আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ফিরিয়ে আনার উদ্যোগে উদ্বিগ্ন মঈনুদ্দীন

আল্লাহ মহান, যাহা বলিব সত্য বলিব। যুদ্ধাপরাধের মামলায় আসামি ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে বাংলাদেশের সম্ভাব্য তৎপরতা নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন লন্ডনপ্রবাসী জামায়াত নেতা ও যুক্তরাজ্যভিত্তিক দাতব্য প্রতিষ্ঠান 'মুসলিম এইডের' স্ট্রাস্টি চৌধুরী মঈনুদ্দীন। তিনি এরই মধ্যে বুদ্ধিজীবী হত্যাসহ মানবতাবিরোধী বিভিন্ন অপরাধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযুক্ত হয়েছেন। এ ব্যাপারে তাঁর আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান চলমান বিচারপ্রক্রিয়া রাজনৈতিক পক্ষপাতদুষ্ট দাবি করে বলেছেন, মামলাটির ভবিষ্যৎ কী হবে- এ নিয়ে তাঁরা উদ্বিগ্ন। চৌধুরী মঈনুদ্দীন দাবি করেছেন, তিনি মুক্তিযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধে জড়িত ছিলেন না।

তবে পাকিস্তানের অখণ্ডতার পক্ষে ছিলেন। বিবিসির এশিয়ান নেটওয়ার্ককে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে চৌধুরী মঈনুদ্দীন ও তাঁর আইনজীবী টবি ক্যাডম্যান এসব কথা বলেন। গত বুধবার বিবিসি অনলাইনে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে তাঁদের এ বক্তব্য তুলে ধরা হয়। বাংলাদেশের স্বাধীনতা সংগ্রাম চলাকালে বাংলাদেশকে মেধাশূন্য করার জন্য বুদ্ধিজীবী হত্যার নীলনকশা প্রণয়নকারী হিসেবে অভিযুক্ত চৌধুরী মঈন উদ্দিন স্ত্রী ও চার ছেলেমেয়ে নিয়ে বর্তমানে উত্তর লন্ডনে বসবাস করছেন। মুক্তিযুদ্ধের পর ১৯৭৩ সালে তিনি যুক্তরাজ্যে চলে যান এবং সেখানে মুসলিম সংগঠন গড়ে তুলতে মনোযোগ দেন।

তিনি বর্তমানে ব্রিটেন ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক। বিবিসির প্রতিবেদনটিতে বলা হয়, চৌধুরী মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে ইসলামী আলবদর গ্রুপের সদস্য হয়ে বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঠেকাতে লড়াই করেছিলেন। এ ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে স্বাধীনতার পক্ষের কর্মীদের শনাক্ত এবং হত্যায় জড়িত ছিলেন। এর মধ্যে শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকদের হত্যার অভিযোগও রয়েছে তাঁর বিরুদ্ধে। চৌধুরী মঈন উদ্দিন বিবিসিকে বলেন, 'একটি সার্বভৌম রাষ্ট্রের অখণ্ডতার প্রতি সমর্থন একটি বিষয় এবং অপরাধ কর্মকাণ্ডে জড়িত হওয়া একেবারেই ভিন্ন বিষয়।

স্বাধীনতাযুদ্ধ চলাকালে কোনো উপায়েই আমি কোনো ধরনের অপরাধে অংশ নেইনি। ' তিনি বলেন, 'আমি কখনই আমার নাম ও পরিচয় গোপন রাখিনি। আমি যখন ব্রিটেনে আসি, তখন আমি স্থানীয় এমপির মাধ্যমে হোম অফিসকে জানিয়ে আসি। যদিও বাংলাদেশে (স্বাধীনতাযুদ্ধে) বিজয়ী পক্ষ আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছিল। ' ২০১০ সালে বাংলাদেশ ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনাল স্থাপন করা হয়।

আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের জন্য এই আদালত গঠন করা হয়। ঢাকাভিত্তিক এই ট্রাইব্যুনাল এরই মধ্যে ১২ জনকে অভিযুক্ত করেছে এবং দুজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। তাঁদের মধ্যে একজন জামায়াত ইসলামের ভাইস প্রেসিডেন্টও রয়েছেন। তবে আদালতের আন্তর্জাতিক মান নিয়ে অভিযোগ রয়েছে বিভিন্ন মহল থেকে। মঈন উদ্দিন বলেন, তিনি তাঁর নির্দোষ অবস্থান প্রমাণ চান।

কিন্তু ট্রাইব্যুনালের ওপর আস্থা রাখতে পারছেন না। তিনি বলেন, 'আমি এমন একটি আদালতের মুখোমুখি হতে চাই যে আদালত থেকে আমি স্বচ্ছ ও ন্যায়বিচার পাব এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় দ্বারা স্বীকৃত। ' চৌধুরী মঈন উদ্দিনের আইনজীবী ব্যারিস্টার টডি ক্যাডম্যান বলেন, 'বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ আদালতের কার্যক্রম নিয়ে তিনি উদ্বিগ্ন। তিনি বলেন, দুর্ভাগ্যবশত, বর্তমান বাংলাদেশি ট্রাইব্যুনালটি স্বচ্ছ ও নিরপেক্ষ নয়। আমরা খুবই শংকিত মঈনের বিরুদ্ধে করা মামলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে।

' তিনি দাবি করেন, ট্রাইব্যুনালটি ব্যাপকভাবে রাজনীতিকরণ করা হয়েছে। তাঁর আশঙ্কা, পলাতক আসামি হিসেবে তাঁর মক্কেলকে ফিরিয়ে নিতে বাংলাদেশ সরকার ব্রিটিশ সরকারের কাছে অনুরোধ করতে পারে। বিবিসির প্রতিবেদনটিতে বাংলাদেশের আইনমন্ত্রী এবং মানবাধিকার আইনজীবী ব্যারিস্টার সারা হোসেনের বক্তব্যও তুলে ধরা হয়েছে। তাতে দুজনই চৌধুরী মঈন উদ্দিনের বিচার চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে মত ব্যক্ত করা হয়েছে। আইনমন্ত্রী শফিক আহমদ বিবিসিকে বলেন, '১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধে চৌধুরী মঈন উদ্দিন যেসব অপরাধ করেছে তার তদন্ত হয়েছে।

মঈন উদ্দিনের বিরুদ্ধে ১৯৭১ সালে জঘন্য অপরাধের অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া গেছে। সে যদি বাংলাদেশে না আসে, তা হলে তার অনুপস্থিতিতে বিচারকাজ চলবে এবং তাঁর পক্ষে সরকার আইনজীবী নিয়োগ করবে। ' আইনমন্ত্রী আরো বলেন, অবশ্যই আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালে নিরপেক্ষ বিচার হবে। ট্রাইব্যুনাল সম্পূর্ণ স্বাধীন। ব্রিটিশ প্রশিক্ষিত ব্যারিস্টার বিখ্যাত মানবাধিকার আইনজীবী সারা হোসেন বলেন, এখন মঈনের বিচার শুরু হওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ।

ভুক্তভোগী পরিবার ও যারা তাদের নিকটজনকে হারিয়েছে তাদের সবাই দ্রুত আইনি প্রক্রিয়ায় বিচার পেতে অধীর আগ্রহে বসে আছে, আর এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। সুত্র ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১২ বার

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.