আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

বারবার ১/১১!

সরকার কি ১/১১ এর মত আরো একটি অধ্যায় পুনরায় বাংলাদেশের মাটিতে ফিরে আসবে বলে নিশ্চিত? বিগত কয়েক মাস ধরে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে শুরু করে গুরুত্বপূর্ণ আসন অধিকার করে আছেন এমন অনেক মহি-রুহু বার বার ১/১১ এর জুজুর ভয় দেখাচ্ছে ও ছড়াচ্ছে, সরকার কি এমন কোন আতাত কারো সাথে করে রেখেছে? এবং উদোর পিন্ডি বোধোর ঘাড়ে চাপানোর জন্য তারা পূর্ব থেকেই মিথ্যাচার শুরু করেছে? ১)সরকার বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ভয় দেখাচ্ছে যে, ১/১১ আসলে আপনারা আবার বন্দী হতে পারেন তাতে আপনাদের হ্রদরোগে মৃত্যু হতে পারে অথবা সকল সম্পত্তি বায়েজাফত হতে পারে সুতরাং, হে ব্যবসায়ী গন আপনারা যেমন ইচ্ছা তেমন ভাবে ব্যবসা করুন এবং আমাদের কে সাহায্য করুন আপনাদের পত্রিকা টিভি সহ নানা ফোরামে আমাদের গুনগান করুন যাতে ১/১১ না আসে! ২)সরকার বিরোধীদলের প্রধান, তার পূত্র ও আত্মীয় স্বজন সহ এমপি প্রাক্তন মন্ত্রী ও বিভিন্ন ব্যবসার সাথে জড়িত হাই প্রোফাইল ব্যক্তি বর্গকে মনে করিয়ে দিচ্ছে; লাল দালানে বিষ প্রয়োগে হত্যার সম্ভাব্যতা,মেরুদন্ডের হাড় ভাঙ্গার বেদনা , BSMMU এ তে স্ট্রেচারে করে যাতায়াতের লজ্জাকর স্মৃতি,খত লেখার অসহায়ত্ব,এম্বুলেন্সে করে নাটকীয় ভাবে বিমান বন্দর ত্যাগ করার বিড়ম্বনা,শুকিয়ে কাঠ হয়ে যাওয়া সোমালীয় স্মৃতি, সুতরাং সাবধান সামনে ১/১১, খমতায় না আসলেন কিন্তু খেয়ে-পরে ব্যবসা-বানিজ্য করে ভালোইতো আছেন, বিভিন্ন দেশ ভ্রমন করছেন আত্মসুদ্ধির জন্য ওমরায় যাচ্ছেন, উন্নত চিকিৎসার সুযোগ নিচ্ছেন, মন্দ কি? আমাদের অধিনে নির্বাচন মেনে নিন, আরো পাঁচ বছর থাকি; তার পরে আসেন, গনতন্ত্র-ফনতন্ত্র ভুলে যান.. to be our partner, be shadow government...সব প্রটোকল ই তো পাচ্ছেন কেবল এয়ার পোর্টের লাউঞ্চে আমাদের নিরাপত্তা বাহিনী আপনাদের ছোট খাটো আপমান করছে, ঐ টা কিছু না!! ১/১১ আসলে তো ঐ লাউঞ্চের ধারে কাছেই যেতে পারবেন না ! ৩)সরকার দেশের বুদ্ধিজীবী মহল কে ১/১১ এর কথা বারবার বলে ভয় দেখাচ্ছে ও হুমকি দিচ্ছে কেননা গুটিকয়েক ব্যক্তিই মানুষকে প্রকৃত গনতন্ত্র্র ও সুশাসনের কথা অকপটে বলার সৎসাহস রাখে সেই সমস্ত আশাবাদী মানুষদের গনতন্ত্র নস্যাতের ভয় দেখানো হচ্ছে এবং তাদের