আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

দ্যা ডার্ক নাইট আই ফেল ইন লাভ উইথ দ্যা গার্ল (ছোটগল্প)

‘’Love killed my soul, My body seeks revenge’’

তুমি এ পর্যন্ত কতজন নারীকে স্পর্শ করেছো? প্রথম দেখাতেই এমন প্রশ্ন ছুড়ে দিয়েছে মেয়েটি। শত জনকে হতে পারে অথবা একজনকেও নয়। দূর থেকে ভালোবেসে যাবো একথা এখন আবেদন হারিয়েছে, বর্ষা। একজনকে ভালোবাসলে বা স্পর্শ করলে অন্যজনকে করা যাবে না এ কথাও এখন সেকেলে। ভালোবাসার মানুষকে স্পর্শ করা মানে নারীকে শরীরী দৃষ্টিতে দেখা নয়।

স্পর্শ আর ভোগ দখল এক অর্থ বহন করে না। জানো, আমি একটি ছেলেকে ভালবাসি। ওহ তাই । কে সে ? নাম কি তার? তন্ময় । তন্ময়কে আমি অনেক ভালবাসি ।

কিন্তু ওর সাথে রিলেশন পেনডিং। মনে হয় টিকবে না। আন্ডারস্টান্ডিং হয় না। রিলেশন পেন্ডি মানে কি,বর্ষা? সর্ম্পক আবার পেন্ডিং থাকে কিভাবে? সম্পর্ককে আবার ঝুলিয়ে রাখা যায় কিভাবে? মানুষের সাথে মানুষের সর্ম্পক হবে মানবিক। আমি ওর সাথে ব্রেক আপ করতে চাই ।

ওকে দুরে সরিয়ে রাখতে চাই। কিন্তু ছেলেটি আমাকে ইমোশনালি ব্লাকমেইল করে। হাত পা কাটে। নিজের ক্ষতি করে। আমি তিন চারটি প্রেম করতে চাই ।

অনেকেই তো ২/৩ টা বয়ফ্রেন্ড চালায়। ওমা.!!! মেয়ে কি বলে এসব। এক সঙ্গে তিন চারটি প্রেম। এ যুগের ছেলেরা তো এত বোকা নয় । আমার হাসি পায়।

কেন জানিনা। তবে একটা পর্নোগ্রাফি কেস মনে পড়ে গেল। একই মেয়ের দুই বয়ফ্রেন্ড মিলে তাকে র্ধষণ করে। তাহলে কি এসব কারণেই তা হচ্ছে? ২য়………………….. আচ্ছা তুমি কি কোন মেয়ের সঙ্গে সেক্স করেছো। নাকি ভার্জিন।

ওহ গড..!!!!কি আজিব প্রশ্ন করে মেয়েটি। হাসি আটকাতে পারি না। এ যুগে তো খাদ্যের পরে বহুল বিক্রিত পণ্য সেক্স। চাইলেই হাতের নাগালে পাওয়া যায়। এ যুগে তো ভার্জিন শব্দটি ক্রমশ তার গুঢ় অর্থ হারাচ্ছে।

আমি বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সেক্স করতে চাই। শুনেছি বিয়ের পরেও স্বামীরা নাকি লয়েল থাকেনা স্ত্রীর প্রতি। তাহলে আমার থেকে কি লাভ বলো? সর্ম্পক ঠিক হলে আমি বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সেক্স করবো। সেক্স!!! বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে। মেয়ে বলো কি !!তাহলে কি বয়ফ্রেন্ডের সঙ্গে সবকিছু করা জায়েজ।

তাহলে কি এতগুলো বছর প্রেম না করে ধরা খেলাম। নাহ,তাহলে তো প্রেম করতেই হবে। স্কুললাইফে মেয়েদের মধ্যে একটা ধারণা লক্ষ্য করতাম আর তা হলো, শরীর একজনকেই দিতে হয়। বৈধ সম্পর্ককেই কেবল মাত্র শরীর দিয়ে ভালবাসতে হয়। শরীর দেওয়াটা ছিল তখন শর্ত সাপেক্ষ ।

বিবাহ করার শর্তে একটি ছেলে একটা মেয়ের শরীরে অবগাহনের সুযোগ পেত। এখন আর বিবাহের শর্ত লাগে না। ভালবাসার আবেগে পড়ে ছেল-মেয়ে স্বেচ্ছায় শরীরী প্রেমে হাবুডুবু খায়। আবার একটু কনজারভেটিভ মেয়ে হলে ছেলেটি নানা উপায়ে মেয়েটার শরীর নিয়ে নেয় ধীরে ধীরে। তারপর মেয়েটাকে অন্ধকারে রেখে একদিন বিয়ে করে অন্য মেয়েকে।

