প্রথম ইউনিকোড ভিত্তিক অনলাইন বাংলা স্পোর্টস পত্রিকা মূল রিপোর্টটি এখানে
উৎসবের সব আয়োজন করাই ছিল। কৌটা ভর্তি ছিল রং, কথা ছিল বাংলাদেশ জয়ের পর পুরো দেশ রঙে রঙে রাঙিয়ে দেয়া হবে, আনন্দ মিছিল হবে। কথা ছিল ২২শে মার্চ রাত হবে উৎসবের রাত। না হল না!
কৌটর রঙ কৌট বন্দী হয়েই রইল। অশ্রুর বেরঙা জল বের হয়ে আসল।
ভেসে গেল বাংলাদেশ দলের ড্রেসিং রুম থেকে পুরো দেশ। শোকের রাত হয়ে গেল রাতটি।
২২শে মার্চ সকালটা শুরু হয়েছিল অদ্ভুত উপলক্ষ্যকে ঘিরে। দুপুরেই শুরু হবে বাংলাদেশ-পাকিস্তানের ফাইনাল, সবাই তাই আগেই সকল কাজ গুটিয়ে নেয়ার চেষ্টা করলেন। ঢাকার রাস্তা ফাঁকা হয়ে গেল।
গলিতে গলিতে বসানো হল জায়ান্ট স্ক্রিন, প্রজেক্টর, মাইকে বাজানো হল রেডিও যেখানে ধারাভাষ্যকার ধারাবিবরনী দিচ্ছিলেন।
কিন্তু সবকিছুই মুখ থুবড়ে পড়ল আজিজ চিমার করা ইনিংসের পঞ্চাশতম ওভারের শেষ বলটিতে। হইচই করা জনতা মুহুর্তেই চুপসে গেল। উৎসবের সকল উৎসাহ শোকে পরিনত হল। এতো গেল মাঠের বাইরের চিত্র।
১৬ কোটি মানুষের জন্য যারা খেলছে তাদের প্রতিক্রিয়াতো আরও বেশী হবার কথা। হলোও তাই। আন্তজার্তিক ক্রিকেট মানেই পেশাদারিত্ব। কিন্তু জাতি হিসাবে আমরা আবেগি। তাইতো সাকিবকে জড়িয়ে ধরে মুশফিকের কান্না ছড়িয়ে গিয়েছে ১৬ কোটি মানুষের ৩২ কোটি চোখে।
মাথা ঠান্ডা রাখার জন্য সাকিব আল হাসানের বেশ সুনাম ছিল। সব পরিস্থিতে নিজেকে একই রকম রাখতে পারতেন। কিন্তু আজ পারলেন না। বারবার মুখ ঘুরিয়ে কান্না লুকানোর চেষ্টা করলেন বটে কিন্তু শেষ পর্যন্ত আর পারেননি। কিভাবে পারবেন, কথা যে ছিল ১৬ কোটি মানুষকে হাসিয়ে সাকিবও হাসবেন।
কিন্তু হলনা!
নতুন দলে আসা আনামুলকেও ছুঁয়ে গেল কান্নার আবহাওয়া। সবচে বেশী জ্বলেছেন বোধহয় মাহমুদুল্লাহ রিয়াদ। নিজে ক্রিজে থেকেও দলকে জেতাতে না পারার অনুভুতি কেবল তিনিই বুঝবেন। ম্যাচ শেষ হবার পর ক্রিজ থেকে সাজঘরের দূরত্ব তাই তার কাছে হাজার মাইল মনে হল।
চাইলে আপনি স্বান্তনা দিতে পারেন “আমরাতো গো হারা হেরে যেতাম” বলে।
কিন্তু স্বান্তনা কেবল স্বান্তনা হয়েই থাকবে। এশিয়া কাপের শুরুর আগে কে জানত ফাইনাল ম্যাচে ১৬ কোটি বাঙালী এক সাথে অশ্রুপাত করবে? কেইবা জানত ফাইনালে বাংলাদেশ খেলবে? কেউ কি টুর্নামেন্ট শুরু হওয়ার আগে একবারও বুঝতে পেরেছিল বাংলাদেশ ফাইনালে খেলবে?
