আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

পরাহত যোদ্ধা

It is too much tough to lead a very simple life 1. ডান কাঁধে ৬৮ কেজি ওজনের একটি ব্যাগ নিয়ে পাথুরে রাস্তা দিয়ে প্রাণপ্রনে দৌড়াচ্ছেন মেজর পারভেজ। বুকের ধুক ধুক শব্দ যেন বজ্রের মত শোনাচ্ছে, ফুসফুস ফেটে যাবার উপক্রম তবুও বিশ্রাম নেয়ার কোন লক্ষন নেই, গতিও কমছে না। পা গুলো বিদ্রোহ করতে শুরু করেছে। কাঁধটা ব্যাথায় জমে গেছে। মাথায় রক্তের চাপ যেন মগজ বের করে আনতে চাচ্ছে।

না, কোন কিছুই তাকে তার লক্ষ্য থেকে দূরে সরাতে পারছেনা। মনের জোরের কাছে হার মেনে যাচ্ছে সকল প্রতিকূলতা। কিন্তু সব কিছুরই একটা শেষ আছে, এটাই যেন অনুভব করতে লাগলেন মেজর। কোন এক অদৃশ্য শক্তি যেন টেনে ধরছে পা দুটোকে, শরীরের উপর যেন পাহাড় ভর করে আছে। কমে যাচ্ছে চলার গতি।

এভাবে চলতে থাকলে খুব বেশিদূর এগোতে পারবেন না তিনি। একদিকে যুদ্ধক্লান্ত ভঙ্গুর দেহ, অন্যদিকে সংকল্প পালনের দৃঢ় মনভাব। একটা সময়, নিজের দেয়া কথা রাখার জন্যই এই বিপদের মাঝেও কিছুটা বিশ্রাম দরকার তা বুঝতে পারলেন। আরো কিছুদুর যাবার পর মোটা দেখে একটা গাছের আড়ালে গিয়ে থামলেন তিনি। খুব যত্নের সাথে, ধীরে ধীরে তিনি নামাতে শুরু করলেন ব্যাগটি।

মেজর সম্পূর্ণ সচেতন - যেন একটুও চাপ না লাগে, ব্যাগের ভিতরের যা আছে তা যেন আঘাতপ্রাপ্ত না হয়। নিজের কাছে এখন সবচেয়ে মূল্যবান সেটা। জান দিতেও প্রস্তুত আছেন তিনি ব্যাগটি প্রকৃত মালিকের কাছে পৌঁছে দেবার জন্য। তিনি যে কথা দিয়েছেন, শেষ বিন্দু রক্ত দিয়ে হলেও তিনি কথা রাখবেন - রাখতে তাকে হবেই। ব্যাগটি কিছুটা গোলাকার, ৬ ফুট লম্বা।

দেখতে একটা বড়সড় কোলবালিশের মত লাগে। মিশমিশে কালো। মাটিতে রেখে মেজর বসলেন গাছে হেলান দিয়ে। বিষন্ন মনে একদৃষ্টে তাকিয়ে আছেন ব্যাগটির দিকে। কালো রঙের সাথে সাথে তার মনের ভিতরটাও যেন নিমিষেই অন্ধকারাচ্ছন্ন হয়ে উঠল।

চোখের সামনের দৃশ্যপট সহসাই ঝাপসা হতে শুরু করল। মনের পর্দায় ভেসে উঠল সেদিন রাতের ছবি। 2. মাত্র ৩ মাস আগের কথা। মেজর, তার প্রাণপ্রিয় বন্ধু মেজর মেজবাহ ও বন্ধুবধূ সুবর্না। সুন্দর এক নিস্তব্ধ রাত।

ডাইনিং এ বসে রাতের খাবার খাচ্ছে তিন জন। যদিও প্রতিবার কোন স্পেশাল অপারেশান এ যাবার আগের রাতের এটা স্বাভাবিক একটা চিত্র। কিন্তু আজ সবার মুখ কেমন যেন ভার হয়ে আছে। অজানা কোন শক্তি যেন তাদের স্তব্ধ করে দিয়েছে । তবুও মেজর আর মেজবাহ দুই জনই মলিন হাসি ধরে রেখছেন ঠোঁটের কোণে - পরিবেশকে কিছুটা স্বাভাবিক করার ছোট্ট একটা প্রয়াস।

