আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

গ্রিক পুরাণের দেব-দেবী : বিচিত্র ,বীরত্ব, প্রেম-বিশ্বাস-ত্যাগে পরিপূর্ণ জীবনকাহিনী ২

গ্রিক পুরাণের দেব-দেবী : বিচিত্র ,বীরত্ব, প্রেম-বিশ্বাস-ত্যাগে পরিপূর্ণ জীবনকাহিনী ১ দেখতে : Click This Link এবার জানব গ্রিক পুরাণে প্রেম ও সৌন্দর্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী আফ্রোদিতি সর্ম্পকে : আফ্রোদিতি গ্রিক পুরাণের প্রেম ও সৌন্দর্যের অধিষ্ঠাত্রী দেবী, চিরকালের রূপের রানী। সৌন্দর্যের ব্যঞ্জনায়, রোমান্সের মাদকতায় চরিত্র হিসেবে আফ্রোদিতি এখনও অমিলন। রোমান্সের হাটে আফ্রোদিতি এখনও সর্বাধিক উচ্চারিত নাম। রোমক পুরাণে আফ্রোদিতির নাম ভেনাস। গ্রিক ভাষায়, 'আফ্রোস' শব্দের অর্থ হলো সমুদ্রফেন আর আফ্রোদিতি হলো ফেনোদ্ভবা।

মাতার অনুরোধে ক্রনাস পিতা ইউরেনাসকে নির্বীর্য করে দিলে ইউরেনাসের কর্তিত অণ্ড সিথেরার সমুদ্রে পতিত হয়। মুহূর্তের মধ্যে একটা উন্মত্ত আবেগে সমুদ্র চঞ্চল আর মাতাল হয়ে ওঠে। তরঙ্গে তরঙ্গে ফেটে পড়তে থাকে সমুদ্রের উচ্ছ্বসিত ফেনা। ইউরেনাসের কর্তিত অণ্ড আবরিত হয় সেই ফেনপুঞ্জে। অকস্মাৎ সেই রক্ত ফেনপুঞ্জের মধ্য থেকে আবির্ভূত হয় শতদলের মতো বিস্তৃত-বিচিত্র বর্ণশোভিত একটি ঝিনুক।

সেই ঝিনুকের ওপর দাঁড়িয়ে নগ্নকান্তি এক নারী_ জন্মমুহূর্তেই পূর্ণবিকশিতা, স্ফুটযৌবনা। তিনিই আফ্রোদিতি। রূপমুগ্ধ পৃথিবীর চোখের সম্মুখ দিয়ে বায়ুদেবতা জেফাইরাস মৃদুমন্দ বায়ুপ্রবাহ দিয়ে মাঝ সমুদ্র থেকে ঝিনুকটিকে নিয়ে এলেন সাইপ্রাসের তটে। সময়ের দেবতারা আফ্রোদিতিকে অভ্যর্থনা জানাল। দেবনারীরা তার নগ্নতা আবৃত করল বিচিত্র ও মনোহর পোশাকে_ যে পোশাক নির্ধারিত শুধু স্বর্গের অমর দেবীদের জন্য।

তারপর তারা তাকে নিয়ে চললো দেবভূমি অলিম্পাসে। দেবতারা তাকে বরণ করলেন প্রেম ও সৌন্দর্যের দেবী হিসেবে। অলিম্পাসের সব দেবতা আফ্রোদিতিকে পাওয়ার জন্য ব্যাকুল হয়ে উঠলেন। কিন্তু কী এক অজ্ঞাত কারণে দেবরাজ জিউস রূপের রানী আফ্রোদিতির বিয়ে দেন খঞ্জ ও কদাকার চেহারার অধিকারী দেব কারিগর ও অগি্ন দেবতা হেফেস্টাসের সঙ্গে। প্রেমের দেবী আফ্রোদিতির দায়িত্ব ছিল স্বর্গের দেবদেবী এবং সে সঙ্গে মর্ত্যের মানব-মানবীর মনে প্রেমের বীজ বপন করা।

প্রেমিক-প্রেমিকার বিয়ে দেওয়ারও দায়িত্ব ছিল তার। অন্যের মনে প্রেম সঞ্চারের দায়িত্ব থাকলেও আফ্রোদিতির নিজেরই বহু প্রেমকাহিনী রয়েছে। তার প্রেমাস্পদদের মধ্যে দেবতা যেমন আছে তেমনি মানুষও আছে। গ্রিসের অনেক অঞ্চলে আফ্রোদিতি গৃহদেবী হিসেবেও পূজিত হতেন; কিন্তু তার নিজের ঘর সুখের ছিল না। হেফেস্টাসের সঙ্গে তার বনিবনা হতো না।

