আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রজন্মের প্রতি পক্ষপাত



প্রজন্মের প্রতি পক্ষপাত ফকির ইলিয়াস ====================== আবারো কেঁপে উঠেছে মধ্যপ্রাচ্য। তিউনিসিয়া ও মিসরে স্বৈরতন্ত্রের পতনের পর লিবিয়া, ইয়েমেন, ইরান, মরক্কো, বাহরাইনে এখন চলছে গণবিক্ষোভ। মানুষ নেমে এসেছে রাজপথে। খুবই ভয়াবহ অবস্থার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে বিশ্ব। লিবিয়ায় জিম্মি হয়ে পড়েছেন বিভিন্ন দেশের মানুষ।

স্বৈরশাসক গাদ্দাফি বলেছেন, তিনি ক্ষমতা ছাড়বেন না। প্রায় একই কথা বলেছিনে হোসনি মোবারকও। তাকেও যেতে হয়েছে। হয়তো গাদ্দাফিও যাবেন। তবে কেন এই রক্তপাত? আমেরিকান মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, লিবিয়ায় হতাহতের সংখ্যা কয়েক হাজার।

এদিকে মার্কিন রণতরীগুলোকে ত্রিপলির কাছাকাছি অবস্থান নিতে নির্দেশ দিয়েছে মার্কিন প্রশাসন। না, অবস্থা খুব সুবিধার মনে হচ্ছে না। প্রয়োজনে মানবাধিকার রক্ষার নামে গাদ্দাফিকে মার্কিনিরা ধাওয়া করতে পারে, এমন একটা সুর উঠছে মার্কিনি বিশ্লেষক মহলে। তবে কি সন্ত্রাসী দমন কিংবা শান্তিরক্ষার নামে ত্রিপলিতেও পৌঁছে যাবে ইউএস বাহিনী? সে কথা সময়ই জবাব দেবে। দুই. যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিলেবাসে ‘এন্টি টেরোরিজম’ কোর্সটি যুক্ত হওয়ার পরপরই উল্লেখযোগ্য হারে বাড়তে থাকে এর ছাত্রছাত্রী সংখ্যা।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকেও এ কোর্সে ভর্তি হওয়ার জন্য ট্রান্সফার নিয়ে প্রচুর ছাত্রছাত্রী আসছে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করার জন্য। বিভিন্ন কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রশিক্ষক-অধ্যাপক হিসেবে যারা দায়িত্ব নিয়েছেন এরা সবাই সামরিক, গোয়েন্দা, স্পেশাল সার্ভিস কিংবা আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস আইনে দক্ষ ব্যক্তিত্ব। কেউ কেউ বিভিন্ন সংস্থার সাবেক কর্মকর্তা। ২০০১ সালের আগেও এ কোর্সটির খুব একটা কদর ছিল না যুক্তরাষ্ট্রে। সেপ্টেম্বর ইলেভেনের পর এর কদর বেড়ে যায় বহুগুণ।

অপরাধের ধরন বাড়ছে। পরিসর বাড়ছে। এর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে সন্ত্রাস দমনের উপায় নিয়েও বিশ্বের রাজনীতিক, সমাজবিজ্ঞানী, সংস্থা ও সংগঠনগুলো উদ্বিগ্ন। এন্টি টেরোরিজম কোর্সের তিন-চার বছর মেয়াদি প্রশিক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের প্রজন্মের ক্যারিয়ারেও যুক্ত করেছে নতুন মাত্রা। একটা চ্যালেঞ্জিং পেশা হিসেবেই অনেকে নিতে চাচ্ছে এটাকে।

একটি বিষয় খুব স্পষ্ট, বিশ্ব এগুচ্ছে সমসাময়িক ঘটনাবলি এবং সমস্যা সম্ভাবনার সঙ্গে তাল মিলিয়ে। এ প্রজন্মকেও তাই গড়ে তোলার প্রয়োজন হয়ে পড়েছে সমসাময়িক অবস্থার সঙ্গে সঙ্গতি রেখে। এ প্রসঙ্গে কথা হচ্ছিল সিটি ইউনিভার্সিটি অফ নিউইয়র্কের অধ্যাপক রাসেল রোলিনের সঙ্গে। তিনি এখানে ‘এন্টি টেরোরিজম’ পড়ান। অধ্যাপক রোলিন বলেন, একটি কথা আমাদের মনে রাখতে হবে আজ থেকে বিশ বছর আগে কিন্তু তথ্যপ্রযুক্তির এমন মুক্ত এবং অবাধ প্রবাহ ছিল না।