সতীত্বের ধারণাটা খুব অদ্ভুত। একটা ভার্জিন মেয়ে যদি তার ভার্জিনিটি প্রেমিককে বা অন্য কাউকে দেয়, যে পুরুষ সেটা পেল তার কাছেও মেয়েটা আর ফ্রেশ থাকে না। তখন ছেলেটা বিয়ের জন্য আর একটা ফ্রেশ মেয়েকে খোঁজে যে মেয়েটারও ভার্জিনিটি হয়ত নিয়ে চলে গেছে আর একটা ছেলে। ৩য়………………… জানো, আজকে আমার মন খুব খারাপ। আমাকে কোথাও ঘুরতে নিয়ে চলো।

ওকে চলো। পড়ন্ত বিকালে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে যেতে বরে হলাম দুজন। সময়ে কিভাবে যে কেটে গেল। বুজতে পারেনি। তখন আইনস্টাইনের আপেক্ষিক তত্বের কথা মনে পরে গেলো।

রাত অনেক হয়ে গেলো। আমার হোস্টেলের গেইট আটকে দিবে এখন। কি করি বলো। তোমার রুমে কি থাকা যাবে ? মানে কি? তুমি আমার রুমে থাকবে। হমম,, থাকা যাবে।

তাহলে চলো। মধ্যরাত। এবার ঘুমানোর পালা। পাশে সুন্দরী একটা মেয়ে । আবেগী মন আনচান করে।

শিশির, আমাকে একটু ঘুম পাড়িয়ে দেওনা। আমার মন ভালো নেই। আচ্ছা দিচ্ছি। শোন, আমাকে এভাবে স্পর্শ করো না তুমি থাকতে পারবেনা। কি বলো।

সত্যিই কি তাই। হতে পারে। জীবনে এই প্রথম কোন নারী আমার পাশে সারারাত থাকবে। আগুনে গলে যেতেও পারি। এই অবিশ্বাসী অন্ধকার রাত কখনও কখনও পরকে আপন আবার আপনকে পর করে দেয় ।

রাত বাড়তে থাকে। ঘুমের ওষূধ খেয়েও ঘুম আসেনা। চারদিকে নীরবতা। রাত কেটে ভোরের আলো জানালায় এসে পড়লো । ঘুম ভেঙ্গে গেলো দুজনের।

আসলে মুগ্ধতা, ভালোলাগা, ভালোবাসা, শরীরী সম্পর্ক এসব কোনো সংস্কার মানে না। এদের চলার পথ নিজস্ব ও অবারিত। ৪থ………………… জানো,, সেদিনের রাতের পর থেকে আমি তোমার প্রতি অনেক দুর্বল হয়ে পড়েছি। এসব কি বলো বর্ষা। একটি রাত তাহলে আপনকে পর আবার পরকে অনেক আপন করে নিতে পারে।

রাত সত্যিই অবিশ্বাসী!! বর্ষা, আমি চাই তোমার আমার সম্পর্ক আজীবন টিকে থাকুক। নিঃসঙ্গতা-শূন্যতা দূর করতে তোমার মত একজন বন্ধু দরকার আমার। শিশির, আমি সারাজীবন তোমার পাশে থাকতে চাই। আমি তোমার ক্লান্ত বিধ্বস্ত জীবনে প্রাণ ফিরিয়ে আনতে চাই। আমি তোমাকে নিয়ে স্বপ্ন দেখতে চাই।

সত্যিই বলছো বর্ষা। আমারতো বিশ্বাস হয় না। তুমি আমার পাশে থাকবে তো? নাকি সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাবে। অন্য কারো ভালবাসার জোয়ারে ভেসে যাবে । শোন, শিশির।

আমাকে অনেক ছেলে পছন্দ করে। টাংকি মারতে চায়। যাকে তাকে ভালবাসা যায় না। হমম, ঠিক বলেছো মেয়ে, ভালবাসার বিলাবার জিনিস নয়। তবে যে গাছের মালিক থাকেনা সে গাছে তো ঢিল ছোড়বেই।

যাহোক মনেরেখো, বেশিরভাগ পুরুষের গন্তব্যই নারীর শরীরের দিকে। প্রথমে প্রেম-ভালোবাসার জয়গান। পরে শরীর দখল। ৫ম......... শোন, আমি তন্ময়ের সাথে বের হচ্ছি। আচ্ছা যাও।