গায়ে কালিমা লেপন করে দেশে একটি নিরপেক্ষ নাগরিক সমাজ প্রতিষ্ঠার পথ রুদ্ধ করার চেষ্টা চালাচ্ছে। ৪) সরকার তাদের কৃত দুর্নীতি দুঃশাসন অগনতান্ত্রীক আচরন, তাদের অযোগ্যতা ও অপরিণামদর্শিতার কারনে দেশের আপামর মানুষের যে ক্ষতি করেছে, তা সেনাবাহীনীর সকল আচরনের চেয়ে শ্রেষ্ঠ ও ভালো বলে প্রচারনা চালাচ্ছে,দেশের সেনাবাহিনী কে অকারন রাজনীতিতে টেনে আনছে,১/১১ এর কথা বলে বার বার সেনাবাহীনিকে ভিলেনে পরিনত করা হচ্ছে,মাঝে মাঝেই দেখা যায় সেনাবাহিনীর অনুষ্ঠানগুলোতে তারা হেসে হেসে জুস পান করছে,গনতান্ত্রীক আচরনে কুশল বিনিময় করছে! এই সেনাবাহিনীকে বার বার কূল-শিত করার পেছনে রয়েছে সরাসরি রাজনৈতীক হস্তখেপ। ৫) ১/১১ এর কথা বলে সরকার নিজেদের তক্তপোষকে আরো আরামদায়ক করতে তথাকথিত গনতান্ত্রিক প্রভূদের সহানুভূতি অর্জনের চেষ্টা করছে। সরকার যে ভাবেই হোক পূনরায় খমতা চাচ্ছে। যে জনগন ২০০৮-এ আওয়ামীলীগকে বিপুল ভোটে দেশ শাসনের ভার দিয়েছিলো তারা যেনতেনো ভাবে সেই দলের পুনরায় ক্ষমতায় যাওয়ার চেষ্টার কথা কল্পনাই করতে পারেনি , জনগন সুশাসনের আশায় খালেদা-নিজামী-তারেক গং দের দুঃশাসন থেকে উপসম চেয়েছিল কিন্তু সরকার পৃথিবীর এই সময়ে বাংলাদেশের নতুন প্রজন্ম সহ সকল মানুষের সাথে চরম প্রতারাণা করেছে।

১) সংসদকে কার্যকর করার ক্ষেত্রে সংসদের ডেপুটি স্পিকারের পদ সহ আরো বিশেষ কিছু পদে বিরোধীদের নিয়োগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি সরকার ভঙ্গ করেছে। সংসদ কে কার্যকর করার খেত্রে সরকারের তেমন সদিচ্ছা লক্ষ্য করা যায়নি, সংসদের ভেতরে ও বাহিরে দেশের সব শ্রেণী-পেশার মানুষের সাথে আলোচনার ভিত্তিতে সংবিধানের পঞ্চদশ সংশোধনী প্রনয়নের কথা থাকলে ও সরকার স্বৈরাচারী মনোভাব দেখিয়েছে। পরবর্তী দুটো নির্বাচন তত্বাবধায়ক নিয়ন্ত্রিত হওয়ার আদালতী পরামর্শ থাকলেও সরকার সে পথ মাড়ায়নি বরং দেশের বিরজমান বাস্তবতায় উল্টোপথে হেটে সমগ্র জাতীকে আশু অস্হিতিশীলতার ভীতিকর অবস্হার ভেতর রেখে দিয়ে তাদের মানসিক শান্তিকে দীর্ঘদিন ধরে বিঘ্নিত করে যাচ্ছে। বৃহত্তর রাজনৈতিক সংষ্কারের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল কিন্তু যে সমস্ত বরেণ্য প্রবীণ নেতা সংষ্কারের ধারনায় ছিল তাদেরকে অর্ধচন্দ্র দেওয়ার মত করে রাজনীতি থেকে নিষ্ক্রিয় করে দেওয়া হয়েছে। কেবল ব্যক্তিগত আনুগত্যকে প্রাধান্য দিয়ে মেধা ও অভিজ্ঞতা যাচাই না করে এ হাজার সমস্যার দেশে মন্ত্রী পরিষদ গঠন করা হয়েছে এবং সে মন্ত্রী সভা অকার্যকর হিসেবে প্রমানিত।

