আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সামাজিক ন্যায়বিচার

আলোচনা সমাধানের পথ

বাংলাদেশের রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় সমাজতন্ত্র সত্যিকারে ছিল বলে মনে হয় না। বাংলাদেশের রাজনীতিকে তিন ভাগে ভাগ করা যায়, ১৯৭৫ পূর্ববর্তী ,১৯৭৫ থেকে ১৯৯০ এবং ১৯৯০ পরবর্তী। স্বাধীনতা পূর্ববর্তী প্রগতিশীল রাজনীতি,উদার চিন্তা ভাবনা,অসামপ্রদায়িক ছাত্রসমাজ,সাধারণ মানুষের স্বাধীনতার আকাঙ্খা সবমিলিয়ে ১৯৭২ সালের সংবিধানে সমাজতন্ত্রকেঅন্যতম রাষ্ট্রীয় মূলনীতি হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে তা প্রান্তিক জায়গায় কার্যকর ছিল না,শুধুমাত্র রাষ্ট্রের উপরিস্থলে স্লোগান হিসেবে ছিল। সংবিধানের ১০ অনুচ্ছেদে বলা হয়ে ছিল,মানুষের উপর মানুষের শোষণের অবসান করিয়া ন্যায়ানুগসমাজ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার উদ্দেশ্যে শোষণহীন সমাজ ব্যবস্থা কায়েম করা হইবে।

এই মূলনীতি অনুসারে রাষ্ট্র তার প্রয়োজনেযে কোন ধরণের সম্পততি নিজের মালিকানায় নিতে পারবে। তবে সংবিধানে কৃষক শ্রমিকের শাসনের কথা উল্লেখ ছিল না কিংবা শ্রেণী স্বার্থ বা শ্রেণী সংগ্রামের কথা উল্লেখ ছিল না। ১৯৭৫ সালের পটপরিবর্তনের পর ১৯৭৭ সালের সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূলনীতিতে পরিবর্তন আনা হয়। সংবিধানে রাষ্ট্রীয় মূল নীতি হিসেবে সমাজতন্ত্রের পরিবর্তে অর্থনৈতিক ও সামাজিক ন্যায়বিচারের কথা বলা হয়েছে। ইহা অনেকটা মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ।

সমঅর্থে অঙ্কিত হলেও তাকে দেখানো হয়েছে ভিন্নভাবে রাজনৈতিক কারণে। সমাজতন্ত্রকে ধর্মহীন লোকের তন্ত্র হিসেবে দেখানোটা মূল উদ্দেশ্য ছিল। কিন্তু তাতেও মৌলিকতা ছিল না। বরং ধর্মান্ধ গোষ্ঠীকে খুশি করতে গিয়ে তার অর্থকে বিকৃত করা হয়েছে। ১৯৯০ সালে গনতন্ত্রকে নতুনবভাবে পাওয়া গেল।

কিন্তু সীমাহীন দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি,অদুরদর্শী নেতৃত্ব সবমিলিয়ে সমাজে সাম্য কায়েম করতে পারল না। বরং ধনী দরিদ্র বৈষম্য দিনে দিনে বেড়েছে,অর্থনৈতিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, রাষ্ট্রের সব অর্থ ৫% লোকের হাতে ন্যাস্ত। এমনকি বর্তমান তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে যেখানে সংস্কারের কথা বলা হচ্ছে,সেখানেও বৈষম্য আছে। হতদরিদ্রের মাথা গোজার জায়গা বস্তি তুলে দেয়া হচ্ছে,কিন্তু দামী র‌্যাংস ভবন অবৈধ হওয়া সত্ত্বেও আজ টিকে আছে। হাইকোর্টের অর্ডারের কারণে এ অবস্থা ,হায়রে আইন সেও ধনী দরিদ্র বোঝে! আমরা সব সময় আলাদা হতে চাই অন্যদের থেকে।

তাই অনৈতিক ভাবে হলেও আমরা অন্যদের চাইতে উপরে থাকতে চাই। সমাজ তাতে ধ্বংস হলেও আমাদের কিছু যায় আসে না।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.