তাড়াতাড়ি এসো। বুকের মধ্যে হাহাকার করে ওঠে। ভালবাসার মানুষটি যখন চোখের সামনে অন্য কাউকে নিয়ে ঘুরে বেড়ায় । এর চেয়ে আর বড় কষ্ট কি হতে পারে। তাহলে একটি মেয়ে কি দুজনকে একসঙ্গে ভালবাসতে পারে? বর্ষা, আমি তোমার থেকে দুরে চলে যেতে চাই।

অন্য কোথায়। এ জটিল ত্রিভুজ সর্ম্পকের মাঝে আমি থাকতে চাইনা। না তুমি যাবে না। আমি তোমাকে ছাড়া থাকতে পারবোনা। তাহলে দুজন মানুষকে তুমি কিভাবে ভালবাসবে।

আমি ওর সাথে থাকতে চাই না। ছেলেটি আমাকে ইমোশনালি ব্লাকমেইল করে। আমাকে একটু সময় দেও। জানো,, ওর সাথে বের হই ঠিকই কিন্তু কোন অনুভুতি নাই ওর প্রতি। ওর হাতের স্পর্শ আমার ভাল লাগে না।

অথচ তুমি আমাকে জড়িয়ে রাখলে কত ভাল লাগে। তোমার সাথে ঘুরতে ভালো লাগে। ৭ম………. আজকে তোমার সাথে বের হবো। আমাকে কোথায় নিয়ে যাবো বলো। তোমাকে নদীর তীরের কাশবনে নিয়ে যাবো।

ইট পাথরের চারদেয়ালে বন্দী মনটাকে একটু সময়ের জন্য খোলা হাওয়ায় ছেড়ে দিয়ে প্রকৃতির কোমলতাকে স্পর্শ করতে চাই কাশবনে গিয়ে। জানো, বুড়িগঙার ওপারে কাশফুলে ছেয়ে গেছে। সেখান থেকে ঢাকা শহরের দালানগুলো কাশফুলের উপরে ভাসমান মনে হয়। আজ তোমাকে নিয়ে কাশবনে হারিয়ে যাবো। ৬ষ্ঠ…………. তুমি আমাকে একটু ভালোবাসনা।

আমার সাথে শুধু মজা নেও। আমাকে ঠিকমত কল দেও না। দেখ বর্ষা, আমি ব্যস্ত মানুষ । জীবনের দৌড়ে অনেকটা ক্লান্ত, অনেকটা বিধ্বস্ত। তাই অনেক কিছু মনে না নিতে পারলেও মেনে নিতে হয়।

বর্ষা,তোমাকে একটা কথা বলি,শরীরী টানের চেয়ে মনের টান অনেক বেশি শক্তিশালী। মন সেদিকে যেতে চায়, কেউ তাকে ঠেকিয়ে রাখতে পারে না। মনের দৌড়ের কাছে পৃথিবীর সবকিছু পরাভূত হয়। তখন শরীর, শাড়ি, গহনা, গাড়ি-বাড়ি নগদ টাকা সবকিছু পরাজিত হয়। শরীরের আবেদন ক্ষণিকের।

এটা সাময়িক উত্তেজনা ও আবেগ মাত্র। একজন প্রতিবন্ধী পুরুষও সুযোগ পেলে নারীর শরীর খুবলে খাবার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু নারীকে ভালোবাসতে পারে কজন বলো। ভালোবাসার সুখ আর শরীরীসুখ তো এক নয়। একজন কলগার্ল শরীর দেয় সবাইকে, কিন্তু ভালোবাসে একজনকে।

শরীরী অত্যাচারের মধ্যেও মন কাঁদে কেবল ভালোবাসার মানুষটির জন্য, যে প্রেমিক হয়তো তাকে কখনো স্পর্শ করেনি, অথবা জানে না তার প্রেমিকা টাকার বিনিময়ে শরীর উচ্চমূল্যে বিক্রি করে। ৯ম………………… মাস দুয়েক পরে রাঙ্গামাটি । আহ ! কত সুন্দর শহর। শহরের প্রেমে পড়তে ইচ্ছে করে। এত সুন্দর প্রকৃতির মাঝে ইচ্ছে করে হারিয়ে যাই।

হোটেলের বারান্দায় দাড়িয়ে কাপ্তাই লেকের অপার দৃশ্যে মন ভরে যায়। দিন গড়িয়ে রাত আসে… এই শোনো, আমার না বমি বমি আসতেছে। বলো কি? আমি মনে হয় প্রেগন্যান্ট হয়ে গেছি। আচ্ছা তোমার জন্য একটা প্রেগন্যান্সি টেস্ট নিয়ে আসবো রাতে। তোমার মন খারাপ কেন?? এই দেখো টেস্ট রিপোর্ট।