“আজকের বিরিয়ানিটা কিন্তু অনেক ভাল হয়েছে ভাবি, অনেকদিন এমনটা খাইনি, মনে পরে আপনাদের বিয়ের পর প্রথম যখন আপনাকে দেখতে আসলাম? একদম সেদিনের মতই হয়েছে আজকের রান্নাটা। এক কথায় অসাধারণ। “ – পরিবেশটাকে কিছুটা হাল্কা করার জন্যই হয়তো বলে উঠলেন মেজর পারভেজ। কিন্তু ফলটা হল একদম উলটো, ওদের দুইজনকে একেবারে হতবাক করে দিয়ে অঝোরে কান্নায় ঢলে পড়ল সুবর্না। প্রতিমাসম স্ত্রীকে বুকে টেনে নিলেন মেজবাহ, সান্ত্বনা দিচ্ছেন - “আরে বোকা মেয়ে কান্নার কি আছে? আমি কি চিরদিনের জন্য চলে যাচ্ছি নাকি? অপারেশান টা শেষ করেই দেখবে তোমার কাছে ফিরে এসে এভাবেই জড়িয়ে ধরব তোমাকে, তুমি দেখবে ঠিক কথা রাখব আমি।

খুব দ্রুতই দেখা হবে আবার আমাদের। “ এইবার অপারেশান টা যে খুব গুরুত্বপুর্ণ, গোপনীয় এবং সেই সাথে খুবই ঝুকিপুর্ন তা সুবর্না ঠিকই টের পেয়ে গেছে ইতিমধ্য। প্রাণহানির আশঙ্কাও যে আছে তাও বুঝতে বাকি নেই তার, মেজবাহ আর পারভেজ এর আলাপ আলোচনা, তাদের গম্ভির মুখ দেখে ঠিকই আন্দাজ করে নিয়েছে সে। স্বামীর এই মন ভোলানো স্বান্তনায় ভুললনা তার মন। তবুও “হুম” শব্দটি অতিকষ্টে মুখ থেকে বের করে নিজেকে মেজবাহ এর শক্ত আলিঙ্গনের মাঝ থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে সোজা হয়ে বসল।

অনেকটা প্রানহীনভাবে খাবার পর্ব শেষ হল। আরো কিছুক্ষণ সময় কাটানোর পর, বিদায় চাইলেন মেজর পারভেজ। আগামিকাল খুব ভোরে রওনা দিতে হবে তাদের। নিজের জিনিসপত্র গোছগাছ করতে হবে। মেজবাহ তাকে দরজা পর্যন্ত এগিয়ে দিয়ে গেল।

তখনো ভিতরে নিশ্চুপ বসে ছিল সুবর্না। দরজার বাইরে দাড়িয়ে একটা গভীর নিঃশ্বাস ছাড়ল মেজর। তারপর দৃঢ় পদক্ষেপে হাটা শুরু করল। বাড়ির আঙ্গিনা ছেড়ে কেবলই রাস্তায় নামতে যাবে ওই সময় পিছন থেকে ভেসে উঠল একটি কোমল কন্ঠস্বর। 3. “মেজর মেজর” বলে ডাক দিয়ে যখন দেখল যে মেজর শুনতে পেয়েছে তখনই দৌড়াতে শুরু করেছে সুবর্না।

- পারভেজ, তোমাকে আমি এখনও আগের মতই ভালবাসি। বিশ্বাস কর, বিশ্বাস কর আমার কথা। এতটুকুও চিড় ধরেনি আমার ভালোবাসায়। ধরতে দেইনি। মনের এক গোপন কুঠুরিতে সযতনে পুষে রেখেছি এতটা দিন ধরে।

- কি বলছ এসব? তুমি এখন একজনের স্ত্রী, তাও আবার আমারই বন্ধুর। কত সুন্দর সাজান গোছানো সুখের সংসার চলছে তোমাদের। এইসব কথা এখন তোমার মুখে শোভা পায় না। আর আমারও কোন অধিকার নেই এই কথা শোনার। তুমি যাও ঘরে যাও, মেজবাহ বসে আছে।

