সংখ্যা নয় যুক্তিই সবসময় সীদ্ধান্ত গ্রহনের পূর্বশর্ত চমকে ওঠার মতো খবর “ মেডিকেলে ভর্তি জিপিএ’র ভিত্তিতে” । আপাত দৃষ্টিতে মনে হতে পারে একটি প্রশংসনীয় উদ্যোগ । শিক্ষার্থীদের ১২ বছরের শিক্ষার যথাযথ মূল্যায়ন হবে । ভর্তি যুদ্ধের মতো কঠিন যুদ্ধে অংশ নিতে হবে না । কিন্তু সত্যি কথা বলতে কি এভাবে মেডিকেলে ভর্তি নেওয়া হলে সত্যি কি মেধার মূল্যায়ন হবে ? সমাজে প্রচলিত কথা ‘মেধাবীরাই ডাক্তার হয়’ , তা কি সত্যি অটুট থাকবে ?
আমাদের শিক্ষা ব্যবাস্থার গলদ তো সর্বজন স্বীকৃত ।
আর তার সাথে আছে আমাদের সমাজের নৈতিক অবক্ষয় । এ থেকে মুক্ত নয় আমাদের শিক্ষাঙ্গনের সাথে জরিত কেউই । এমন কি শিক্ষকেরাও দুর্নীতি গ্রস্থ । তাই সার্টিফিকেট দেখেই বলে দেওয়া যায় না যে, শিক্ষার্থী মেধাবী কিনা । কারণ আমাদের দেশে এসএসসি বা এইসএসসি পরীক্ষার ফল বের হলে দেখা যায় শহর ভর্তি জিপিএ ৫ ।
আমি এটাকে খারাপ বলতে চাই না কিন্তু না বলেও থাকতে পারিনা । কারণ যখন দেখি একজন গোল্ডেন জিপিএ ৫পাওয়া শিক্ষার্থী mathematics বানান পারে না , তখন কি আমি সত্যিই বলতে পারি জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থী মানেই মেধাবী শিক্ষার্থী ? এটা হল আমাদের জিপিএ ৫ পাওয়া শিক্ষার্থীদের মেধার নমুনা । তাই বলে আমি সবাইকে এক কাতারে ফেলতে রাজি নই । কারণ আমাদের অনেক শিক্ষার্থী তাদের মেধা মনন দিয়েই জিপিএ ৫ অর্জন করে । ঐ সব তথাকথিত মেধাবীদের প্রতি সত্যিকারের মেধাবীদের ঘৃণাই বেশী ।
কারণ যখন তারা দেখতে পায় পড়া লেখায় পিছিয়ে থেকেও শুধু মাত্র নৈতিকতাহীন কিছু শিক্ষকদের সাহায্য নিয়ে তাদেরই সমান রেজাল্ট করছে । কিছু শিক্ষক শুধু মাত্র কোচিং বাণিজ্য রক্ষার জন্য অথবা দেশ সেরা স্কুলের তালিকায় তাদের স্কুলের নাম তোলার জন্য এমন নীতি হীন কাজ করে থাকে । এক্ষেত্রে আমাদের দেশের স্বনাম খ্যাত স্কুল গুলো এগিয়ে । সত্যিকারের মেধাবীরা যখন দেখে পরীক্ষা হলে তাদের সীট গুলো আর ক্লাস রোল অনুসারে থাকে না ভাল-মন্দে মিশিয়ে দেওয়া হয় । ৪০ নম্বরের অবজেক্টিভ এর উত্তর স্যার পাশে দাড়িয়ে বলে দিচ্ছেন ।
বর্ণনা মূলক প্রশ্নের উত্তর সাধারন মানের শিক্ষার্থীদের দেখানোর জন্য তাদের উপর চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে । তখন তাদের মাঝে হতাশা কাজ করলেও তারা স্বপ্ন দেখে পরবর্তীতে ভর্তির প্রতিযোগিতায় তারাই সফল হবে এবং হয়ও তাই । ঐ সব তথাকথিত মেধাবীরা পরাজিত হয় । মূল্যায়ন হয় মেধার । কিন্তু বর্তমান উদ্যোগে কি মেধার মূল্যায়ন সম্ভব ?
বর্তমান পদ্ধতিতে বঞ্চিত হবে গ্রামের মেধবীরা ।
কারণ আমরা সাদা চোখেই দেখতে পাই বরাবরই শহরের রেজাল্ট ভাল হয় । কিন্তু ভর্তি যুদ্ধে দেখা যায় বরাবরই গ্রামের স্কুলের শিক্ষার্থীরা শহরে শিক্ষার্থীদের টেক্কা দেয় এবং একটি বিশাল অংশ ভর্তি যুদ্ধে সফল হয় । এখানে দেখা যায় শহরের গোল্ডেন জিপিএ ৫ কে পরাজিত করছে গ্রামের জিপিএ ৩.৫ বা ৪.০০ । কারণ শহরের বেশীর ভাগ স্কুলে পড়ানো হয় সাজেশন নির্ভর পড়া । শহরের শিক্ষকেরা ভাল রেজাল্ট করার কিছু কৌশল শিখিয়ে দেন এছাড়া উপরে বর্ণীত দুর্নীতি তো আছেই ।
কিন্তু গ্রামের শিক্ষা ব্যবাস্থা খুবই রুগ্ন । সেখনে ছলচাতুরি নেই । হ্যাঁ একসময় নকল প্রবনতা ছিল কিন্তু এখন তেমন একটা নেই । আর যারা নকল করে তারা খুব বেশী হলে জিপিএ ১ বা ২ পেতে পারে । কিন্তু যারা গ্রাম থেকে জিপিএ ৪ বা ৪.৫০ পায় তারা সত্তিকারেই মেধাবী ।
আর বর্তমান ভর্তি প্রক্রিয়ায় বঞ্চিত হবে গ্রামের এসকল মেধাবীরা ।
যদি এ প্রক্রিয়া বাস্তবায়িত হয় তা হলে আমাদের পুরো শিক্ষা ব্যবাস্থা ভেঙ্গে পড়বে । দুনীতি গিলে খাবে হবে আমাদের শিক্ষা ব্যবাস্থাকে । আমরা বঞ্চিত হব মেধাবী ডাক্তারদের সেবা থেকে । শিক্ষার উদ্দেশ্য হয়ে উঠবে শুধু সার্টিফিকেট অর্জন ।
কিন্তু শিক্ষার উদ্দেশ্য শুধু সার্টিফিকেট অর্জন নয় । তাই মাননীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রির নিকট আবেদন এই সর্বনাশা পদ্ধতি থেকে সরে আসুন । ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।