আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বুলেট ফর মাই ভ্যালেন্টাইন – বেষ্ট মেটালকোর ব্যান্ড এ্যাভার

যখন একা বসে ভাবি তখন সেই ভাবনাগুলোই গান হয়ে যায়। তারপর গীটারটা হাতে নেই সেই ভাবনাকে সুরের মূর্ছনায় ছড়িয়ে দিতে। এভাবেই চলছে গান, ভাবনা আর বেচে থাকা।
বুলেট ফর মাই ভ্যালেন্টাইন (লাইন আপ) কাউকে যদি জিজ্ঞেস করা হয়, “ভাই আপনি মেটাল গান শোনেন নাকি”। তাহলে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই উত্তর আসে, “অবশ্যই শুনি, না শোনার কি আছে” ।

তারপর যখন জিজ্ঞেস করবেন, “কাদের মেটাল গান শুনেন” । তখন উত্তর আসে, “বন জভি, জেমস ব্লান্ট, মাইকেল জ্যাক্সন এমনকি আমি লিংকিন পার্কের মত গোথিক মেটাল ব্যান্ডের গানও শুনি”। তারপর আর কি। আপনাকে মুগ্ধ হওয়ার ভান করে বলতে হয় আরে, “আপনি দেখি চরম মেটাল লিসনার। ভালো কালেকশান থাকলে দিয়েন তো” ।

আমাদের দেশের বেশীর ভাগ শ্রোতারই মিউজিক সম্পর্কে আইডিয়া এই ধরনেরই। কিছুদিন আগে আমার এক বন্ধু আমাকে বলল “মেটালিকা” তো “রক-মেটাল” সেকশনে গান গায়। আমি কিছুই বুঝলাম না জিনিসটা কি। আসলে দোষটা তাদেরও না। টিভিতে সারাদিন হিন্দি সস্তা জিনিস দেখতে দেখতে এখন মিঊজিক বলতে এরা বুঝে ইন্ডিয়ার হিমেস রেসামিয়া (সর্বশ্রেষ্ঠ জোকার), বাংলাদেশের বালাম, রিদয় খাল (এর বিষয়ে বলতে গিয়া আমি বাকরুদ্ধ), হাবীবী (আমি তোমার মনের ভেতরে......ইত্যাদি ইত্যাদি)।

না আমি কোন শ্রোতাকে ছোট করতে চাচ্ছি না। তবে বাংলাদেশের বেশীর ভাগ শ্রোতাদের সাথে মিউজিক নিয়ে কথা বলে মনটাই খারাপ হয়ে গেছে। যাই হোক, যারা অতিমাত্রার ধাতব (মেটাল) সহ্য করতে পারেন না, গানের লিরিক্স ক্লিয়ারলি বুঝতে চান, ভোকালের ক্লিয়ার টোন চান, আর সব শেষে মাথা নষ্ট করা স্টাইল দেখতে চান তাদের জন্য আজকে আমি একটি ব্যান্ড বিষয়ে বলব। যাদের গান ঠিক মেটালের মধ্যেও পরে না আবার মেটাল স্বাদের বাইরেও নয়। তাদের গানের লিরিক্স পানির মত ক্লিয়ার (তবে আর্সেনিক থাকতে পারে), স্ক্রিম, গ্রোল, গিটারের দূর্দান্ত কাজ সবই আছে।

তাদের জেনেরোর নাম হচ্ছে “মেটালকোর”। আচ্ছা বলুন তো আমি কোন ব্যান্ড বিষয়ে বলতে চাচ্ছি? (এত ন্যাকামী না করলেও চলত, কারণ পোষ্টের শিরোনামে তো ব্যান্ডের নাম দেয়াই আছে। হে হে) গুড। আপনার মাথায় প্রথম যে নামটি আসবে সেটিই। “বুলেট ফর মাই ভালেন্টাইন”।

ব্যান্ডটির গ্রহনযোগ্যতা তরুন প্রজন্মের কাছে অবিশ্বাস্য, বিশেষ করে যারা নতুন মেটাল লিসনার। বাংলাদেশের আন্ডারগ্রাউন্ড ব্যান্ডদের মধ্যেও এদের গান কাভার দেয়ার একটা হিড়িক পড়ে গেছে। এদের গানের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে মেটাল গানের শুরুতেই যেমন হাউকাউ শুরু হয়ে যায় এদের গানে সেটা নেই। এদের গান অনেকটা প্রগ্রেসিভ ক্যাটাগরির। আস্তে আস্তে মেটাল হয়।

আমার কাছে এদের একটা জিনিস ভালো লেগেছে, সেটা হচ্ছে ভোকালের কন্ঠ আর উচ্চারন খুব ক্লিয়ারলি বোঝা যায়। এই ধরনের শার্প টোন মেটাল ভোকালদের সাধারণত থাকে না। যদিও এদের গ্রোল দেয়ার কাজটা মেইন ভোকাল করে না। উৎপত্তিঃ অন্যান্য বিখ্যাত ব্যান্ডদের মত এদের উৎপত্তি আমেরিকাতে নয়। এরা “ওয়েলস” এর ব্যান্ড।