- না বাধা দিও না তুমি আমাকে, বলতে দাও, আজ আমাকে মন খুলে বলতে দাও। আর পারব না আমি চাপা কষ্টের আগুনে পুড়তে। তুমি সেই, যাকে আমি আমার ভালবাসার সবটুকু স্থানের রাজত্ব দিয়েছি। তোমার সেই দুষ্টু স্পর্শানুভূতি আজও অনুভব করে আমার শরীর-মন। বাবার অনিচ্ছায় বিয়ে করে আলাদা হয়ে গিয়েছিলাম দুজনে দুজনার কাছ থেকে।

ভাগ্য আবার একত্র করেছে আমাদের। কিন্তু সে যেন বিধাতার এক নির্মম ঠাট্টা। বউ হয়ে তোমারি বন্ধুর ঘরে উঠলাম। প্রথম যেদিন দেখা হল, তুমি যতই কঠিন ভেবে থাক নিজেকে, তোমার সেই দৃষ্টি তুমি আড়াল রাখতে পারনি। আমাকে যতটুকু ভালবাস, বন্ধুকেও কম নয়।

তাই এতদিন, বুকে পাথর বেঁধে অভিনয় করে যেতে হয়েছে মেজবাহ এর সামনে। - সুবর্না, সুবর্না, থামো, যাও ভিতরে যাও। বিশ্রাম নাও। - না যাব না, আমাকে আমার কথা শেষ করতে দাও, প্লিজ। - কি, কি হয়েছি কি আজ তোমার, এমন উদ্ভট আচরণ কেন করছ? - কি হয়নি বল (অনেকটা তিক্ত শোনাল), আমার প্রেমিক, স্বামি, দুইজন একসাথে যাচ্ছে মৃত্যুর সাথে মোলাকাত করতে।

আর আমি বসে বসে বাসায় সাজুগুজু করব? তোমাকে হারিয়ে যখন মেজবাহ কে নিয়ে সুখের মুখ দেখতে শুরু করেছি তখন আবার তোমার সাথে দেখা। কষ্ট হলেও, প্রেমিক পুরুষ আর স্বামী দুইজনই কাছাকাছি আছে দেখে আনন্দ যে হয় নি তা নয়। শোন, থামিও না আমায়, বলতে দাও। আমার কাছে তুমি যেমন একজন প্রেমিকের সম্পুর্ন স্থান পেয়েছ, তেমনি মেজবাহও জুড়ে আছে একজন স্বামির জন্য যতটুকু স্থান দরকার তার সবটুকুতে। আমার কাছে তোমাদের দুই জনের গুরুত্বই সমান।

দুইজনই আমার প্রানের অস্তিত্ব জুড়ে আছ। আজ দুজনেই যাচ্ছ মরণের সাথে পাঞ্জা লড়তে। আমি কিভাবে শান্ত থাকি বল। - আরে বাবা, এর আগেওতো আমরা একসাথে কত অপারেশান করেছি। সফল হয়ে ফিরেও এসেছি।

তুমি চিন্তা করনা। আমরা ঠিক ঠিক ফিরে আসব, তোমার মেজবাহ কে তোমার কাছে ফিরে আসবে একজন বীরযোদ্ধা হয়েই। অনেক দেরী হয়ে গেছে, তুমি যাও। ও সন্দেহ করতে পারে। - শোন পারভেজ, তুমি যতই আমাকে সান্ত্বনা দাও, আমাকে তুমি বোঝাতে পারবেনা, শুধু আমাকে কথা দাও, যে নিজের খেয়াল রাখবে, মেজবাহ এর খেয়াল রাখবে।

ও কোন বিপদে পরলে তুমি ওকে প্রানপ্রনে সাহায্য করবে। বল, তুমি ওকে ঠিক আমার বুকে ফিরিয়ে এনে দিবে। সাথে তুমিও অক্ষত থাকবে। বল পারভেজ, কথা দাও। - আমি কথা দিচ্ছি সুবর্না, তোমার মেজবাহ কে আমি ঠিকই তোমার কাছে নিরাপদেই ফিরিয়ে আনব।

- আর তুমি? - আমি যেমন ছিলাম তেমনই থাকব, মনের গোপন কুঠুরিইটা বা খারাপ কি? আর একটাও কথা নয়, আল্লাহর দোহাই, তুমি ভিতরে যাও। না না আর একটা শব্দও না। যাও। - আচ্ছা, যাচ্ছি। ভালথেকো প্রিয়।

