আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

জার্মানিতে উচ্চ শিক্ষার জন্য বৃত্তি

...... সৃষ্টিশীলতার সন্ধানে

বিলেত-আমেরিকার নামী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার স্বপ্ন কে না দেখে৷ তবে নিজের পকেটের টাকা খরচ করে বিদেশে পড়তে যাওয়ার সাধ্য সবার কি আছে? শুধু বিশাল অঙ্কের টিউশন ফি নয়, অনেক দেশে থাকা-খাওয়ার খরচও কম নয়৷ তাই গত কয়েক বছরে অনেক ছাত্রছাত্রীই জার্মানি পাড়ি দিচ্ছে, কারণ এখনো এদেশে বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই প্রায় বিনামূল্যে উচ্চশিক্ষা পাওয়া যায়৷ উচ্চ শিক্ষার জন্য বৃত্তি দেয় কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশন বন শহরের পাশেই অবস্থিত কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশন কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশন নামের বৃত্তি সংস্থাটি প্রতিষ্ঠিত হয় ১৯৫৬ সালে৷ প্রতিষ্ঠানটির নামকরণ করা হয় জার্মানির প্রথম চ্যান্সেলর কনরাড আডেনাওয়ারের নামানুসারে৷ তাঁর চিন্তা চেতনার প্রতিফলন এবং আদর্শকে এগিয়ে নিতে বদ্ধপরিকর এই বৃত্তি প্রতিষ্ঠানটি৷ কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশন সাধারণত উচ্চশিক্ষা এবং বিভিন্ন ধরনের ট্রেনিং প্রোগ্রামের জন্য দেশী বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের আর্থিক ভাবে সাহায্য করে থাকে৷ বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের সুযোগ দেয়া হয় জার্মানিতে উচ্চশিক্ষা এবং পি এইচ ডির জন্য বৃত্তি দিয়ে থাকে৷ উদ্দেশ্য প্রতিটি ছাত্র-ছাত্রীকে নিজ নিজ ক্ষেত্রে আরো বেশি দক্ষ হতে সাহায্য করা৷ এই সংস্থাটি পোস্ট গ্রাজুয়েট প্রোগ্রামগুলোর জন্য বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের সাহায্য করে থাকে৷ অর্থাৎ যে সব ছাত্র-ছাত্রী ইতিমধ্যে তার নিজ দেশে সর্বোচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করেছে এবং পি এইচ ডি করার মত যথাযথ যোগ্যতা তার আছে৷ প্রাথমিক বাছাইয়ে সবসময়ই এরা এগিয়ে আসে৷ তবে এক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠানটি নিজেও প্রার্থীর যোগ্যতা এবং কাগজপত্র যাচাই করে দেখে৷ প্রার্থীকে অবশ্যই অত্যন্ত মেধাবী হতে হবে৷ দেশের সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলোর প্রতি যথেষ্ট আগ্রহ থাকতে হবে৷ প্রার্থীদের সুবিধার্থে জানাচ্ছি সামাজিক কোন সংগঠনে দীর্ঘদিন ধরে জড়িত আছেন বা কাজ করছেন এই অভিজ্ঞতাগুলো সবসময়ই সাহায্য করবে৷ অন্য আরেকটি বিষয়ে কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশন জোর দেয় তা হল প্রার্থীকে অবশ্যই জার্মান ভাষায় পারদর্শী হতে হবে৷ জার্মানিতে উচ্চশিক্ষার পর প্রার্থী তার নিজ দেশে ফিরে যাবে এবং সেখানে কাজ করবে এটি হচ্ছে অন্যতম একটি শর্ত৷ প্রার্থীদের সব সময়ই বলা হয় নিজ দেশ থেকে আবেদন করার জন্য৷ প্রাথমিক নির্বাচন সেভাবেই করা হয়৷ এই সংস্থাটির প্রতিনিধিত্ব কোন দেশ করলে সেই দেশের প্রার্থীকে বিশেষ বিবেচনা করা হয়৷ কোন প্রার্থী যদি কোন বিশ্ববিদ্যালয় বা সংগঠনের মাধ্যমে আবেদন করে তাহলেও তার আবেদনপত্রকে প্রাধান্য দেয়া হবে৷ কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশনের একজন কর্মকর্তা ডঃ বের্থোল্ড গিস৷ তিনি ১৯৯৪ সাল থেকে এই সংস্থায় কাজ করছেন৷ বিদেশী ছাত্র-ছাত্রীদের বিশেষ করে এশিয়ান ছাত্র-ছাত্রীদের আবেদন পত্র জমা নেয়া এবং বৃত্তি দেয়ার বিষয়টি তিনি দেখাশোনা করেন৷ ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে কি পরিমাণ আবেদন পত্র এই সংস্থাটি পেয়ে থাকে সে প্রসঙ্গে তিনি বললেন, প্রতি বছর পৃথিবীর বিভিন্ন দেশ থেকে ৫০০ থেকে ৭০০ আবেদন পত্র এই সংস্হাটি পেয়ে থাকে৷ কিন্তু ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে এই মুহুর্তে কোন ছাত্র-ছাত্রী নেই৷ আগে অনেক ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রী ছিল কিন্তু বিগত বছরগুলোতে একেবারেই আসেনি৷ এই উপমহাদেশ থেকে প্রতিবছর যাতে অন্তত ৫ থেকে ১০ জন ছাত্র-ছাত্রী আসে সে লক্ষ্যে সংস্থাটি বিশেষ উদ্যোগ নিচ্ছে৷ ভারতীয় প্রার্থী নির্বাচন করতে এ বছরেই একটি সম্মেলনের আয়োজন করা হবে৷ ঠিক কবে এই সম্মেলনটি হবে তা এখনও ঠিক হয়নি৷ সংগঠনটি চেষ্টা করছে ভারতীয় ছাত্র-ছাত্রীদের আবারো ফিরিয়ে আনতে৷ ডঃ বের্থোল্ড গিস আরো জানালেন প্রার্থী নির্বাচনে ঠিক কোন বিষয়গুলোর ওপর জোর দেয় এই সংস্থাটি৷ যে সব বিষয়ে সংগঠনটি বিশেষ নজর দেয় তা হল প্রার্থী যে বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করবে সে বিষয়ে যথেষ্ঠ দক্ষতা এবং কাজের অভিজ্ঞতা আছে কিনা৷ এছাড়াও দেখা হয় সংস্কৃতি, সামাজিক এবং রাজনৈতিক বিষয়গুলোতে প্রার্থীর আগ্রহ, সচেতনতা এবং সক্রিয়তা৷ এই সংস্থার ওয়েব সাইটের ঠিকানা http://www.kas.de কনরাড আডেনাওয়ার ফাউন্ডেশনের ঠিকানা Konrad-Adenauer-Stiftung e.V.(KAS) Rathausallee 12 D- 53757 Sankt Augustin Tel: 0049 2241 246 0 Internet: http://www.kas.de

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.