আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

প্রসঙ্গ সিরিয়া



কোন দেশে যখন বিদ্রোহ হয় তখন সেই বিদ্রোহ দমন করা ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক সরকারের নৈতিক দায়িত্ব, বিদ্রোহের অনেক রকম ফের আছে । বিদ্রোহ বেশিরভাগই ভূখণ্ড ভাগ করে স্বাধীনতার জন্য হয় । ফলে দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় বিদ্রোহ দমন খুব স্বাভাবিক ঘটনা । আবার বিদ্রোহ অত্যাচারী সরকারের বিরুদ্ধেও হয়ে থাকে । সেই বিদ্রোহে সকল জনগনের অংশগ্রহণ থাকলে সেটা হয় জনরোষ , জনরোষ এ সরকার পতন হলে তা হয় গন অভ্যুথ্যান ।

বেশির ভাগ বিদ্রোহেই পররাষ্ট্র কতৃক মদদ থাকে । সেই মদদে উদ্যেস্য থাকে , স্বার্থ থাকে । প্রেক্ষাপট সিরিয়া । সিরিয়ার ক্ষমতাসীন আসাদ এর বিরুদ্ধে বিদ্রোহ হচ্ছে । সেই বিদ্রোহ জনরোষ নাকি পররাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষাকারী বিদ্রোহ ইতিমধ্যেই বিশ্ববাসী জেনেছে ।

আসাদ বিরোধী বিদ্রোহ যদি জনরোষ হত তবে এতদিনে বিরোধী পক্ষ ক্ষমতায় থাকতো । জনরোষ তখনই হয় যখন সরকার জনস্বার্থের অবস্থান থেকে রাষ্ট্র পরিচালনা করে না , রাষ্ট্র হয় জনগণকে নিপীড়ন করার একটি যন্ত্র । জনগণ তখন সেই নিপীড়ন যন্ত্রের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করে । সিরিয়ায় সেই রকম জনরোষ দেখা যাই নাই । দেখা গেলে সেখানে মার্কিন ও পশ্চিমাদের হস্তক্ষেপের প্রয়োজন পড়তো না ।

জনগণই আসাদ সরকারকে এতদিনে উচ্ছেদ করে দিত । সিরিয়ার বিদ্রোহ একটি মার্কিন-পশ্চিমা ষড়যন্ত্র । সিরিয়ার জনগণও সেটা বুঝে । বুঝে না আমেরিকা ইউরপের তাবেদাররা । অনন্য বিদ্রোহের সাথে সিরিয়ার বিদ্রোহের পার্থক্য হোল , সিরিয়ার বিদ্রোহ কোন জাতীয়তাবাদী বিদ্রোহ কিংবা স্বৈরাচার বিরোধী বিদ্রোহ নয় ।

সেই বিদ্রোহ পররাষ্ট্রকে দেশের সম্পদ লুট করতে সহায়তাকারী কিছু দালালদের দালালী । ধরে নিলাম আসাদ দীর্ঘ দিন ক্ষমতায় কিন্তু জনগনতো আসাদ ছেড়ে আমেরিকার পক্ষে যাবে না । সিরিয়ার জনগণ আসাদকে মেনে নিবে কিন্তু সিরিয়া আফগানিস্থান , ইরাক হবে সেটা মেনে নিবে না । ফলে জনগণ যখন দেখল এই বিদ্রোহ জনগণের স্বার্থে নয় এই বিদ্রোহ আমেরিকা ও পশ্চিমাদের স্বার্থে তখন তারা নিজেদের গুটিয়ে নিল আর বিদ্রহিরা জন সমর্থন হারিয়ে আমেরিকার সহযোগিতার দিকে তাকিয়ে রইলো । আমেরিকার অভিযোগ সিরিয়ায় বিদ্রোহী দমনে রাসায়নিক অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে ।

বিদ্রোহীরা যদি সিরিয়ায়ার সম্পদ ( তেল, গ্যাস ) আমেরিকার হাতে তুলে দিতে চায় তাহলে সেই বিদ্রোহ দমনের জন্য সরকার তার সর্বশক্তি নিয়োগ করবে । দেশ ও দেশের সম্পদ রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব । সিরিয়া সরকার তার দায়িত্ব পালন করছে । আমেরিকা আরব বিশ্বের সম্পদ দখলের নেশায় মেতে উঠেছে । নিজ দেশের অর্থনৈতিক মন্দা অন্য রাষ্ট্রের সম্পদ দিয়ে পুরন করার নীতি গ্রহন করেছে ।

লুটপাটের কিছু ভাগ পচিমাদের দিয়ে তাদেরকেও সহযোগী বানিয়েছে । আমেরিকায় রাসায়নিক অস্ত্র সহ সব ধরনের পারমাণবিক অস্ত্র রয়েছে । বিশ্বকে নিজের করায়ত্ত করতে চাচ্ছে । সেটা হিটলারও চেয়েছিল । পারেনি ।

আমেরিকাও পারবে না । তার প্রমান সিরিয়া আক্রমণের প্রশ্নে আমেরিকাকে থামতে হয়েছে । একসময় পিছাতে হবে । সাম্রাজ্যবাদী রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক দানবের হাত থেকে বিশ্বকে রক্ষা করতে লেনিন - মাও সেতুং - ফিদেল কাস্ত্রোদের আবির্ভাব হয়েছিল । সময়ের প্রয়োজনে আবারও সেই ধরনের নেতার আবির্ভাব হবে ।

রাশিয়ার পুতিন তার একটি ছোট উদাহরন ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।