ইন্টারনেট এখন গোটা বিশ্বকে নিয়ে এসেছে হাতের মুঠোয়। এর সঙ্গে সঙ্গে বেড়েছে সাইবার ক্রাইমও। তাই বাধ্য হয়ে নতুন আঙ্গিকের সেই ক্রাইমকেও রোধ করতে ব্যবস্থা নিতে হচ্ছে সরকারকে। প্রণীত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী নতুন নতুন আইন। আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস দমনের বেলায়ও প্রফেসর রোলিনের একই কথা।

তিনি বললেন, খুব শিগগিরই হয়তো এমন সময় আসবে যে এই এন্টি টেরোরিজম সিলেবাসটি গোটা বিশ্বে একটা অন্যতম প্রধান বিষয় হিসেবে সমাদৃত হবে। যারা উচ্চপদস্থ হবেন তারা সবাই এসব বিষয়ে প্রচুর পড়াশোনা করে দীক্ষিত করে তুলবেন নিজেদের। তার কথার সঙ্গে একমত হওয়ার যথেষ্ট কারণ আছে। যদি বাংলাদেশের অতীত শিক্ষা সিলেবাসের প্রতি নজর দেই তবে দেখা যাবে, এক সময় ছিল যখন একজন পিতা তার সন্তানকে বিএ, এমএ অথবা এমনি সমপর্যায়ের এডুকেটেড করে গড়ে তুলতেই আগ্রহী ছিলেন। সময়ের আবর্তে এখন তা অধিক ক্ষেত্রেই বদলেছে।

নতুন নতুন সিলেবাসের প্রতি, বিষয় ও পেশার প্রতি শিক্ষার্থীদের আগ্রহ বেড়েছে। বিশ্ব পরিমণ্ডলের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ফার্মেসি, ফাইন আর্টস, বিজনেস ম্যানেজমেন্ট, মাইক্রোবায়োলজি, এস্ট্রোনমি (মহাকাশ বিজ্ঞান) প্রভৃতি চমকপ্রদ বিষয় শিক্ষার মাধ্যম হিসেবে বেছে নিচ্ছে অনেক শিক্ষার্থী। পরিবর্তন কিংবা দিনবদলের এই যে অগ্রযাত্রা তা আমাদের আশার আলো দেখায় অবশ্যই। তিন. একজন মানুষ সম্পর্কে জানতে হলে, একটি বিষয় সম্পর্কে জানতে হলে এখন বাংলা ফোনেটিকে লিখে তা গুগল সার্চ দিলেই বেরিয়ে আসছে সংরক্ষিত সকল ডাটা। তা দেখে তাজ্জব তো হতেই হয়! কিংবা কোনো সংস্থা কাউকে চাকরি দেয়ার আগে ফেসবুক, মাইস্পেস সার্চ করে জেনে নিচ্ছে সেই মানুষটি সম্পর্কে।

এই প্রবাহের বিপরীতে ‘ডিজিটাল বাংলাদেশের বাস্তব চিত্র কী? দেখে দুঃখ হয়, মহান জাতীয় সংসদে দাঁড়িয়ে বিভিন্ন এলাকার এমপিরা যখন নিজের থানায় পুলিশের জন্য একটি পিকআপের জন্য দেনদরবার করেন। হায়! কী দুর্ভাগ্য চল্লিশ বছর বয়সী স্বাধীন বাংলাদেশের! প্রযুক্তি প্রবাহের যেমন অগ্রগতি বাংলাদেশে সাধিত হওয়ার কথা ছিল, তা হয়নি। বিশ্বের অন্যান্য দেশের তুলনায়, এমনকি প্রতিবেশী ভারতের তুলনায় বাংলাদেশে তথ্যপ্রযুক্তি প্রবাহের পাঁচ শতাংশ উন্নয়ন হয়নি। এটা কে না জানে, তথ্যপ্রযুক্তির লীলাভূমি হিসেবে স্বয়ং যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম পছন্দের দেশটি হচ্ছে ভারত। ক্যাপিটাল ওয়ান, ডিসকভার, এটিএন্ডটি, গোল্ডম্যান্ড শাকসসহ সহস্রাধিক বহুজাতিক কোম্পানি তাদের করপোরেট অফিসের শাখা স্থাপন করেছে ভারতে।

