আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

নীতিহীন রাজনীতি এবং টিআইবির রিপোর্ট

তারুণ্যের শক্তিতে জাগুন এই দেশ। ছিনিয়ে আনুক নতুন সকাল টিআইবি গবেষণা করে বের করেছে বাংলাদেশের জাতীয় সংসদ সদস্যদের ৯৭ শতাংশই দুর্নীতির সাথে যুক্ত। সরকারি ও বিরোধী দল সকল ক্ষেত্রেই একই অবস্থা। রিপোর্ট প্রকাশের পর আওয়ামীলীগ বললো অনির্বাচিত ব্যক্তিদের ক্ষমতায় আনার জন্য এই রিপোর্ট প্রকাশ করা হয়েছে। বিএনপি বললো-- ওটা আওয়ামী লীগের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য, তাদের ক্ষেত্রে নয়।

আমার দৃষ্টিভঙ্গী একটু আলাদা। গবেষণায় বলা হয়েছে এমপি রা দুর্নীতি করেন। কথা শতভাগ সত্য। কিন্তু ওনারা কি জাতীয় সংসদের সদস্য হয়ে দুর্নীতি করেন না কি দুর্নীতিবাজরাই এমপি হন? গবেষণায় যদি বলা হতো -- ওনারা আগে সাধু ছিলেন কিন্তু সংসদ সদস্য হয়ে অসাধু ব্যক্তিতে পরিণত হয়েছেন তাহলে এই গবেষণাকে প্রকৃতই গবেষণা বলা যেতো। কিন্তু যদি অসাধু ব্যক্তিরাই যদি নির্বাচিত হন তাহলে তারা দুর্নীতি করবেন এটাই তো স্বাভাবিক? এটা নিয়ে গবেষণার কি হলো সেটাই তো বুঝলাম না।

এই গবেষণার জন্য টিআইবি কত টাকা খরচ করলো সেটাও তো জানা দরকার। একটি প্রমাণিত বিষয় নিয়ে এই গবেষণা করে তারা কি সততার পরিচয় দিলেন নাকি গবেষণার নামে টাকা হালাল করলেন সেটাও দেখা দরকার? (সর্ষের মাঝেও ভুত থাকে)। বাংলাদেশের রাজনীতি অনেক আগেই নীতিহীন হয়ে পড়েছে। নির্বাচিত হওয়ার জন্য মনোনয়ন পত্র বেচাকেনার ইতিহাস নতুন নয়। জাতীয় পার্টি, আওয়ামী লীগ এবং বিএনপির জন্য নির্বাচন মানে হলো একটি লাভজনক ব্যবসা।

রাজনীতি না করেই দলের মনোনয়ন পেয়ে এমপি মন্ত্রী হয়ে যান-- আমলা (সামরিক বা বেসামরিক), ব্যবসায়ী রা। ত্যাগি রাজনীতিকদের কদর অনেক আগে থেকেই উঠে গেছে। দলের কোনো পজিশন পেতে হলেও টাকা দিতে হয়। ছাত্র সংগঠন, যুব সংগঠন, মূল সংগঠনন, শ্রমিক সংগঠন সব খানেই টাকার খেলা। আর তাই তো দেখা যায় কোনো কমিটির সদস্য মনোনীত হওয়ার পর পোস্টার ছাপিয়ে শুভেচ্ছা আর অভিনন্দন প্রদানের প্রতিযোগিতা।

ওয়ার্ড কমিটির সদস্য হতে গেলে যেখানে টাকা খরচ করতে হয় সেখানে তারা এই টাকা তুলবেন কেমন করে? দুর্নীতি তো সেখান থেকেই শুরু। একসময় যারা রাজনীতি করতো তাদের বলা হতো ঘরের খেয়ে বনের মোষ তাড়ানোর কাজ করছে। এখন তা বলে না। এখন রাজনীতি করছে শুনলেই মানুষ মনে করে ভালই কামাই হচ্ছে। টিআইবি মাঝে মাঝে বোমা ফেলার মতো কাজ করে।

কিন্তু এই কাজটি বোমা না পটকার মতো হয়ে গেছে। বলা যায় ঠোঙা ফাটানোর মতো। আর রাজনীতিবিদরা যখন পয়সা দিয়ে নেতা বা কর্মী হন তখন তো এই গবেষণাটি অপ্রয়োজনীয় এবং অর্থহীন। ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.