খোদা হাফেয। বাধ্য মেয়ের মত ধীর পায়ে আস্তে আস্তে বাড়ির দিকে এগিয়ে গেল সুবর্না। ভিতরে ঢোকার আগে একবার পিছু ফিরে দৃষ্টি বিনিময় করল মেজরের সাথে। তারপর ভিতরে ঢুকে গেল। আর ওপর তলায় না যাওয়া পর্যন্ত ঠায় দাড়িয়ে রইলেন মেজর পারভেজ।

চোখের কোণটা কেমন যেন চিটচিট করছে তার। 4. হঠাৎ অনেকগুলো পায়ের আওয়াজ আর দূর থেকে ভেসে আসা কন্ঠস্বরে মেজরের মায়া ভেঙ্গে গেল। চোখের সামনে নিথর পরে আছে মেজর মেজবাহ এর লাশের ব্যাগ। দ্রুত কার্যকর হয়ে উঠল তার ব্রেইন। ঝটপট শত্রুদের অবস্থান দেখে লাশটাকে টেনে কাছের ঝোপের আড়ালে নিয়ে গেল আর উঁকি দিয়ে দেখতে লাগল প্রতিপক্ষের অবস্থান।

অপারেশান টা প্লান মাফিকই আগাচ্ছিল। নিজেদের দলের একজনের বিশ্বাসঘাতকতায় মারা যায় টীমের সবাই। যার যার মাঝে মেজবাহও ছিল। ভাগ্যের কি নির্মম পরিহাস। পারভেজের দায়িত্ব ছিল তখন অন্যদিকে।

পরে যখন সে শুনতে পায় যে মেজবাহ আর নেই, তার মাথায় যেন আকাশ ভেঙ্গে পরে। ভাল হত, যদি সেও মারা যেত ওর সাথে। কি বলবে ও সুবর্না কে? কি জবাব দিবে সে? বন্ধু যখন মৃত্যুর সাথে লড়ছে তখন আমি নিরাপদ জায়গায় ছিলাম, ওকে বিপদে রেখে? আমার উপরইতো ওর নিরাপত্তার দায়িত্ব দিয়েছিল সুবর্না। যখন ওর লাশ নিয়ে দুর্গে শত্রুরা মেতে উঠেছে জয়ের উল্লাসে, আর আমি কাপুরুষের মত শত্রু দুর্গের বাইরে লুকিয়ে আছে? না না এই অবস্থায় কোন মতেই সে পারবেনা সুবর্নার সামনে গিয়ে দাড়াতে। মনে মনে সিদ্ধান্ত নিয়ে নিয়েছে সে।

যে করেই হোক, মেজবাহ কে সে সাথে নিয়েই ফিরবে। জীবত, মৃতের মাঝে পার্থক্য নেই। সে তার বন্ধু। কোনমতেই শকুনের হাতে অত্যাচারিত হতে দিবে না। আজরাতেই দুর্গে প্রবেশ করবে সে।

প্রায় ২ ঘন্টা ধরে প্ল্যান ঠিক করে নেয় পারভেজ। তারপর একে একে শত্রুর বেড়াজাল ছিন্ন করে এগিয়ে গেছে সে। কোন বাধা তাকে আটকাতে পারেনি। তার মাথায় শুধু একটাই চিন্তা, ভাইকে নিয়ে যেতে হবে ভাবীর কাছে। প্রিয়াকে দিতে হবে নিকৃষ্টতম উপহার।

যেভাবেই হোক, অসম্ভবকে তার সম্ভব করতেই হবে। ঘড়ির কাটায় কাটায় হিসেব করে পরিকল্পিত পদক্ষেপে সে একসময় পৌঁছে যায় যে ঘরটাতে মেজবাহ এর লাশ রাখা হয়েছে। এ পর্যন্ত আসতে তাকে অবশ্য অনেক কাঠখড় পোড়াতে হয়েছে। তার উপস্থিতি অনেকেই টের পেয়ে গেছে, হাতে সময় খুব কম। এই কম সময়েই খুব দ্রুততার সাথে মেজবাহ এর লাশ সনাক্ত করে, তার লাশঢাকা ব্যাগ সহ কাঁধে নিয়ে একদৌড়ে দুর্গ পার হয়ে পাথুরে প্রান্তর লক্ষ্য করে ছোটা শুরু।