টল ফ্রি নম্বরে কাস্টমার সার্ভিসে ফোন করলে জবাব আসছে ভারত, ফিলিপিন কিংবা সিঙ্গাপুর থেকে। মুক্ত অর্থনীতির বাজারে কমমূল্যে শ্রম পেতে ওসব দেশে বাণিজ্য শাখা অফিস খোলা বুদ্ধিমত্তার পরিচয় বৈকি। ওসব দেশের সামাজিক, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতাও বাণিজ্যে আগ্রহী হওয়ার অন্যতম কারণ। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য, বিপণন কেন্দ্র হিসেবে বাংলাদেশের নামটিও সে তালিকায় থাকতে পারতো। এতে উপকৃত হতো দেশের সহস্র শিক্ষিত তরুণ-তরুণী।

খুবই দুর্ভাগজনকভাবে বাংলাদেশে তা সম্ভব হয়নি কিংবা হচ্ছে না। রাষ্ট্রের স্বার্থে, প্রজন্মকে শক্তিশালী হিসেবে গড়ে তোলার স্বার্থে এসব বিষয় নিয়ে আন্তরিকতার সঙ্গে সবার ভাবা প্রয়োজন। কৃষিপ্রধান বাংলাদেশে আর যে বিষয়টি নিয়ে গুরুত্বের সঙ্গে ভাবা দরকার তা হচ্ছে কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়ন। যুক্তরাষ্ট্র, ভারতের গুজরাট, মহারাষ্ট্র, কেরালা, তামিলনাড়- অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন কৃষি খামারে উচ্চফলন ফলানোর জন্য কৃষক সম্প্রদায়কে বিভিন্ন প্রশিক্ষণে সাহায্য করছে। এক্সপেরিমেন্টাল স্টাডি করে কোন ভুমিতে কেমন লাভজনক ফলন হতে পারে তাও নিরীক্ষণের যৌথ উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে।

সর্বোপরি সেকেলে কৃষি প্রক্রিয়াকে বদলে বিজ্ঞানভিত্তিক কৃষি ব্যবস্থা চালুর উদ্যোগ আজ পরিলক্ষিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। দক্ষিণ আমেরিকার বিভিন্ন দেশ কৃষি খামার এবং মৎস্য পোল্ট্রি ফার্ম বিপ্লবে প্রভুত উন্নতি সাধন করেছে গেলো দুদশকে। অথচ সুজলা সুফলা শস্য শ্যামলা বাংলার ভূমি যেখানে কম প্রচেষ্টাতেই অনেক কিছু করা সম্ভব হতো তার অবস্থা থেকে গেছে অপরিবর্তিত। চার. জাতিসত্তা, ঐতিহ্য, ইতিহাস এবং সভ্যতাকে লালন করে আমরা যারা সমাজ বিনির্মাণে বিশ্বাস করি তাদের প্রত্যেকেরই একটা দায়িত্ব রয়েছে। আমি মনে করি যে যে সেক্টরে রয়েছেন, তিনি যদি সৎ এবং একনিষ্ঠভাবে রাষ্ট্র, জনগণের কল্যাণে এগিয়ে আসেন তবে বাংলাদেশের চেহারা পাল্টানো সহজতর হতে পারে।

প্রয়োজন শুধু একান্ত ইচ্ছার। আমার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. জনি টমাস একজন কৃষ্ণাঙ্গ আমেরিকান। তার পূর্বপুরুষ নাইজেরিয়া থেকে এসেছিলেন। ডা. টমাস প্রায়ই আমাকে বলেন, তার শেষ ইচ্ছা হচ্ছে শেষ বয়সে নিজ পিতামহের ভূমি নাইজেরিয়ায় গিয়ে একটি ফ্রি ক্লিনিক করে গণমানুষের সেবা করা। খুবই সজ্জন হিসেবে পরিচিত ডা. টমাসের অফিসে একটি বাড়তি সুবিধা পাওয়া যায়।

