আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

গ্রিক পুরাণের দেব-দেবী : বিচিত্র ,বীরত্ব, প্রেম-বিশ্বাস-ত্যাগে পরিপূর্ণ জীবনকাহিনী ৩

গ্রিক পুরাণের দেব-দেবী : বিচিত্র ,বীরত্ব, প্রেম-বিশ্বাস-ত্যাগে পরিপূর্ণ জীবনকাহিনী ১ দেখতে : Click This Link গ্রিক পুরাণের দেব-দেবী : বিচিত্র ,বীরত্ব, প্রেম-বিশ্বাস-ত্যাগে পরিপূর্ণ জীবনকাহিনী ২ দেখতে : Click This Link এবার জানব গ্রিক পুরাণের অন্যতম সুন্দর দেবতা নার্সিসাস সর্ম্পকে নার্সিসাসের পিতা ছিলেন নদীদেবতা সেফিসাস। মাতা জলপরী লেরিওপি। নার্সিসাস দেখতে এত সুন্দর ছিল যে, তা নিয়ে মায়ের মনে আনন্দ ও উৎকণ্ঠার অন্ত ছিল না। সবসময় ভয় নার্সিসাসের এত রূপ, না জানি কী হয়! তাই একদিন লেরিওপি ভবিষ্যদ্বক্তা টাইরেসিয়াসের কাছে গেলেন পুত্রের ভবিষ্যৎ জানার জন্য। নার্সিসাসের মা জিজ্ঞাসা করলেন নার্সিসাসের পরমায়ু কতখানি? অন্ধ ভবিষ্যদ্বক্তা টাইরেসিয়াস বললেন, যত দিন না সে শুধু নিজেকে ভালোবাসে।

এ কথার অর্থ ঠিক বুঝতে পারলেন না নার্সিসাসের মা। টাইরেসিয়াস বললেন, সময়ই বলে দেবে সবকিছু। নার্সিসাস বড় হতে থাকে। বাড়তে তাকে তার সৌন্দর্যও। সবাই তার সৌন্দর্যের প্রশংসা করে।

নিজের রূপের প্রশংসা শুনতে শুনতে অহঙ্কার জাগে নার্সিসাসের মনে। সে অহঙ্কার বড় অদ্ভুত। অহঙ্কারের ফলে সে শুধু নর নয়, নারীদেরও তার তুলনায় নিকৃষ্ট ভাবতে শুরু করে দেয়। ধীরে ধীরে তার মধ্যে জাগতে থাকে আত্মরতি। অহঙ্কারের কারণে তার সঙ্গী-বন্ধুরাও তাকে পরিহার করে চলতে থাকে।

নার্সিসাস বেড়ানোর সময় কাউকে সঙ্গে নিত না। একদিন সে যখন বনের মধ্যে একাকী ঘুরে বেড়াচ্ছিল, তখন এক বনপরী তাকে দেখার সঙ্গে সঙ্গে একনজরেই ভালোবেসে ফেলে। বনপরীর নাম ছিল ইকো। দৈব অভিশাপে ইকো অন্যের শেষ কথার প্রতিধ্বনি করা ছাড়া আর কোনো কথা বলতে পারতেন না। ইকোকে এ অভিশাপ দিয়েছিলেন দেবরানী জিউসপত্নী হেরা।

জিউস ছিলেন প্রণয়কলা বিশারদ। বনপরীদের ব্যাপারে তার আলাদা আসক্তি ছিল। বনপরীদের সঙ্গে জিউসের মিলনে বড় সহায় ছিল ইকো। ইকো ছিল অতিশয় বাচাল। সুযোগ পেলেই নানা ছলছুতোয় গল্পগুজব করে হেরাকে অন্যমনস্ক করে রাখত আর সেই সুযোগে জিউস অন্য বনপরীদের সঙ্গে অবাধে প্রেমচর্চা করতেন।

শেষ পর্যন্ত ব্যাপারটা হেরার কাছে ধরা পড়ে যায়। ক্রোধান্বিত হেরা বাচাল ইকোকে এই বলে অভিশাপ দেন যে, ইকোকে কেউ কোনো কথা বললে সে শুধু সেই কথার প্রতিধ্বনি ফিরিয়ে দেবে। বাকশক্তিহীন ইকো তাই নার্সিসাসকে আলিঙ্গন করে তার বোবা প্রেমাবেগ প্রকাশ করতে চাইল; কিন্তু ইকোর আলিঙ্গনের সঙ্গে সঙ্গে আত্মপ্রেমে মগ্ন নার্সিসাস অত্যন্ত রূঢ়ভাবে তাকে দূরে ঠেলে দিল। অপমানিত ও মর্মাহত ইকো লজ্জায় ঘন ঝোপের আড়ালে গিয়ে মুখ লুকালো। তারপর নীরবে তার অভিমান ব্যক্ত করল প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী আফ্রোদিতির কাছে।

আফ্রোদিতি সাড়া দিলেন ইকোর আহত আহ্বানে। অতিশয় রুষ্ট হয়ে তিনি নার্সিসাসকে অভিশাপ দিলেন_ নারীর প্রেম প্রত্যাখ্যান করায় আত্মঘাতী পরিণতি লাভ করবে তার আত্মরতি। আফ্রোদিতির অভিশাপে নার্সিসাস এরপর পথ চলতে চলতে তৃষ্ণার্ত হয়ে অকস্মাৎ এক জলাশয়ের ধারে গিয়ে উপস্থিত হলো। জলের জন্য হাত বাড়াতে গিয়ে সে দেখতে পেল নিজের অনিন্দ্যসুন্দর মুখচ্ছবি। শান্ত জলাশয়ের ধার ঘেঁষে নতজানু হয়ে মুগ্ধ নার্সিসাস স্থির দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল জলে প্রতিবিম্বিত নিজের দিকে।

ভুলে প্রচণ্ড আবেগে যখনই সে প্রতিবিম্বকে আলিঙ্গন করতে যায় তখনই জলে হাত পড়ে তা ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। প্রতিবিম্ব স্থির হওয়া পর্যন্ত প্রতীক্ষায় থাকে নার্সিসাস। আবার সে প্রতিবিম্বের দিকে হাত বাড়ায়। এভাবে চলতে থাকে দিনের পর দিন। ক্ষুধা-তৃষ্ণা সব ভুলে সেখানেই থেকে গেল নার্সিসাস।

এক মুহূর্তের জন্যও কোথাও যেতে পারল না। এভাবে বসে থাকতে থাকতে শান্ত জলাশয়ের ধারে নিজের প্রতিবিম্বের দিকে তাকিয়ে একদিন নীরব-নির্জন মৃত্যুবরণ করল আত্মমুগ্ধ নার্সিসাস। তার মৃত্যুতে চোখের জল ফেলার কেউ ছিল না। ইকোর ব্যর্থ কণ্ঠ শান্ত বনস্থলীতে বিচিত্রভাবে প্রতিধ্বনিত হয়ে হাহাকার সৃষ্টি করল শুধু। তারপর একদিন নার্সিসাসের দেহ মাটির সঙ্গে মিশে গেল।

আর সেই জায়গা থেকে উদ্যত হলো একটি সুন্দর ফুল গাছ। দেবী আফ্রোদিতি সেই ফুলের নাম দিলেন নার্সিসাস। যদিও খুব অহঙ্কারী কাউকে এখনো ইউরোপে নার্সিসাস বলে গালি দেয়া হয়। আজ এ পর্যন্ত , ইচ্ছে আছে আর ও দেবতা-দেবীদের গল্প শোনানোর । ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।