যে করেই হোক নিরাপদ স্থানে, নিজেদের ঘাটিতে পৌছুতে হবে। দৌড়াতে দৌড়াতে ক্লান্ত মেজর এক গাছ দেখে তার নিচেই সাময়িক বিশ্রাম নিতে গিয়ে শত্রু পক্ষকে নিজের অনেক কাছা কাছি চলে আসার সুযোগ করে দিয়েছে। নিজের উপরে জেদ হচ্ছে তার এখন। ঝোপের আড়ালে মুখে হাত দিয়ে চুপ করে বসে আসে মেজর, আর তার পাশেই শুয়ে আছে মেজর মেজবাহ, তার বন্ধু। 5. অনেকক্ষণ ধরে খোঁজার পর শত্রুপক্ষ কয়েকভাগে বিভক্ত হয়ে খুজতে লাগল তাকে।

যখন দলগুলো একটু সামনে চলে গেল, হেঁচকা টানে মেজবাহকে আবার কাঁধে নিয়ে উলটো দিকে দৌড় দিলেন পারভেজ। তাদের চোখ ফাকি দিয়ে অনেকটা যেতে পারলেও দুর্ভাগ্য যেন তাকে আজ বসে পেয়েছে। ছোট্ট একটা পাথরে হোঁচট খেয়ে আছড়ে পড়লেন মাটিতে। কিছুটা দুরত্ব থাকলেও তার পড়ে যাবার শব্দ কান এড়িয়ে যায়নি মৃত্যু যমদের। সচেতন হয়ে গেছে সবাই।

শকুনির দৃষ্টি নিয়ে সবাই তাকিয়ে আছে। তার উপর ভোরের আলো সবে ফুটতে শুরু করেছে। সবচেয়ে ভুল কাজটা করলেন মেজর। কোনমতে টাল সামলে নিয়ে ফের মেজবাহ কে কাঁধে নিয়ে আবার উঠে দৌড়াতে শুরু করলেন তিনি। চিৎকার করে গর্জে উঠল কতিপর সৈন্য।

গুলির আওয়াজ পাওয়া গেল, পিঠের ডান পাশটায় হঠাৎ কি যেন এসে বিধল, একরাশ জ্বালা নিয়ে পাজরের ভিতর আটকে রইল। চলার গতি থেমে গেল, তারপরেই পর পর কয়েকটা গুলি মেজরের সুপ্রশস্ত পিঠটাকে নিমিষেই মশারীর জালের মত ঝাঁঝরা করে দিল। হাত থেকে পড়ে গেল মেজবাহ। নিজের এই অসহায় অবস্থাতেই জল বের হয়ে এল মেজরের চোখ দিয়ে, ব্যাথায় নয়, মৃত্যুভয়ে নয় - বন্ধুর পড়ে যাওয়া দেখে। লেগেছে খুব নিশ্চয়ই।

ধীরে ধীরে দৃষ্টি ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে ওর। মেজবাহ কথা দিয়েছিল বারি ফিরে গিয়ে সুবর্না কে নিজের বুকে টেনে নিবে, এখন সুবর্না নিজেই পারবে কিনা মৃত স্বামির মাথাকে নিজের বুকে নিয়ে কান্নায় ভেসে যেতে? কথা দিয়েছিল নিরাপদে ফিরবে সেও। জীবনে প্রথম যে কথা দিয়ে কথা রাখতে ব্যার্থ হচ্ছে। নিশ্বাস বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ওর। মনে পড়ছে স্কুল জীবনের সেই সব দিন গুলোর কথা।

ঘন্টার পর ঘণ্টা হাতের উপর হাত রেখে বসে থাকত ও আর সুবর্না। সেই চাঁদ মুখখানি আর কোনদিন দেখা হবেনা। বলা হবেনা, সে তার স্বামীর লাশ অন্তত তার কাছে পৌছে দেয়ার চেষ্টা করেছিল। সে কি তাকে ভুল বুঝবে? মনের মত করে কোন দিন বলাও হয় নাই, যে মেজর তাকে অনেক ভালবাসে। হটাৎ একজন এসে লাথি মেরে উল্টে দিল তাকে।

ঘোলা চোখে কিছুই দেখতে পারলনা সে। শুধু কপালের উপর ছোট্ট গোলাকার কিছুর ঠান্ডা স্পর্শ অনুভব করল। বিকট এক শব্দের সাথে অন্ধকার হয়ে গেল মেজর পারভেজ এর দুনিয়া। ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।