তিনি কোনো রোগী দেখে তার প্রাথমিক, অর্থাৎ এক দুবেলা খাবার ওষুধ নিজ দপ্তর থেকেই দিয়ে দেন। ডা. টমাস আমাকে একদিন বলেছিলেন, বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানি প্রচারের জন্য প্রচুর পরিমাণ ওষুধ ‘ফ্রি স্যাম্পল’ হিসেবে ডাক্তারদের দিয়ে থাকে। এসব ওষুধ ডাক্তাররা তাদের রোগীদের দেয়ার এখতিয়ার রাখেন। আমরা জানি বাংলাদেশেও অনেক অভিজ্ঞ চিকিৎসক ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান থেকে ‘ফ্রি স্যাম্পল’ ওষুধ পেয়ে থাকেন। এসব ওষুধ নিশ্চয়ই তারাও দিন-দুঃখী রোগীদের মধ্যে বিতরণ করে থাকেন।

এই যে মানবতা, এই যে মহানুভবতা তাই কিন্তু সমাজ বিনির্মাণের, সংহতির একটি ধাপ। যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নামীদামি স্কুল-কলেজ তাদের ছাত্রছাত্রীদের জন্য ফিন্স টিউটোরিয়ালের ব্যবস্থা করে থাকে। পাবলিক স্কুলের ছাত্রছাত্রীদের জন্য বিকেল চারটা থেকে সন্ধ্যা সাতটা পর্যন্ত সিটির শিক্ষকরা ‘ডায়েল-এ-টিচার’ কার্যক্রমের আওতায় দায়িত্ব পালন করেন। একজন ছাত্র যাতে তার হোমওয়ার্কে যথাযথ সাহায্য পেতে পারে তার জন্য এমন ব্যবস্থা। উচ্চশিক্ষার জন্য বৃত্তি প্রদান তো রয়েছেই, শিক্ষাঋণ প্রদানে বিভিন্ন ব্যাংক রীতিমতো ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা শুরু করেছে যুক্তরাষ্ট্রে।

এছাড়া শিক্ষা ব্যয় সঙ্কুলানে অপারগ পরিবারের মেধাবী ছাত্রছাত্রীর জন্য বিশেষ অনুদান ব্যবস্থা তো রয়েছেই। যুক্তরাষ্ট্রের সরকার ব্যবস্থা মনে করে একজন ছাত্রছাত্রীর পেছনে যদি রাষ্ট্র পঞ্চাশ হাজার ডলার অনুদান দেয়, তবে এই ছাত্র কিংবা ছাত্রীটি পড়াশোনা করে বড় হয়ে চাকরি করে বছরে যে আয় করবে, তার আয়কর (ইনকাম ট্যাক্স) হবে সরকারি দেয়া অনুদানের বহুগুণ বেশি। মাত্র পঞ্চাশ হাজার ডলার বিনিয়োগ করে একজন নাগরিকের কাছ থেকে তার আজীবন ট্যাক্স পাচ্ছে সরকার। ৬২ বছর বয়সে অবসর নেয়ার আগ পর্যন্ত সে ট্যাক্স দেবে লাখ লাখ ডলার। বুনিয়াদি গণতন্ত্র এবং বুর্জোয়া ধনতন্ত্রের এই প্রক্রিয়ার কাছে ধরা দিতে কারোই তো আপত্তি থাকার কথা নয় যদি তা ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা দেয়।

আর সে জন্যই এখনো বিশ্বের মানুষ হুমড়ি খাচ্ছে আমেরিকার দিকে। দিনবদলের অগ্রযাত্রায় নিজ প্রজন্মের পক্ষে আজ সবার দাঁড়ানোর সময় এসেছে। ভেদাভেদ, শঠতা, আত্মপ্রতারণা কোনো জাতির রাজনৈতিক দর্শন হতে পারে না। যুদ্ধবাজ বলে মার্কিনীদের দুর্নাম আছে। কিন্তু তারা নিজ জাতি গঠনে, নিজ প্রজন্ম গঠনে যে প্রত্যয়ের স্বাক্ষর রাখছে তা তো অস্বীকার করার কোনো উপায় নেই।

মেধা এবং মননশীল চিন্তাচেতনাই পারে একটি জাতি, ভূখণ্ড এবং প্রজন্মকে সত্যিকার মুক্তির পথ দেখাতে। বাঙালির প্রতিযোগিতা হোক সৃজনের সপক্ষে। আমরা সবাই যেন সে প্রত্যয়ে আরেকবার প্রজ্বলিত হয়ে উঠি। নিউইয়র্ক/ ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০১১ ========================================= দৈনিক ভোরের কাগজ । ঢাকা।

৫ মার্চ ২০১১ শনিবার প্রকাশিত ছবি- এ্যান মারুর

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.