২) দুর্নীতির বিরুদ্ধে তথাকথিত যুদ্ধ ঘোষনা করে ক্ষমতায় এসে সরকার নিজেদের দলীয় পরিচিতদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ গুলো একতরফা খারিজ করেছে এবং দুর্নীতি-দমন কমিশনকে করেছে ঢাল তলোয়ার বিহীন নিধিরাম সরদার। শেয়ার বাজার কেলেঙ্কারির তদন্ত রিপোর্ট সরকার চেপে গিয়ে বিচারের ব্যবস্হা তো করেইনি বরং এক মন্ত্রীর ভাষ্যমতে, শূটকির হাটে বিড়াল কে করেছিল চৌকিদার ,সরকারের প্রথম দেড় বছর পর্যন্ত বিদ্যুৎ ঘাটতির দীর্ঘ সমাধানের কোন পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি শেষে তাড়াহুড়ো করে নিজস্ব লোকজনদের দিয়ে আমদানী করেছে কুইক রেন্টাল নামক সাদা হতি যার ভার বহণ করতে নাভিস্বাস উঠে গেছে মধ্যবিত্ত শ্রেণীর। মাল্টিলেভেল কোম্পানীগুলোর অর্থ আত্মসাৎ,ঘটেছে দেশের ইতিহাসের সর্ব বৃহৎ ব্যাংক লোটপাট,দেশের সর্ববৃহৎ ব্যয়-বহুল স্হাপনা পদ্মা সেতু, যার সাথে জড়িয়ে আছ দেশের দক্ষিন পশ্চিমাঞ্চলের কোটি কোটি মানুষের ভাগ্যোন্নয়ন সেটি নিয়ে ছেলেখেলা করা হয়েছে পদক দেওয়া হয়েছে দেশপ্রেমী হিসেবে তাকে যার কারনে পিছিয়ে গেছে পদ্মাপাড়ের কোটি মানুষের কাঙ্খিত স্বপ্ন। দাতাগোষ্ঠী থেকে বারবার অভিযোগ করা হলেও সে বিষয়ে কর্ণপাত করা হয়নি, যখন বিশ্বদরবারে বাংলাদেশের মানসম্মান ধূলিসাৎ তখন শুরু হয়েছিল অর্থমন্ত্রীর ছোটাছুটি-নাকে খত দিয়ে পায়ে ধরাধরি। ৩)সংবাদ মাধ্যমগুলোকে নিয়ন্ত্রনের জন্য বিভিন্ন নীতি প্রনয়ন ও দলীয় আনুগত্যের ভিত্তিতে সংবাদ মাধ্যমের মালিকানা প্রদান করা হয়েছে, টেলিভিশনের টক শো গুলোতে বিভিন্ন বিষয়ের আলোচনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে সরকার, বিদ্যুতের লোডসেডিং ও কুইক রেন্টাল বিদ্যুৎ কেন্দ্র নিয়ে সমালোচনাকারীদের বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে।

