আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নারীরা মাওবাদী দলে ভিড়ছেন কেন

ভারতের ওডিশা রাজ্যের এক সাধারণ আদিবাসী মেয়ে রেবেকা। আর দশটা মানুষের মতো স্বাভাবিক জীবন-যাপনের স্বপ্ন ছিল তাঁর চোখে। সামাজিক বঞ্চনা, নিপীড়ন তাঁকে অস্ত্র হাতে তুলে নিতে বাধ্য করেছে। সমাজ বদলের অঙ্গীকারের প্রলোভনে সাড়া দিয়ে তিনি ভিড়েছেন মাওবাদীদের দলে।
জীবনের চাওয়া যেখানে শৃঙ্খলিত, পাওয়ারও কিছু নেই।

সেখানে সশস্ত্র বিপ্লব করে যদি কাঙ্ক্ষিত অধিকার আদায়, সেটাই তো লাভ। এমন আশা নিয়ে রেবেকা এখন ওডিশার কান্ধামাল জেলার একটি মাওবাদী দলের স্থানীয় কমান্ডারের দেহরক্ষী।
ভারতে মাওবাদী দলগুলোতে রেবেকার মতো নারীর সংখ্যা বেড়েই চলেছে। এসব দলে নারী ও পুরুষের সংখ্যা এখন প্রায় কাছাকাছি। প্রশ্ন উঠতে পারে, মাওবাদীদের দলে এত নারীর অন্তর্ভুক্তির কারণটা কী? গতকাল বুধবার বিবিসি অনলাইনে এ ব্যাপারে একটি অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে।


২০১০ সালে মাওবাদীদের সঙ্গে যোগ দেন রেবেকার বোন। গ্রেপ্তার হওয়ার পর পুলিশের হেফাজতে নির্মম গণধর্ষণের শিকার হন তিনি। তাঁর ভাইও পুলিশি হেফাজতে থাকা অবস্থায় কোনো এক অজানা কারণে মারা যান। এসব ঘটনাই রেবেকাকে এ পথ বেছে নিতে বাধ্য করেছে।

রেবেকা স্পষ্ট কণ্ঠে বলেন, বিপ্লবে যোগ দেওয়া ছাড়া আমার আর কোনো উপায় ছিল না।

এখন পেছনে ফিরে তাকানো আর সম্ভব নয়।
বিশ্লেষকদের মতে, বড় বড় বাণিজ্যিক প্রকল্পের কারণে নিজ ভূমি থেকে উত্খাত হওয়া, সীমাহীন দারিদ্র্য, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে নির্যাতনের ভয়—এ ধরনের নানা কারণে অনেক নারী মাওবাদী দলে যোগ দিচ্ছেন।
পুলিশের দাবি, কোনো আদর্শগত কারণে নয়, বরং মাওবাদী দলগুলোতে নারীদের পুরুষ বিদ্রোহীদের ঢাল হিসেবে ব্যবহার করা হয়। লড়াইয়ের সময় তাঁদের সামনের সারিতে রাখা হয়, যাতে পুলিশকে লক্ষ্যভ্রষ্ট করা সম্ভব হয়।
তবে রেবেকাদের বেলায় ব্যতিক্রমও রয়েছে।

যৌন নিপীড়ন ও বিরামহীন লড়াইয়ের ক্লান্তি সইতে না পেরে অনেক নারীই দল ছেড়ে দিচ্ছেন।

বিহারের সাবেক বিদ্রোহী কমান্ডার রামপতি রঘুর ভাষ্য, ‘আগে অনেক নারী তাঁদের ও পরিবারের সদস্যদের ওপর নির্যাতনের প্রতিশোধ নিতে আমাদের সঙ্গে যোগ দিতেন। কিন্তু এখন পরিস্থিতি পাল্টে যাচ্ছে। কিছু নারী আবার তাঁদের নেতাদের হাতে লাঞ্ছনারও শিকার হচ্ছেন। এসব কারণে অনেকে দল ছেড়ে দিচ্ছেন।


রাঁচির সাবেক মাওবাদী যোদ্ধা রেশমি মাহলি জানান, অভাবের তাড়নায় ২০১১ সাল পর্যন্ত তিনি একটি মাওবাদী দলের সক্রিয় সদস্য ছিলেন। এখন তিনি রাঁচিতে একটি চায়ের দোকান চালান।
রেশমি বলেন, ‘দলে থাকাকালীন এক সহযোদ্ধার সঙ্গে আমার বিয়ে হয়। আমাদের একটি সন্তানও হয়। এর পর থেকেই আমার জীবন বদলে যেতে থাকে।

সন্তানকে নিয়ে এভাবে প্রতিদিন লুকিয়ে থাকা, এখান থেকে সেখানে পালিয়ে বেড়ানো এ জীবন আমি চাইনি। শান্তিতে বাঁচার জন্য আমি ওই পথ ছেড়ে দিয়েছি। ’

সোর্স: http://www.prothom-alo.com

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।