আমাদের চিন্তাকে সপ্তমে তুলে দিয়ে পুরো টুর্নামেন্টে দারুন খেলে বাংলাদেশ চলে গিয়েছিল ১১তম এশিয়া কাপের ফাইনালে। প্রথম থেকেই বাংলাদেশের হাতে ছিল ম্যাচ। মাশরাফি-নাজমুল-সাকিব-রাজ্জাকরা উৎসবের আয়োজনে যেন আরও গতি দিলেন। দলে দলে কাতারে কাতারে সবাই উৎসবমুখী হলেন।
কেউ কেউ তখনই বাংলাদেশের জয় নিশ্চিত মনে করে আয়োজনে নতুন কোন পর্ব যোগ করে ফেললেন।
অনেকেই পরিবারের আত্নীয় স্বজনকে ডেকে নিয়ে আসলেন, রাতের খাবার একসাথে খাবেন বলে বিশেষ কোন খাবারও তৈরি করে ফেললেন। যারা স্টেডিয়ামে যেতে পারেননি তারা স্টেডিয়ামের মজা নিতে দল বেঁধে গেলেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি। মাথায় লাল সবুজের পতাকা বেঁধে, বাঁশি, ঢোল বাদ্যির সাথে “বাংলাদেশ বাংলাদেশ” ধ্বনিতে প্রকম্পিত হল পুরো বাংলাদেশ।
সাকিব কিংবা তামিমের নামও দর্শকরা ঝপতে লাগল ক্লান্তহীনভাবে।
ব্যাটিংয়েও সমর্থকদের সমর্থনের দারুন জবাব দিচ্ছিলেন তামিম-সাকিবরা। কিন্তু শেষ পর্যন্ত দু রানের হার কেবল আফসোস আনল না কান্নাও আনল।
টিএসসিতে হতাশায় অনেককে রাস্তায় বসে থাকতে দেখা গেল। ক্রিকেটারদের কান্নার ছবিতো দেশের প্রতিটি মানুষের হৃদয়ে গেঁথে আছে। শেষ পর্যন্ত এটি একটি ক্রিকেট ম্যাচ ব্যাতিত কিছুই না।
কিন্তু সাধারণের আবেগ কি আর ক্রিকেটের সমীকরনের মত জটিল। আবেগতো একটুতে খুশীতো আবার একটুতে কেঁদে একাকার।
হেরে যাবার পরও বাংলাদেশ দলের পারফরম্যান্স নিয়ে এতটুকু সমালোচনা করল না কেউ। বাংলাদেশ বাংলাদেশ স্লোগান তখনও চলছিল। অনেকে আবার পরেরবার জেতার আশা করলেন।
মুশফিকদের কান্না বোধহয় সমর্থকদের এমন সমর্থনেই সফল।
এই রিপোর্টটি হতে পারত উৎসবের রঙতুলির আঁচড় কিন্তু হয়ে গেল একটি শোক গাঁথা। অশ্রুতেই শোকের শেষ গন্তব্য। ১১তম এশিয়া কাপের ফাইনাল বাংলাদেশ জিততে পারেনি। তবে ক্রিকেট বিশ্বের কাছে সতর্কবার্তা পাঠিয়ে দিয়েছে।
এই হার দিয়েই শুরু হল নতুন এক বাংলাদেশের। সাকিব-মুশফিকের কান্না সেদিন হাসিতে অনুবাদিত হবে। এই রিপোর্ট তখন উৎসবের সুরেলা গান হয়ে যাবে। মুশফিক ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরনী অনুষ্ঠানে সেই গানই যে গাইলেন।
মূল রিপোর্টটি এখানে ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।