আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

[ক্ষুদ্র ভাবনা সিরিজ: ২]- হলমার্ক কেলেংকারি এবং মাইনুল এইচ সিরাজি ভাইর হতাশা

জল কে চললো কার ঝিয়ারী মাইনুল এইচ সিরাজি ভাই, আলপিন,রস+আলোর লেখক। ওনার আর আমার বই এর প্রকাশকও একই হাউস, নানা কারনেই তিনি আমার কাছের একজন বড় ভাই। এই দেশ এবং মানুষের জন্য তার ভালবাসার অন্ত নেই, সে তিনিই যখন আজ স্ট্যাটাস দিলেন- '...... এই দেশ আমার দেশ নয়। আমি এই দেশের নাগরিকত্ব বাতিল করতে চাই। আমাকে ক্ষমা করবেন।

' তখন আমি শঙ্কিত হয়ে উঠি! কেন এই ভালো মানুষটি দেশ নিয়ে এতখানি হতাশ? বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড়ো ব্যাংক লুটের ঘটনা হলমার্ক কেলেংকারির কথা। এক দুই কোটি নয় ২৬ শ কোটি টাকা একটা কোম্পানি হাতিয়ে নিয়েছে অস্ত্র গোলাবারুদ দেখিয়ে নয়, নয় কোন অবৈধ পন্থায়। একেবারে সদর দরজা দিয়ে ব্যাংকের আইন কানুন মেনেই। কি বুদ্ধি বাঙালির! কি সৃজনশীলতা একবার ভাবুন! সোনালি ব্যাংকের প্রায় সবাই জানত অবাধ লুটপাটের কাহিনী। কিন্তু সবগুলো শীর্ষ কর্মকর্তা চোখ বন্ধ করে রাখছিলেন ছিলেন চুপচাপ।

এই সময় এক মধ্যসারির কর্মকর্তা জিনি মইনুল হোসেন সিরাজি ভাইএর বড় ভাই জি এম সিরাজি তিনি কৌতূহলী হয়ে এই শাখাগুলোতে অডিটের উদ্যোগ নিলেন। কিন্তু তিনি অডিটের জন্য অফিসে অনুমতি চাইতে গিয়ে খেলেন ধমক। বলা হলো, ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টরের ইন্সট্রাকশন আছে যে তার অনুমতি ছাড়া কোনো শাখায় অডিটে যেতে পারবে না কেউ। কিছুদিন পর ডিএমডি ছুটিতে গেলে ডিএমডির অনুপস্থিতির সুযোগে তিনি ইস্যু করিয়ে ফেললেন অডিট নোট। খবর বেরিয়ে গেল।

বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচাইতে বড় ব্যাংক লুটের ইতিহাস- হলমার্ক কেলেংকারি্র ঘৃণ্য ইতিহাস। একদিকে প্রবল প্রভাবশালি ডিএমডি আর তাঁদের দুর্নীতির সহজোগিরা, আরেকদিকে কয়েকজন সাধারণ ব্যাংক কর্মকর্তা। ধমকে অনুরোধে চাপে অস্থির তারা। ব্যাংকের শাখায় গেলে তাঁরা অডিট করতে দিতে চায় না। তবু তিনি অডিট করতে বদ্ধ পরিকর।

অডিটের আগের রাতে আর দিনে জিএম সিরাজী সহ কয়েকজন কর্মকর্তাকে বদলি করে দেয়া হলো ঢাকার বাইরে। তাঁরা আবার কৌশল খাটালেন। পোস্ট ডেটে অডিট অর্ডার জারি করে দিলেন কেউ কিছু বুঝবার আগেই। অনেক ধমক, লোভ, ইঙ্গিতের বেড়াজাল উপেক্ষা করে ক্ষুদ্র ক্ষমতার অডিট টিম উদঘাটন করে বসল সেই কেলেঙ্ককারি । জিএম মাসরুরুল হুদা সিরাজী, যিনি সেই হলমার্ক কেলেঙ্কারি উদঘাটনে মূল ভূমিকা পালন করেছিলেন, মিডিয়া, ফেসবুক, ব্লগে তাঁর কর্মকাণ্ডের ভূয়সী প্রশংসা করা হয়েছে।

স্বাভাবিকভাবেই তাদের পরিবারও গর্বিত হয়েছে কিন্তু আজ আমার প্রিয় বড় একজন ভাই মাইনুল ভাইদের পরিবারের কাছে, সবকিছু ঝাপসা লাগছে। জিএম সিরাজীকে ১১টি মামলার প্রত্যেকটিতে আসামী করেছে দুদক। আজ তাদের পরিবার আক্ষরিক অর্থেই ডুবে যেতে বসেছে। তাদের করা গর্বগুলো উলটো ছোবল মারছে তাদের। http://www.facebook.com/mohiuddin.kawsar.1 ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.