আমি প্রেগন্যান্ট । বলো কি তুমি। আমার তো বিশ্বাস হয় না। তবে কে সেদিন ওষুধ কাজ করেনি। তাহলে কি প্রকৃতির অসীম ক্ষমতার কাছে বিজ্ঞানও ব্যর্থ।

মাথায় আকাশ ভেঙ্গে পড়লো। অণাগত সন্তানকে কি সমাজ মেনে নিবে? নাকি তাকে নিষ্ঠূরভাবে হত্যা করতে হবে। না, তাহ হতে পারে না। মানুষ হত্যা তো মহাপাপ। তাও আবার একটি নিষ্পাপ মানুষকে।

যে মানুষটি এ ধরণীর অপার সৌন্দর্য দেখার অপেক্ষায় প্রহর গুনছে। ‘যে ব্যক্তি কোনো মানুষকে হত্যা করল, সে যেন গোটা মানব জাতিকেই হত্যা করল। অনুরূপভাবে কেউ যদি একজনের প্রাণ রক্ষা করে, তাহলে সে যেন গোটা মানবজাতিকেই রক্ষা করল। ’(কুরআন৫:৩২)। বর্ষা, আমরা কি করবো? আমাকে হাসপাতালে নিয়ে যাও।

আমি অ্যাবরশন করতে পারবোনা। ওষুধ কিনে দেও। কিন্তু ওষুধে যদি কাজ না হয়? ওষূধে কাজ না হলে আমি মারা যাবো। তবুও অ্যাবরশন করবো না। বর্ষা, তার চেয়ে তুমি আমি বিয়ে করে ফেলি।

সমাজের কাছ থেকে স্বীকৃতি আদায় করি। তবু্ও একটি প্রাণ হত্যার পাপ থেকে তো বাঁচতে পারবো। না আমি পারবো না। সন্তানকে বহন করার মতো সামর্থ আমার নাই। বয়স সবেমাত্র ১৯ শেষ ।

আমি এ সন্তানের ভার নিতে পারোবনা। তাছাড়া এটা র্ধর্মের দৃষ্টিকোণ থেকে ঠিক না বিয়ের আগে সন্তান নেওয়া। তাহলে কি র্ধমের বেড়াজালে এ সন্তানকে হত্যা করতে হবে? কিন্তু র্ধমে তো জীব হত্যা মহাপাপ। অদৃশ্য পাপবোধ আমাকে প্রতি সেকেন্ডে ধংশন করছে। ১০ম…. আমাকে মেডিকেলে নিয়ে চলো তাড়াতাড়ি।

আজকে নয় কালকে যাবো। অফিস থেকে ছুটি নিয়ে নেই। আমার জীবন ঝুকিতে আর তুমি অফিস নিয়ে ভাবছো। ভাল, আমার প্রতি তোমার কোন ভালবাসা নেই। আমাকে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না।

এরকম কেয়ারলেস মানুষকে নিয়ে জীবন চলে না। ওকে,আমি কালকে তোমাকে মেডিকেল নিয়ে যাবো। ১১তম……. শিশির, আমি আর তোমার সাথে থাকবো না । আমি তন্ময়ের সাথে থাকবো। আমি ওকে ভালবাসি।

তন্ময় আমাকে অনেক ভালবাসে। তাই,আমি কি তোমাকে ভালবাসি না। হতে পারে জীবনের দৌড়ে ব্যস্ত থাকায় পুরোপুরি পারি না। শোন বর্ষা, একটা স্টেজে এসে প্রতিটি নারী পুরুষের ভালবাসার ধরন পাল্টে যায়। শৈশবের প্রেম একধরনের কৈশোরের আরেক রকম।

যৌবনের প্রেম আলাদা, কমর্জীবীদের প্রেমের ধরন আলাদা। ওকে,তুমি যেটা ভালো মনে করো। যেখানে তুমি হ্যাপি থাকবে সেখানেই তোমার যাওয়া উচিত। কেউ চলে যেতে চাইলে তাকে ধরে রাখা যায় না। বি হ্যাপি………… ১২ তম………. অবাক লাগে, এত কাছের ছিলাম আমরা দুজন।

