আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

একবিংশ শতাব্দীর ললনা

"মাসুদ পারভেজ মিঠু" দ্যা "পেক পেক পেক" বয়!!! সংবিধিবদ্ধ সতর্কীকরণঃ এই ব্লগের সম্পূর্ন লেখা সত্যি! আসলে আমরা মানুষ সুখি সময় খুব কম ই কাটাই। আমার মনে হয় যে আমরা বেশীর ভাগ সময় কষ্টে থাকি র বাকি সময় টা ভালো থাকার চেষ্টা করি অথবা অভিনয় করি। আমরা জেনে না জেনে অনেক খারাপ কাজ অথবা ভুল কাজ করে থাকি। ঠিক এরকম একটি ভুল আমি করেছিলাম। এখন আল্লাহর রহমতে এই ঝন্ত্রনা থেকে অনেকখানি দূরে।

আল্লাহ তোমাকে ধন্যবাদ। আমি আসলে ফেইসবুক পাগল এক মানুষ। নতুন বন্ধু জুটাতে অনেক পছন্দ করি। এই জিনিশ টা ই আমার জন্য কাল হয়ে দাড়িয়েছিল। আজ থেকে প্রায় মাস তিনেক আগে আমার কাছে একটা মেয়ে নিক এর ফ্রেন্ড রিকুয়েস্ট আসে।

ইউনিভারসিটির একজন বড় ভাই মিউচুয়াল ফ্রেন্ড ছিল বিধায় তাকে কনফার্ম করি। একদিন রাতের বেলা তাকে অনলাইনে পেয়ে নক করি। সেইদিন অনেক কথাবারর্তা হয়। এক পর্যায়ে ও আমার কাছে আমার মোবাইল নাম্বার চায়। আমি দেই।

সে ফোন দেয়। সেইদিন প্রায় ফজর এর আজান পর্যন্ত কথা হয়েছিল। সেইদিন এর পর থেকে প্রায় সময় ই যোগাযোগ হতো। এক সময় জানতে পারি যে ও আমার ইউনিভারসিটি তে এবং আমার সাবজ়েক্টেই পরে কিন্তু অন্য ক্যাম্পাসে। মনুষ্য জীবন তো, তাই দেখা যায় যে ওই অপরিচিতার সাথে সেধে পরিচিত হবার চেষ্টা করছি।

একটু আকটু হয়েছিলাম ও। ভালই দিনকাল যাচ্ছিল। কয়েকদিন আগে ওই মেয়েটা আমাকে বলে তার সাথে দেখা করার জন্য। আমিও অবশ্য ইচ্ছুক ছিলাম দেখা করতে। গত ৩০ জুলাই আমি তার সাথে দেখা করার জন্য উত্তরা যাই।

সারা সকাল ওর সাথে ঘুরে আড্ডা দিয়ে বিকেলে বাসায় আসি। ওর সাথে থাকাকালে ও আমার মোবাইল চেক করছিল, আমার আব্বুর ফোন নাম্বার নিচ্ছিলো। এই জিনিষ গুলো আমার ভাল লাগে নি। আবার আমি মুখ ফুটে কিছু বলতেও পারি নি। কিছু বললেই বলতো যে আমাকে কি ভালো বন্ধু মনে করো না? আসলেই, ওকে দেখে এবং ওর সাথে চলাফেরা করে একজন ভালো বন্ধু মনে হয়েছিল।

এবং আমি ওকে বলেছিলাম যে আমার ভালো বন্ধু হবে কি না। সে সায় দিয়েছিল। একটা ভালো বন্ধুর থেকে বেশি কিছু আমার মনে হয়নি। কারণ আমি বন্ধু জিনিসটাকে সবচাইতে বেশী মূল্য দেই। তো, যেইদিন ওর সাথে দেখা করি তার পরদিন রাতে আমি ওকে ফোন দেই।

