আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

'গার্মেন্টস কারখানায় উৎপাদিত লাশ: যাদের কেউ নাই বনাম যাদের জন্য আমরা সবাই 'এ দিনমুজুর যে কথা বলেন নি



গার্মেন্টস কারখানায় উৎপাদিত লাশ: যাদের কেউ নাই বনাম যাদের জন্য আমরা সবাই। ০২ রা মার্চ, ২০১০ রাত ১১:৫১ উপরের শিরোনামে দিনমুজুর গাজীপুরে গারমেন্টস কারখানায় অগ্নিকান্ডে নিহত (শহীদ নয় কেন?!) শ্রমিকদের জীবনের মূল্যায়ন প্রসঙ্গে আমাদের শ্রেনী দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরে একটি অসাধারণ লেখা উপস্থাপন করেছেন। আমি তাঁর এই লেখা টি সকল কে পড়ার অনুরোধ করছি এবং তার বক্তব্যের সাথে কিছু প্রসঙ্গ যোগ কারা প্রয়োজন মনে করছি। Click This Link এক বিডিআর বিদ্রোহে নিহত সেনাকর্মকর্তাদের সাথে সাধারণ গারমেন্টস শ্রমিকদের জীবনের মূল্য তুলনা আমাদের কথিত সভ্য জগতের বাসিন্দাদের জন্য হাস্যকর। কিন্তু, এ অপমৃত্যুর ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে যে শ্রেনী বৈষমমূলক চর্চার প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে , তার টাটকা দৃষ্টান্তর বিডিবার বিদ্রোহের ঘটনায় নিহতদের মধ্যেই রয়েছে।

(আমি এ সময় নিহত সিভিলিয়ানদের কথা বলবো না। ) এই বিদ্রোহ কালে একজন বিডিআর থেকে উত্থিত কর্মকর্তা( এই মূহুর্তে নাম মনে পরছে না) সেনাকর্মকর্তাদের রক্ষা করতে গিয়ে জীবন দান করেন। এই বিদ্রোহ দমনে প্রকৃত বীরের মর্যাদা যদি দিতে হয় তবে তিনি একমাত্র বা প্রথম দাবিদার। কেননা, তিনি সপক্ষ ত্যাগ নাও করতে পারতেন ............. থাকতে পারতেন ১৫ আগস্ট ১৯৭৫ এর ঘটনা কালে বা পরবর্তী সময়ের আমাদের মহান পদস্থ সেনাবর্মবর্তাদের মতই নির্লিপ্ত। কিন্তু, তিনি তা না করে নিবোধের মত জীবন দিলেন।

আমরা কি জানি বা খবর রাখি যে, রাষ্ট্র এই মানুষটি কে কতটুকু মূল্যায়ন করেছে? * রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি অর্জণে ৩ মাস সময় প্রয়োজন হয়েছে। * তাঁর পরিবার কে দেওয়া হয়েছে মাত্র ৫ লক্ষ টাকা। * সেনানিবাস তো দূরের কথা রাজধাণীর কোথাও তাঁর পরিবারের আশ্রয় মেলে নি। দুই তথাকথি জাতিসংঘ শান্তি মিশনগুলো আসলে কি? সেখানে কর্মরত বাংলাদেশের সেনাবাহিনী প্রকৃত পক্ষে কার স্বার্থ রক্ষা করছে? আফগানস্থানে একজন মার্কিন সেনা বা ন্যাটো সেনা যে দ্বায়িত্ব পালন করছে ......... তার সাথে কঙ্গো কিংবা লাইবেরিয়ায় কর্মরত বাংলাদেশের সেনা সদস্যদের দ্বায়িত্বের কোন তফাৎ আছে কি? বিগত তিন দশক ধরে আধিপত্য আর সম্পদ লুন্ঠনের আকাঙ্খায় মার্কিন সাম্রাজ্যবাদ ও তার সাগরেদরা অতি সূক্ষ্ম চক্রান্তে ইরাক- আফগানস্থানের মানুষের মাঝে সংকীর্ণ গোত্রীয় অনুভূতি কে উস্কে দিয়ে ভ্রাতৃঘাতি সংঘাতের দিয়েছে ঠেলে দিয়েছে ... সে কাহিনী আমরা খুব সহজে বুঝতে পারি। কিন্তু, অপেক্ষাকৃত গায়ের চমড়ার উজ্জ্বল্যের আভিজাত্য বোধের কারণে আফ্রিকার কালো মানুষদের দেশে দেশে বিদ্যমান সংঘাত যে সেই ইঙ্গো-মার্কিন লুন্ঠণজাত সে ইতিহাস আমরা মনে রাখেত চাই না।

বরং,সাম্রাজ্যকাদী মোড়লদের পদলেহণের অভিপ্রায় আর উচ্ছিষ্ট ভোগের আকাঙ্খায় বাংলাদেশের সেনাবাহিনী কে ' শান্তি মিশন' এর নামে ইঙ্গো-মার্কিনদের ঐ সকল দেশের লুন্ঠনের দ্বিতীয় স্তরের রোড ম্যাপ বাস্তবায়নে ও তার বিশ্বে বৈধতা অর্জণের ট্রক্রিয়া শামিল গতে পেরে জাতীয় গৌরবে আত্মহারা হই। শান্তি মিশনে সেনা কর্মকর্তাদের অর্জিত মোটা অংকের বৈদেশিক মূদ্রায় রাষ্ট্রীয় রিজার্ভ স্ফীত করার সময় জাতীয় বিবেকে একবার প্রশ্ন উঠে না , এই সকল অর্থ কার ঘর থেকে লুন্ঠণ হয়ে আমার উদর পূর্তি হচ্ছে। !!!!!!!!!!??? আর এই মিশনে কোন সদস্য সংঘাতে বিংবা দুর্ঘটনায় নিহত হলে অর্জণ করেন জাতীয় বীরের ও শহীদের মর্যাদা। আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায় থেকে নিহতের পরিবারের নানা বিধ ক্ষতিপুরণ মিলে যায় সহজেই। অপর দিকে, মধ্যপ্রাচ্যের দেশে দেশে পশুবৎ শ্রমে যে মানুষগুলো দেশের অর্থনীতি চাকা কে সারা বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক বিপর্যয় কালে গতিশীল রেখেছে..........তাদের আমরা কি চোখে মূল্যায়ণ করি? আর এই মানুষগুলো অমানবিক শ্রমের বলি হয়ে স্বজনহীন বিদেশ বিভুইঁয়ে মৃত্যুর হিম শীতলতা কে আলিঙ্গণ করছে তখন আমাদের জাতীয় বিবেক একটি বার কী কেঁদে উঠে না? ************ Soldiers Are Not Heroes************


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.