আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমার মিষ্টি বউ।

আমার পৃথিবীটা অনেক ছোট,আর তাই সেটাকে অনেক বড় করার জন্যই আমার ব্লগে আসা...আমার মনে হয় আমি ভুল করিনি। বিয়েটা করেই ফেললাম অবশেষে। অনার্স শেষ করে ব্যাংকের চাকরিটা করছি প্রায় মাস ছয়েক হতে চলল । যেদিন চাকরিটা হল সেদিন থেকেই মা -বাবার ঘ্যান ঘ্যান শুরু হল বিয়ের জন্য। বেশ বিরক্ত হলাম, এতদিন আমার বিয়ের কোন তোড়জোড় নেই আর যেই চাকরিটা হল অমনি বিয়ের বাদ্য বাজানোর জন্য সবাই ব্যাস্ত হয়ে পড়ল।

যেন এতদিন আমার বিয়ের কোন প্রয়োজনই ছিল না! সাফ না করে দিলাম। এখন বিয়ে টিয়ে না , আগে কটা দিন নিজের মত থাকি তারপর না হয় দেখা যাবে। কিন্তু মা -বাবার ঘ্যান ঘ্যান চলতেই থাকল। শেষমেষ বিরক্ত হয়ে আমিও ভাবলাম বিয়ে একটা করেই ফেলি, বয়স তো আর কম হল না! তাছাড়া বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে তো প্রতিদিনই মনে হত ...ইস! যদি বিয়ে করতে পারতাম!এখন যখন সুযোগ এসেছে তো সেটাকে কাজেই লাগাই। তাছাড়া আজ হোক কাল হোক বিয়ে তো করতেই হবে।

মত দিয়ে দিলাম। মা -বাবা তো চরম খুশি, মহা উৎসাহে পাত্রী দেখা শুরু হল। আমার পছন্দের কেউ আছে কিনা জানার প্রয়োজনববোধও করল না কেউ। যেন কারও পছন্দের কেউ থাকতেই পারে না, এমন একটা ভাব। আমার অবশ্য সত্যিই পছন্দের কেউ ছিল না।

প্রায় এক সপ্তাহের মধ্যেই চার -পাঁচটা মেয়ে দেখা হয়ে গেল। এর মধ্যে বেশিরভাগই মার বান্ধবীর মেয়ে নয়তো বাবার বন্ধুর মেয়ে। প্রতিটা মেয়ে দেখানোর সময়ই আমি ক্যাবলাকান্তের মত হা করে মেয়ে দেখি। পারলার থেকে সদ্য সেজে আসা মেয়েগুলোকে দেখতে ভালই লাগে। সবই একরকম মনে হয়।

পাত্রী দেখা শেষ হতেই মায়ের জেরা ... "অমন হা করে মেয়ে দেখতে হয়? একটু রয়ে সয়ে দেখবি না? " আমিও কম যাই না, জবাব দেই "আরে বিয়ে করব, একটু ভাল করে দেখব না? " মেয়ের ব্যাপারে মতামত চাইলে প্রতিবারই আমার কথা "ভালই তো"এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে। শেষমেষ মা বিরক্ত হয়ে আমাকে বাদ দিয়েই পাত্রীপক্ষকে আমার পাসপোর্ট সাইজ ছবি দেখিয়ে পাত্রী দেখা শুরু করল এবং তিনদিনের মাথায় বিয়েও ঠিক করে ফেলল। আজই বিয়ে হল। বিয়ের আগে আমি অবশ্য মেয়েকে সরাসরি দেখিনি। মা এক কপি ছবি দিয়েছিল, ঐটাই দেখেছি।

বিয়ের আসরে বসেই সরাসরি আমার বউকে দেখলাম। প্রথমবার দেখেই আমার মনে হল আমি প্রেমে পড়ে গেছি। এই মেয়েটা আগে দেখা সেই মেয়েগুলোর মত না। সেজেছে, তবে খুবই হালকা সাজ। খুব মানিয়েছে, শুধু তাকিয়ে থাকতে মন চায়।

আমিও পারিপার্শ্বিকতা ভুলে হা করে আমার বউয়ের দিকে তাকিয়েই থাকলাম। মা তো দেখে মহাখুশী। বুঝতে পারল আমার মেয়ে খুব পছন্দ হয়েছে। বিয়ের পুরোটা সময়ই আমি আমার বউকে দেখেই পার করলাম। বিয়ের সব আনুষ্ঠানিক ঝামেলা শেষ করতে করতে রাত দশটা বেজে গেল।

মা আমাকে আর আমার বউকে বাসরঘরে দিয়েই মুচকি হেসে বাইরে থেকে দরজা লক করে চলে গেল। ও ..এর মধ্যে আমার বউয়ের নামটাও জেনেছি, সুইটি। নামটা খুব পছন্দ হয়েছে আমার। এরকম মিষ্টি মেয়ের নামও মিষ্টি না হলে যে একেবারেই মানাত না। সুইটি ঘোমটা টেনে বিছানায় বসে আছে।

ঘোমটার কারণে মুখই দেখা যাচ্ছে না। আমি তো অস্থির হয়ে গেলাম। এই মিষ্টি মেয়েটার মুখটা দেখতে না পারলে যে আমি মরেই যাব। আমি বিছানায় উঠে আস্তে করে ওর দিকে এগিয়ে গিয়ে একেবারে গা ঘেষে বসলাম। বেশ লজ্জা লাগছিল আবার একটা অমোঘ আকর্ষণও কাজ করছিল।

আলতো করে হাতটা দিয়ে ঘোমটাটা সরিয়ে ওর মুখপানে তাকালাম। লজ্জারাঙা মুখটা একেবারে লাল হয়ে আছে। ইস! কি যে মায়াময় একটা মুখ। আমি অপলকভভাবে দেখতে থাকলাম। আনন্দে আমার চোখটা অশ্রুতে ভরে উঠল।

মনে হল, অনেক পূন্য করেছিলাম তাই বোধহয় এরকম একটা বউ পেয়েছি যার মুখপানে তাকিয়ে আমি সারাটা জীবন অনায়াসে পার করে দিতে পারব। লজ্জা ভুলে দুহাত বাড়িয়ে শক্ত করে আমার বউটাকে জড়িয়ে ধরলাম। আমার মিষ্টি বউটাকে হাতছাড়া করতে আমি যে একদমই রাজি নই ...পাঠক আপনিই বলুন, এমন মিষ্টি বউটাকে হাতছাড়া করা কি আমার ঠিক হবে???? ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.