দ মৃত্যুই সেখানে শেষ কথা নয়, সবার জন্য শিক্ষা, সবার জন্য খাদ্য" টাইপ চাপা ছাড়ে ওরা বাংলাদেশে বসে।
সম্ভব না ভাই। আমি অনেকদিন আগে চিকা মেরে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। হয়ত আমি অন্যভাবে, অন্য একটা ইস্যু নিয়ে চিকা মেরে প্রতিবাদ জানিয়েছিলাম। কোন লাভ হয়নি।
আমি জানি তোমাদেরও লাভ হবেনা কোন। এটা বাংলাদেশ। এখানে চিকা মেরে প্রতিবাদ জানিয়ে কোন লাভ হয়না। বাঙ্গালী খেতে ভালবাসে। সেটা গদাম হোক বা টাকাই হোক।
এই দুটার যেকোন একটা যদি বঙ্গালিকে খাওয়াতে পার তবেই তারা কথা শুনবে; নতুবা নয়।
কাজেই আজ থেকে চিকা মারা বন্ধ ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।