হেফেস্টাসকে ফাঁকি দিয়ে তিনি অন্য দেবতার সঙ্গে মিলিত হতেন। রণদেবতা অ্যারেস এবং বার্তাবাহী দেবতা হার্মিসের সঙ্গে আফ্রোদিতির সুগভীর প্রণয় সম্পর্ক ছিল। হেফেস্টাস একবার আলিঙ্গনাবদ্ধ অ্যারেস ও আফ্রোদিতিকে লোহার জালে আটকে ফেলে দেবসভায় উপস্থিত করেছিলেন। দু'জনের কাণ্ড দেখে দেবতারা হাসাহাসি করেন। বিচার করেননি।

কামদেবতা এরস বা কিউপিড আফ্রোদিতির সন্তান। কিউপিড বড় খেয়ালি দেবতা। তার দেহটি নগ্ন। ঘাড়ের দু'ধারে দুটি পাখা। হাতে তীর-ধনুক।

তূণে অনেকগুলো তীর। কিছু তীর সোনার। কিছু সিসার। সোনার তীর নিক্ষেপ করে তিনি মানুষের অন্তরে প্রেমবোধকে ত্বরান্বিত করেন। সিসার তীর নিক্ষেপে প্রেমচেতনা হয়ে পড়ে শ্লথ ও মন্দগতি।

কিউপিডকে এই তীর-ধনুক দিয়েছিলেন আফ্রোদিতি নিজেই। একদিন আফ্রোদিতি খেলা করছিলেন কিউপিডের সঙ্গে। অকস্মাৎ একটি সোনার তীর বিঁধে যায় আফ্রোদিতির বুকে। নিচে মর্ত্যভূমিতে পরম রূপবান অ্যাডোনিস শিকারির বেশে ঘুরে বেড়াচ্ছিলেন। আফ্রোদিতির দৃষ্টি নিবদ্ধ হয় অ্যাডোনিসের প্রতি।

শুরু হয় সোনার তীরের প্রতিক্রিয়া। আফ্রোদিতি অ্যাডোনিসের প্রতি প্রবলভাবে আকৃষ্ট হন। অ্যাডোনিসের সঙ্গ লাভের জন্য তিনি স্বর্গলোক পরিত্যাগ করে অ্যাডোনিসের সঙ্গে মর্ত্যের বনে বনে ঘুরে বেড়াতে থাকেন। ব্যাপারটা ভালো লাগেনি আফ্রোদিতির অপর প্রণয়ী রণদেবতা অ্যারেসের। ঈর্ষাকাতর অ্যারেস একদিন বুনো শূকরের বেশে অ্যাডোনিসকে আক্রমণ করে হত্যা করেন।

ক্ষতবিক্ষত অ্যাডোনিসের দেহনিঃসৃত রক্ত মাটিতে পড়লে সেখান থেকে জন্ম নেয় গোলাপ ফুল এবং প্রেমাস্পদ অ্যাডোনিসের শোকে আফ্রোদিতির অশ্রু মাটিতে পড়লে সেখানে জন্মায় অ্যানিমনি নামের তারকাসদৃশ এক বন্য পুষ্প। অ্যাডোনিস মৃত্যুপুরীতে প্রবেশ করলে পাতালরানী পার্সিফোনও তাকে দেখে মুগ্ধ হন। অ্যাডোনিসকে পুনরুজ্জীবিত করে মর্ত্যে পাঠিয়ে দেওয়ার জন্য শোকাতুর আফ্রোদিতি আকুল আবেদন জানান পার্সিফোনের কাছে। পার্সিফোন রাজি হন না। তখন দেবরাজ জিউসে মধ্যস্থতায় ঠিক হয় বছরের ছয় মাস অ্যাডোনিস মৃত্যুপুরীতে থাকবে পার্সিফোনের সঙ্গে আর ছয় মাস মর্ত্যলোকে থাকবে ভেনাসের সঙ্গে।

'সর্বশ্রেষ্ঠ সুন্দরীর প্রাপ্য' বাক্যখোদিত সোনার আপেলটি প্যারিস হেরা ও আথিনীকে না দিয়ে আফ্রোদিতির হাতে প্রদান করায় তিনি প্যারিসকে হেলেন অপহরণে সাহায্য করেন এবং এর ফলেই শুরু হয় ট্রয় ও গ্রিসের বিখ্যাত যুদ্ধ। যুদ্ধে তিনি ট্রোজান পক্ষ অবলম্বন করেন। যুদ্ধক্ষেত্রে আহত প্যারিসকে উদ্ধার করতে গিয়ে তিনি গ্রিক বীর ডায়োমিডিসের অস্ত্রাঘাতে আহতও হন। প্রেমের দেবী হয়েও তিনি ঈর্ষাবশত পুত্রবধূ সাইকিকে নিদারুণ কষ্ট দিয়েছিলেন। আজ এ পর্যন্ত , ইচ্ছে আছে আর ও দেবতা-দেবীদের গল্প শোনানোর ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।