সামান্য কিছু ভুল আর মনোমালিন্যর কারণে ধীরে ধীরে আমরা দুরে সরে গেছি। একটা সময় ছিলো যখন একজনের বিপদে আরেকজন এগিয়ে গিয়েছি। আজ দুজন পরিচত স্ট্রেঞ্জার। একই শহরের একই গলিতে মাত্র ২০ গজ দুরত্বে থাকি । তবুও কারো সঙ্গে দেখা হয়না, কথা হয় না।

হয়ত আর কোনদিন দেখা হবে না। পাশ দিয়ে হেটে গেলেও কেউ কাউকে ডাকবোনা। এই শহরেই হয়ত দুজন বাস করবো, তবুও কারো সঙ্গে কথা হবেনা । ১৩তম……. প্রতিটি মানুষের জীবনে সম্পর্ক হয়তো তৈরি হয় সময়ের চাহিদা অনুযায়ী ,আবার কিছু কিছু সর্ম্পক রক্ষা হয় শুধু দায়বদ্ধতা থেকেই। আসলে মানুষ খুব আবেগ প্রবণ প্রাণী।

আবেগের কারণেই হাজার খারাপ ব্যবহার করলেও মা সন্তানের জন্য কাঁদে,এই আবেগের জন্যই সন্তান পথ চেয়ে বসে থাকে কখন বাবা ঘরে আসবে। সেই আবেগের জন্যই হয়ত কোন স্ত্রী অপেক্ষায় থাকে সন্ধ্যা বেলা তার ভালবাসারী স্বামী এসে তার অভিমান ভাঙ্গাবে। আমরা ভুলে যাই, যে মানুষটা আজ আমাকে অনেক কষ্ট দিচ্ছে,হয়ত সেই মানুষটা কোন একদিন আমাকে ভাল কোন সময় সুন্দর কোন স্মৃতি দিয়েছে। যে মানুষটা আজ বলছে, আমি তোমাকে আর ভালবাসিনা। সেই মানুষটা হয়ত কোনদিন আমাকে ছাড়া একটি মুহূর্তও চিন্তা করেনি।

১৪তম…………………. ঢাকা শহরের নিত্য দিনের বদলাতে থাকা আবহাওয়ার মতোই এখন বদল যাচ্ছে সম্পর্কের ধাঁচ। গেল কয়েক বছর ধরে এই শহরে আগের মত মানসিকতা, লংটার্ম রিলেশনশিপ, গভীর সখ্যতা সবই এখন ব্যাকডেটেড হয়ে যাচ্ছে। যা ঘটছে তা হলো ক্ষনিকের পরিচয়, তারপর চেনা আলাপ কিংবা হয় প্রেম নয় বন্ধুত্বের সুতো ধরে অনেকটা গভীরে চলে যাওয়া একে অপরের মনের। এমনকি শরীরেরও । তারপর একদিন বিনা নোটিশে হাওয়া হয়ে যাওয়া।

এটাই এই শহরের প্রেম কিংবা বহুগামিতা । কেউ কেউ এক সম্পর্ক বেশিদিন টেনে নিয়ে বোঝা বাড়াতে চাইছে না, আবার কেউ এমনিই বোর হয়ে গেছেন যে, পেতে চাইছেন ভিন্ন স্বাদের মানুষের সান্নিধ্য। কাশফী নামে আমার এক ক্লাসমেট ছিল। একহালি ছেলের সঙ্গে প্রেম করে বেড়াতো। যত উপহার পেয়েছে,তা দিয়ে একটি দোকান দেয়া যায়।

একদিন তাকে জিজ্ঞেস করলাম ,একসঙ্গে এত মানুষকে কীভাবে ভালোবাস? মেয়েটির সোজা সাপটা জবাব,আমি তো কাউকে কখনও বলিনা যে,আমি তোমাকে ভালোবাসি, শুধু তাদের সঙ্গে একটু ভালোভাবে কথা বলি। একে তারা যদি ভালোবাসা মনে করে,তাহলে আমার করার কিছু নেই। উড়ো সম্পর্কের নকশি কাঁথার ভীড়ে তাই কোন বিশেষ একজনকে নিয়ে এই শহর এই সময় এখন আর ভাবছে না, বরং ব্ল্যাক বোর্ডে চক দিয়ে যখন যে নাম লেখা কিংবা যখন তখন মোছাটাই বেশি পছন্দ। তাই প্রেমগুলো ঠিক যেন শীতকালে দূর্বা ঘাসের ডগায় ভোরের আলোয় চিক চিক করা শিশির বিন্দুর মতো……………… উৎসর্গ: আমার ভালবাসার ময়নাপাখিকে। অনেক কাছে থেকেও যে অনেক দুরে।


অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.