আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

চারিদিকে একি শুনি পরিবর্তনের জয়োধ্বনি!



গ্রামে থাকার সময় নির্বাচন ঘনিয়ে আসলে মাইকে শুনতাম....চারদিকে একি শুনি ওমুক ভাইয়ের জয়ধ্বনি। যদিও সব প্রার্থীই বলতো ....কিন্তু জয়ধ্বনি একজনই করতো। পরিবর্তনের নতুন রুপ বদলে যাই , বদলে দিই। এই পরিবর্তনের স্লোগানটা আমেরিকার নির্বাচনের সময় ওবামার বহুল প্রচলিত ‍‍উই নিড চেঞ্জ শব্দের বাংলা ডাবিং। বিগত নির্বাচনে জনৈক রাজনৈতিক দল দিন বদলের ধুয়া তুলে বাজিমাত করে দিল।

এখন দেখছি ...একটি বিশেষ মিডিয়া বদলে যাওয়ার শপথ পড়াচ্ছে। এই বদলে যাও...বদলে যাও ওবামার নির্বাচনী স্লোগানের একটি ব্রাঞ্চ, যা ধার করে আনা হয়েছে। কথা হল.....জীবনে আমরা কতবার শপথ করেছি। তার কি খেয়াল রাখি? এই ধরুন...আত্মা বা রুহ সৃষ্টির পর প্রত্যেকে সৃষ্টি কর্তার নিকট শপথ করেছি...তাকে অস্বীকার করবনা। কিন্তু আমরা কি রাখতে পেরেছি? কিংবা, স্কুলে পিটি করার পর শপথ করতাম...দেশের সেবা করার জন্য।

তা কি বাস্তবায়ন করতে পারছি? তাহলে প্রয়োজন কি এত শপথ করে আবার শপথ ভঙ্গের। মজার বিষয় হচ্ছে, এই শপথ নেওয়ার ক্ষেত্রে সুবিধাজনকভাবে শপথ করা যায়। অর্থাৎ দেখা গেল একজন লোক ধূমপান করে, ঘুষ খায়, মিথ্যা কথা বলে, স্ত্রীকে নির্যাতন করে। এই লোকটি যদি চিন্তা করে আমার জন্য, স্ত্রীকে নির্যাতন বন্ধ করে দেওয়া সহজ, আমি তাই শপথ করবো স্ত্রীকে নির্যাতন করবোনা। তাহলে কি তার এই শপথ দ্বারা সমাজে কোন পরিবর্তন আসবে? কেন, জীবনটাকে সুন্দরভাবে সাজিয়ে এবং বদ অভ্যাসগুলো পরিত্যাগ করে দেশ মাতৃকায় নিজেকে নিয়োজিত করার শপথ করা উচিত নয় কি? একটি বাস্তব উদাহরণ দিই।

সে দিন আমাদের ক্যাম্পাসে শপথ যান গেল, আর চেয়ার টেবিল নিয়ে ক্যাম্পাসের সবচেয়ে বখাটে ছেলেগুলো এবং কতটি উল্টাপাল্টা ড্রেস পরা মেয়ে বসল। শপথের ফুলঝুরি!!!! কতজন কত শপথ করল। আমার এক বন্ধুতো শপথ করলো জীবনে আর টিউশন ফি মেরে খাবে না! অবশ্য এই শপথ নেওয়ার পেছনে তার কারণ আছে....কেননা, সে পাঁচ মাস পর বের হয়ে যাচ্ছে। টিউশন ফি তাকে দিতে হবে না আর ....তাই এ শপথ! তো যাক, যে সকল ছেলেকে দেখলাম অন্যর শপথ নিচ্ছে......অন্যকে উদ্ধুদ্ধ করছে....বেলা বারোটার দিকে তারাই কি নিয়ে ঝড়গা বাঁধিয়ে ক্যাম্পাসে টায়ার জ্বালিয়ে ক্লাশ বন্ধ করে দেয়। সেই সাথে মেইন গেটে তালা লাগিয়ে দেয়।

.......এই হল বাস্তব নমুনা। আমার মনে হয়.....এটা এক ধরণের ফন্দি। শপথের নামে....নিজের পত্রিকার প্রচার চালাচ্ছে। আপনারা নিজেরাই আগে নিজেদের চরিত্র বদলান.....তারপর অন্যের বদলানোর চেষ্টা করুন। এই মন্তব্যটা আমি নিজে লিখেছিলাম।

সুতরাং......বদলাতে হলে জীবনের সবদিকে পরিবর্তনের ছোঁয় নিয়ে আসতে হবে। যাতে আমার আপনার দ্বারা দেশের বা অন্যের কোন ক্ষতি না হয়। জীবনের শুধু একটি দিক বদলালে চলবেনা। সবশেষে আরেকটি উদাহরণ দিই। বাংলাদেশের অধিনায়ক আশরাফুল শপথ করেছিলেন, তিনি দেশের মুখ উজ্জ্বল করার জন্য খেলবেন।

তা কেমন উজ্জ্বল করেছেন.....তা তো দেখলেন!!@@@@

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।