মেটালকোর জেনেরোর বর্তমান সেরা ব্যান্ড “ট্রিভিয়াম” , “অ্যাস আই লে ডায়িং” এর মত ব্যান্ডের সাথে বুলেট ফর মাই ভ্যালেন্টাইনও লড়ে যাচ্ছে সমান তালে শ্রেষ্ঠত্বের দাবিদার হিসেবে। বরং কিছু কিছু ক্ষেত্রে এরা ওদেরকেও ছাড়িয়ে গেছে। ম্যাট টাক (ভোকাল, রিদম গিটারিষ্ট) ভোকাল, রিদম গিটারিষ্ট) ভোকাল, রিদম গিটারিষ্ট) ভোকাল, রিদম গিটারিষ্ট) উল্লেখযোগ্য মেম্বারঃ এই ব্যান্ডে অবদানের দিক থেকে চিন্তা করলে সবাই দারুন তবে, যে মেম্বারটির নামে সারা বিশ্ব আলোড়িত হয় সে হচ্ছে “ম্যাট টাক”। “ম্যাট টাক” এই ব্যান্ডের গিটারিষ্ট ভোকাল, অবশ্য লীড বাজায় না, রিদম বাজায়। “ম্যাট”-কে বিশ্বের সবচেয়ে স্টাইলিস আর কিউট গিটারিস্টও ধরা হয়।

“বুলেট ফর মাই ভ্যালেন্টাইন” ব্যান্ডটির গোড়াপত্তনেও ম্যাটের দারুন ভূমিকা ছিল। ম্যাটের পরে বলতে গেলে “মাইকেল পাজেট (পেজ)” এর নাম বলতে হবে। যার হাতের আঙ্গুলগুলোর দৌড় ব্যান্ডটিকে অনেক দূর যাওয়ার ক্ষেত্রে দারুন ভুমিকা পালন করেছে। তার গিটার বাজানোর ধরন সত্যিই দৃষ্টি কেড়ে নেয়ার মত। মাইকেল পাজ়েট ব্যান্ডটির লীড গিটারিস্ট।

স্টাইলের দিক থেকে ম্যাটের পরেই মাইকেল পাজেট সেরা। মাইকেল পাজেট (লীড গিটারিষ্ট) যেভাবে শুরুঃ “বুলেট ফর মাই ভ্যালেন্টাইন” ব্যান্ডটি মূলত মেটালিকা, স্লেয়ার থেকে ইনফ্লুয়েন্সড। এরা ওদের গান কাভার দিত আর সেগুলো লাইভে পারফরম করত। সেই থেকেই শুরু। তারপর একদিন যখন মেটালিকা, স্লেয়াররা ওদের ক্যারিয়ারের শেষ দিকে চলে এল তখন ওদের নাম ছাপিয়ে উচ্চারিত হল ওদের থেকেই ইনফ্লুয়েন্সড হওয়া একটি নাম “বুলেট ফর মাই ভালেন্টাইন” (১৯৯৮)।

ওদের থেকে ইনফ্লুয়েন্সড হলেও ওদের গানে মেটালিকা, স্লেয়ারের প্রভাব কমই। তবে ওদের থ্রাস মেটাল গানগুলোতে কিছুটা “মেটালিকিও আর স্লেয়ারিও” প্রভাব বিদ্যমান। মেম্বারঃ • Matthew Tuck – lead vocals, rhythm guitar (1998–present) • Michael Paget – lead guitar, backing vocals (1998–present) • Michael Thomas – drums, percussion (1998–present) • Jason James – bass guitar, vocals (2003–present) Former members • Nick Crandle – bass (1998–2003) অ্যালবামঃ • The Poison (2005) • Scream Aim Fire (2008) • Fever (2010) সাফল্যঃ • Welsh Music Award o Best Newcomer (2004) • Metal Hammer Golden God Award o Best British Band (2006, 2010) • Kerrang! Awards o Best UK Single for "Tears Don't Fall" (2006) o Best British Newcomer (2005) o Best British Band (2008, 2009, 2010) o Headlined Kerrang!'s 25 year anniversary tour of the UK o Best Live Band (2010) এবার আসা যাক এই ব্যান্ডের সেরা গানগুলোর কথায়। একটা গানের জন্য এই ব্যান্ডটি চিরস্মরনীয় হয়ে থাকবে আজীবন। সেটা হচ্ছে “টিয়ারস ডোনট ফল”।

এই গানটি দিয়ে এরা ২০০৬ সালে ইউরোপের সেরা ব্যান্ড নির্বাচিত হয়েছিল। ২০১০ সালে এরা এদের তৃ্তীয় সলো এ্যালবার “ফিবার” রিলিজ করেছে। এই অ্যালবামের গানগুলোও ইউরোপে ব্যাপক আলোরণ ফেলে দিয়েছে। আমি আমার নিজের ভালো লাগা কিছু গানের লিংক দিচ্ছি, শুনে দেখবেন ভালো লাগবে অবশ্যই। বুলেট ফর মাই ভ্যালেন্টাইন (লাইন আপ) Tears Don’t Fall - http://www.mediafire.com/?m1snkhcjc5b All These Things I Hate - http://www.mediafire.com/?tryyjwznzrv Your Betrayal – http://www.mediafire.com/?d2mmnmmymml Last Fight - http://www.mediafire.com/?amjfmj096gt Tears Don’t Fall (Acoustic) - http://www.mediafire.com/?jhu1jxgd4do Waking The Demon - http://www.mediafire.com/?wmjrb3s2xim এই গানগুলো শুনে যদি ভালো লেগে যায় তাহলে এদের অ্যালবামগুলো কালেক্ট করে নিতে পারেন।

পোষ্টটি ভালো লাগলে, আমারও ভালো লাগবে। ধন্যবাদ । পরবর্তী পোষ্টে থাকছে সুইডিশ ব্যান্ড “অপেথ”। আর আমার আগের দুটি মিউজিক পোষ্ট দেখুন এখান থেকেঃ ব্লাক মেটালঃ দি আলটিমেট টেষ্ট অফ মেটাল উইথ লেজেন্ড ক্রেডেল অফ ফিলথ ঃ Click This Link চিল্ড্রেন অফ বোডম – দ্যা গড অফ মেটাল ঃ Click This Link ধন্যবাদ আবারো। ভাল থাকুন সবাই।

আল্লাহ হাফেজ । \m/
 

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।