আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভয়ে কোর্টে যান না খালেদা জিয়া : প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এতিমদের টাকা মেরে সাজা পাওয়ার ভয়ে কোর্টে যান না।

তিনি প্রধানমন্ত্রী হয়েও কালো টাকা সাদা করেছেন। নিজে এতিমদের টাকা পর্যন্ত মেরে খেয়েছেন। এখন সাজা পাওয়ার ভয়ে কোর্টে যান না। একেক দিন একেক অজুহাতে কোর্টে হাজির হন না।

সেখানে গেলে এতিমদের টাকা মেরে খাওয়ার বিষয়টি প্রমাণ হয়ে যাবে। গতকাল বিকালে গণভবনে জাতীয় নির্বাচনের দলের প্রার্থী বাছাইয়ে তৃণমূল আওয়ামী লীগের সঙ্গে মতবিনিময় সভার সূচনা বক্তব্যে শেখ হাসিনা এ মন্তব্য করেন। এতে রাজশাহী জেলা ও মহানগর, শরীয়তপুর, নেত্রকোনা, নাটোর, নরসিংদী, সাতক্ষীরা, ঝিনাইদহ জেলা ও জেলাধীন থানা, উপজেলা ও পৌর আওয়ামী লীগ নেতারা অংশ নেন। বিডিআর বিদ্রোহ নিয়ে বিরোধী দলের নেতাকে উদ্দেশ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, যার ঘুম ভাঙে দুপুর ১২/১টায় তিনি কীভাবে বিডিআর বিদ্রোহের দিন খুব সকালে ঘটনার এক ঘণ্টা আগে ক্যান্টনমেন্ট থেকে কালো কাচের গাড়িতে চড়ে আন্ডারগ্রাউন্ডে চলে যান। কেন তিনি এ রকম করলেন, বিডিআর বিদ্রোহের ঘটনায় তার কি সম্পর্ক বিরোধীদলীয় নেতা দেশবাসীর কাছে এর জবাব দেবেন? প্রধানমন্ত্রী বলেন, দীর্ঘ ও যথাযথ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংশোধন করা হয়েছে।

এর মাধ্যমে আমরা সংসদীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছি। আমরা চাই গণতন্ত্রের ধারাবাহিকতা অব্যাহত থাকবে। এটি অব্যাহত না থাকলে দেশের উন্নয়ন হয় না। দলীয় নেতা-কর্মীদের ভোটারদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট চাওয়া ও সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরার তাগিদ দিয়ে আওয়ামী লীগ সভানেত্রী বলেন, ভোটারদের বাড়ি বাড়ি যান। সরকারের উন্নয়ন চিত্র তুলে ধরুন।

বিগত ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপি-জামায়াতের দুঃশাসন, লুটপাট, জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাসের কথা জনগণকে স্মরণ করিয়ে দিন। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে দেশের উন্নয়ন হয়। আর বিএনপি এলে দেশে লুটপাটের রাজত্ব চলে। পরাজিত শক্তি ও তার দোসররা ক্ষমতায় এলে দেশের কখনো উন্নতি করে না মন্তব্য করে শেখ হাসিনা বলেন, ২০০১-২০০৬ সাল পর্যন্ত বিএনপির শাসন ছিা বিভীষিকাময় সময়। তারা দেশকে জঙ্গিবাদ, খুন, সন্ত্রাস, সংখ্যালঘুদের ওপর অত্যাচার, দুর্নীতি, লুটপাটের রাজত্ব কায়েম করেছে।

এ সময় তারা দেশকে ৫ বার দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে। তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় থেকে নিজেদের ভাগ্য গড়েছে। জনগণের ভাগ্য উন্নয়নে কোনো কাজ করেনি। উপরন্তু বিদ্যুৎ, খাদ্য উৎপাদন কমিয়েছে। দেশকে ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে নিয়ে গিয়েছিল।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বর্তমান সরকারের বিভিন্ন সফলতা তুলে ধরে বলেন, আমরা সব ক্ষেত্রে দেশকে সামনে এগিয়ে নিয়েছি। ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেছিলাম সেটা আমরা করেছি। মানুষের দোরগোড়ায় শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিয়েছি। এ সময় তিনি বিগত ১/১১ সরকারের দুঃশাসনের কথা তুলে ধরে বলেন, এ সময়টাতে তারা এমন নির্যাতন-নিপীড়ন চালিয়েছে যে ব্যবসায়ী, ছাত্র-শিক্ষক, রাজনীতিবিদ আমরা কেউই তাদের নির্যাতনের হাত থেকে রক্ষা পাননি। খুলনায় খালেদা জিয়ার দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করে শেখ হাসিনা বলেন, তিনি যে আমাকে দেখতে চান না সেটা তিনি কাজে প্রমাণিত করেছেন।

তিনি ক্ষমতায় থাকতে ২০০৪ সালে ২১ আগস্ট তার ছেলে ও ক্যাবিনেট মন্ত্রীদের দিয়ে আমাকে হত্যা করতে চেয়েছেন। আমাকে দেখতে চান না বলেই তিনি আমার বাবা-মা, পরিবারের সবাইকে যে দিন হত্যা করা হয়েছে সে দিন তিনি ভুয়া জন্মদিন পালন করেন। যেদিন আমি শোকে কাতর হয়ে থাকি। বিএনপি-জামায়াত, হেফাজত ধর্ম নিয়ে মিথ্যাচার করছে অভিযোগ করে শেখ হাসিনা বলেন, কিছু কিছু মহিলা হাতে ছোট ছোট কোরআন শরিফ নিয়ে তালিম দেওয়ার কথা বলে গ্রামের মহিলাদের কাছে যাচ্ছে। অথচ তারা সরকারের বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করছে।

কীভাবে হাতে কোরআন শরিফ নিয়ে টাটকা মিথ্যা কথা বলতে পারে? যারা কোরআন পোড়ায়, মসজিদে আগুন দেয়, মিথ্যা কথা বলে তারা কিসের মুসলমান। তিনি বলেন, সকালে ঘুম থেকে উঠে ফজরের নামাজ পড়ে, কোরআন তেলাওয়াত করে দিন শুরু করি। আমাদের কাছে নাকি ইসলাম হেফাজত থাকে না। অথচ যার দিন শুরু হয় দুপুর ১২টায় তার কাছে ইসলাম হেফাজত থাকে। দলের উপ-দফতর সম্পাদক মৃণাল কান্তি দাসের পরিচালনায় এ সময় উপস্থিত ছিলেন কাজী জাফরউল্লাহ, সতীশ চন্দ্র রায়, আবুল হাসানাত আবদুল্লাহ, ড. আলাউদ্দিন, বিএম মোজাম্মেল হক, আবু সাঈদ আল মাহমদু স্বপন, ফরিদুন্নাহার লাইলী, এইচএম খায়রুজ্জামান লিটন, এনামুল হক শামীম, সুজিত রায় নন্দী, এসএম কামাল প্রমুখ।

 

 

সোর্স: http://www.bd-pratidin.com/

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.