অতি সম্প্রতি টকশো গুলোতে আলোচনা কারী বিশিষ্ট সাংবাদিক,রাজনৈতীক,আইনজীবী,শিক্ষক,মানবাধিকার কর্মী ইত্যাদি আলোচনা কারীদের মধ্যরাতের চোরদের আচরনের সাথে মিলিয়ে উদাহারন দেওয়া হয়েছে, আরো একজন বরেণ্য আইনজীবী যিনি সতঃর্ফুত ভাবে দেশের সংকট মোকাবিলায় এগিয়ে আসতে চেয়েছেন তাকে গ্রাম্য কায়দায় অনিরপেক্ষ প্রমান করা হয়েছে। ৪) পূর্ববর্তী সব সরকারের মতো বর্তমান সরকার ও তাদের ইচ্ছামত আইন ও আদালত কে দলীয়করন করেছে আওয়ামী সরকারের বিখ্যাত সদস্য জনাব সুরন্জীত সেন বলেছেন, "টাকায় আইনজীবী ও আদালত কেনাবেচা বন্ধ করতে হবে। " ঢাকা সিটি রর্পোরেশনকে অনৈতিক ভাবে ভেঙ্গে দিয়ে অর্নিবাচিত প্রশাসক দ্বারা তা নিয়ন্ত্রন করে জনগনের ভোটের অধিকার কে অপমান করা হয়েছে। স্বাধীন নির্বাচন কমিশনের পূর্নাঙ্গ রূপ এখনো অজানা। সরকার রাজনৈতিক সুশাসনের জায়গায় জারি রেখেছে আমলা ও উপদেষ্টা নির্ভর অর্নিবাচিতদের শাসন তাই আমরা অনেক মন্ত্রনালয়ের মন্ত্রীর নাম না জানলেও আমাদের মুখস্ত হয়ে গেছে গওহর রিজভী,এইচ টি ইমাম,মশিউল ইত্যাদি নাম।

৫)শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দলীয় তান্ডব এবং তার সমাধান না করে প্রধান মন্ত্রীর দলীয় ছাত্র সংগঠন থেকে নিজেকে সরিয়ে নেয়ার ঘোষনা শিক্ষাঙ্গনে উত্তেজনা বাড়িয়েছে, দলীয় সংগঠনটি সম্পূর্ন নিয়ন্ত্রনহীনভাবে যা ইচ্ছা তা করে বেড়াচ্ছে এ জাতীয় কোন পরিস্তিতি সাধারন শিক্ষার্থী অভিভাবক ও দেশবাসী আশা করেনি। সরকারি সকল প্রতিষ্ঠানে দলীয়করনের প্রশ্ন উঠেছে, সম্প্রতি রেল ওয়ের নিয়োগ বানিজ্য সর্ম্পকিত ঘটনা অন্তরালের অনেক কারসাজির পদ্ধতিকে দিনের আলোয় নিয়ে এসেছে, নির্বাচন কমিশন সর্ম্পকে কিছুই জানা যাচ্ছে না, ঢাকা সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে তারা কি করলো? তাদের স্বাধীনতা কতটুকু সে সম্পর্কে নারায়নগঞ্জের নির্বাচন থেকে আমরা জানতে পেরেছি অথচ বর্তমান নির্বাচন কমিশনার বলে বেড়াচ্ছে তারা অনেক স্বাধীন যথেষ্ট ক্ষমতা সম্পন্ন! সর্বশেষ নির্বাচন কমিশনার-গন কমিশনের সংষ্কারের যে পরামর্শ দিয়েছিল সে বিষয়ের উন্নতি কতদুর? ৬) দেশের প্রখ্যাত ব্যক্তির বর্গের সাথে হিংসাত্মক আচরনের রেকর্ড গড়েছে এই সরকার, ডঃকামাল কে জড়িয়ে প্রতিনিয়তই হিংসার বানী শুনা যায়, বাদ পড়েননি কাদের সিদ্দিকি,প্রফেসর ইউনুস,প্রাক্তন সংসদ সদস্য সাংবাদিক মুসা । সরকার ক্র্রমাগত তাদের সব রকমের গঠনমূলক আলোচনার তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে। ৭) আইনের শাসনের প্রধান ভিত্তি নিন্ম আদালত ও পুলিশ বিভাগ সর্বোচ্চ দুর্নীতি গ্রস্হ বলে বিভিন্ন জরিপে বেড়িয়ে এসেছে এবং আরো নানা ঘটনার মধ্যদিয়ে জনগনকে রাষ্ট্র কতৃক নিরাপত্তা ও সুশাসন