কথা বলার এক পর্যায়ে ও আমাকে একটি প্রশ্ন করে যে আমি ওর জন্য কি কি করতে পারব। আমি উত্তরে বললাম যে একজন ভাল বন্ধু হিসেবে আমি তোমার জন্য সব কিছু করতে পারব। (এই উত্তরটাই আমার কাল হয়েছিল) আমি দেখলাম যে এই উত্তর শুনে ও অনেক খুশি। কিছুক্ষন পর আমাকে বলল যে আমি এখন দেখব যে তুমি আমার জন্য কি করতে পার। আমি বললাম যে তুমি বল কি করতে হবে।

আমাকে অবাক করে দিয়ে ও বলল যে আমাকে বিয়ে করতে হবে!! ওর এই কথা শুনে আমার মাথায় তো আকাশ যমিন সব ভেঙ্গে পরেছে। আমি বললাম যে “এইগুলা তুমি কি বলতেছ? মাথা ঠিক আছে তোমার?” ও বলল যে “আমি যা বলেছি বুঝে বলেছি। তুমি আমার কাছে ওয়াদা করেছিলে, এখন রক্ষা কর। ” আমি বললাম যে এইটা তো সম্ভব নয়। আমি তোমাকে বলেছি বন্ধু হিসেবে সব কিছু করব।

এখন তুমি এইগুলা কি বলতেছ? বিশ্বাস করেন, আমার বুকের পানি, কলিজার পানি সব শুকিয়ে গেছিল। তারপর আমি তাকে অনেক বুজালাম যে এইগুলা সম্ভব না। ও বলে যে আমি যা চাই তা পেয়ে ছাড়ি। আমি বললাম যে তোমার এই কথার জন্য তোমার প্রতি আমার যে শ্রদ্ধা ছিল তা চলে গেল। অ বলে যে আমার শুধু তোমাকে দরকার।

এইভাবে অনেক্ষন ঝগড়া করে ফোন রেখে দিলাম। ওর অনেক হুমকি’র ফলে আমি রাতে ভালোমতন ঘুমাতে পারি নি। সারাটাদিন আমি মানসিক চাপের মধ্যে কাটিয়েছিলাম। ওইদিন সারাদিন ফোন করে ওইগুলা কথা ই বলেছে। রাতে নামাজে যাবার আগে মোবাইল সাইলেন্ট করে রেখে গিয়েছিলাম।

আল্লাহর কাছে দুয়া করেছিলাম যাতে আমাকে এই বিপদ থেকে রক্ষা করেন। আল্লাহ আমার ডাক শুনেছিলেন। বাসায় এসে দেখি ১১ টা মিসড কল, ৪ টা মেসেজ। ওইগুলাতে লিখা যে আমি রাগ করেছি কি না। পরে আবার ফোন দিলে আমি রিসিভ করি।

তখন ও যা বলল তাতে মনে হল যেন আমার মাথা থকে ১০০০ কেজির কোনো ভর সরে গেল। ও বলে যে “আপনি রাগ করতেছেন কেন? আমি তো আপনার সাথে ফান করতেছিলাম!! আপনি সিরিয়াসলি নিলেন কেন? আপনি তো একটা ভীতুর ডিম। এই একবিংশ শতাব্দিতে এসে যদি আপনি এইগুলার জন্য ভয় পান তাহলে হয়?” উত্তরে বলেছিলাম “এই যদি হয় একবিংশ শতাব্দি তাহলে আমি আরো আগে চলে যাতে চাই। ভাল থেকো। ” তারপর থেকে আমি ওর সাথে কম কথা বলতে চেষ্টা করি।

এখন ও মাঝে মাঝে কথা হয়। কিন্তু ওই বিষয় নিয়ে কোনো কথা হয় না। আমাকে এই বিপদ থেকে মুক্তি দেয়ার জন্য মহান আল্লাহর দরবারে হাজারো লাখো শোকর। । এই ছিল আমার দুরবস্থার গল্প।

এইটা লিখার উদ্দেশ্য হল আমরা এই জ়েনারেশন এর পোলাপানরা অনেক সহজেই বিপদে ঝাপ দেই। আমাদের উচিত আবেগের বশবর্তী না হয়ে ভালভাবে জীবন যাপন করা। সবাই ভালো থাকবেন।  ।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.