প্রদানের স্বদিচ্ছাকে প্রশ্নের সামনে দাড় করিয়েছে। আওয়ামী এক এমপির পিস্তলের গুলিতে তার ড্রাইভার নিহত হওয়ার ঘটনা ঢাকা পড়ে গেছে বহুদিন,আমিন বাজারে শবে-বরাতে ৭ ছাত্রের নিহত হ ওয়া,পুলিশের ভ্যান থেকে সন্দেহ ভাজন আসামীকে পুলিশ কতৃক উত্তেজিত জনগনের হাতে তুলে দিয়ে নিহত হ ওয়ার ঘটনা,র‍্যাব কতৃক বিনা বিচারে হত্যা, এমপি হোস্টেলে তরুনীর লাশ, ইলিয়াস আলীর গুম , লিমন বনাম রাষ্ট্র,সাংবাদিক দম্পতি হত্যা ইত্যাদি আলোচিত ঘটনা সমূহ মানবাধিকার কে করেছে ভূলুণ্ঠিত,পিলখানা ট্রাজেডি সম্পর্কে মানুষ এখনো কিছুই জানে না।

কাউকে বেডরুমে নিরাপরত্তা প্রদান করা সম্ভব নয় রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এ জাতীয় মন্তব্য মানবাধিকার রক্ষায় সরকারের অবস্হান কে করেছে নাজুক। জামালপুর ও অতি সপ্প্রতি রামুর ঘটনা প্রবাহ সাম্প্রদায়ীক সম্প্রীতি রক্ষায় সরকারের ভূমিকা ন্যক্কার জনক। ৮) বিশৃঙ্খলা দমনের নামে বিরোধী মত প্রকাশ কে প্রচন্ডভাবে নিয়ন্ত্রিত হয়েছে,ভ্রাম্যমান আদালত দিয়ে প্রতিবাদ-মিছিলে ভয় দেখানো হয়েছে,বিরোধীদলের চীপহুয়িপ কে বেধরক লাঠিপিটুনি কুলষিত রাজনৈতিক সংস্কৃতির চিত্রকে করেছে প্রকট । ৯) প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে কার্যকরি সম্পর্ক স্হাপনে সরকার ব্যর্থ হয়ে্ছে,সীমান্ত হত্যা, তিস্তা চুক্তি,রোহিঙ্গা বিষয়ে সরকারের সুচিন্তিত পদক্ষেপ লক্ষ করা যায়নি,মধ্যপ্রাচ্যে সরকারের শ্রমনীতি বলে বাস্তবে কোনকিছুই নেই। ১০) বলা যেতে পারে ডিজিটালাইজেশনের ধুয়া তুলে নতুন প্রজন্মের ভোট নিয়ে সরকার খমতায় এসেছে, ভিশন ২০২১-এর প্রনেতাদের একজন আবুল মাল আবুল মুহিত সাহেব বলেছিলেন, "ডিজিটাল বাংলাদেশের অর্থ হলো এমন এক ব্যবস্হা যেখানে সুশাসন থাকবে,সরকারের কার্যক্রমের দায়বদ্ধতা-স্বচ্ছতা থাকবে,দুর্নীতি কমবে।

" কিন্তু বাস্তবে এমনটি হয়নি, মুহিত সাহেবের কাছ থেকে আমরা ডিজিটাল ভঙ্গিতে অন্যকে খাটো করার কিছু কৌশল শিখেছি। ইভিএম থেকে সরকার খুব সহজে পিছু হটেছে। বাংলাদেশ দক্ষিন এশিয়ায় পাকিস্হান ও নেপালের চেয়েও কম্পিওটার প্রযুক্তিতে পিছিয়ে আছে,ডিজিটাল বাংলাদেশ বলতে মোবাইল ফোন কোম্পানীগুলোর বদৌলতে সাধারন জনগন জানছে তা কেবল সামাজীক যোগাযোগ আর গান বাজনার বিষয়, আবার সেগুলোও সরকারের হুমকি ধামকি ও সেন্সরশীপের বেড়াজালে বন্দী। সমগ্র শিক্ষা ব্যবস্হা ,স্বাস্হ্য সেবা,স্হানীয় সরকার ব্যাবস্হা ,শান্তি-শৃঙ্খলা কাঠামো কোন কিছুই সমন্বিত নয়। ডিজিটাল বাংলাদেশের রূপরেখা জনগনের কাছে তো নয়-ই খুব সম্ভবত সরকারের কাছেও তা স্পষ্ট নয়।

ডিজিটাল সময়ে বাংলাদেশ এগিয়ে চলেছে কচ্ছপের গতিতে। ত্রিশ লক্ষ প্রানের বিনিময়ে অর্জিত বাংলাদেশ পৃথিবীর এই সময়ে লজ্জাজনক ১/১১ এর কথা কেন বার বার শুনবে? ২০০৮ এর নির্বাচনে বিপুল বিজয় এর মহাত্ত বর্তমান সরকার অনুধাবন করতে ব্যর্থ হয়েছে। ১/১১ এর পূর্বে যে রাজনৈতিক সংষ্কৃতি দেশে বিরাজ করছিল তার থেকে বর্তমান সময়ের কতটুকু ফারাক? ১/১১ থেকে রাজনৈতিক দলগুলো কি শিক্ষা নিয়েছে? সুশাসনের মাধ্যমে তারা পুনরায় খমতায় নয় বরং ষড়যন্ত্রের মধ্যদিয়ে রাষ্ট্র খমতায় টিকে থাকার একটি অভিলাষ দেখতে পাচ্ছি, এটি কতটুকু বাস্তব। অনেক আশার বর্তমান সরকার দেশকে একটি শংকার ভেতর ফেলে দিয়েছে , হয় ১/১১ নয় আবার সেই খালেদা-নিজামী গং কিন্তু সুশাসনের লক্ষ্য প্রথম থেকে কাজ করলে এই রকম পরিস্তিতি তৈরি হতো না, তারা গনতন্ত্রকে শক্তিশালী না করে একে দুর্বল করে দিয়েছে তাই তারা নিজেরাও জেনে গেছে ১/১১ চলে আসতে পারে বা ১/১১-ই উত্তম! এ কথা বলতে তাদের এতটুকু লজ্জাও হয়না! আবার যদি ১/১১ এর মত কোন ঘটনা হয় তবে নিশ্চিত তার কুশীলব সরকার নিজেই। আমরা জনগন ১/১১ কে ভয় করিনা, খালেদা-নিজামী গং দের ও নয়, এবং আমরা একনায়কতান্ত্রীক আওয়ামীলীগ কে ও বরদাস্ত করবো না, হাসিনা -হানিফ-আবুল হোসেন এর আওয়ামীলীগ নিশ্চিত ভাবেই বঙ্গবন্ধু-রাজ্জাক-তোফায়েলদের আওয়ামীলীগের ভাবধারাকে লালন করে না সে প্রমান আমরা পাইনি।

এ দেশ সত্যিকার অর্থেই মুক্তিযুদ্ধের আদর্শেই পরিচালিত হবে মুক্তিযুদ্ধের আদর্শের ব্যবসায়ীদের দ্বারা নয়। ১/১১ আসুক জনগন তাকে ছুড়ে ফেলবে যেমনটি হয়েছে অতীতে বার বার, হয়তো তারা পিছিয়ে পড়বে রক্ত ঝড়বে তা তাদের অনাকাঙ্ক্ষিত নিয়তি, বিশ্বাস ঘাতকেরা বাংলাদেশকে নিয়ে বার বার খেলেছে, তবুও বাংলাদেশ মাথা উচুঁ করে দাঁড়িয়ে আছে এবং থাকবে। বর্তমান সরকার ১/১১ এর ভয় না দেখিয়ে এবং পুনরায় যেনতেনো ভাবে ক্ষমতায় না আসতে চেয়ে যদি তারা তাদের শেষ সময়ে গনতন্ত্রের মৌলিক কাঠামোগুলোকে শক্তিশালী করে যেতে পারে তাবে আখেরে দেশের মানুষ ও তাদের ই ভালো হবে। -huma 18/10/2012 ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.