টেলিভিশনের চ্যানেল চ্যানেলে টকশো। টেলিভিশন খুললেই দেখা যায় কোন না কোন চ্যানেলে কোন না কোন বিষয়ে টকশো হচ্ছে। আমাদের রাজনীতিবিদরাও সংসদে না যেয়ে টিভিতে এসে কথা বলতে বেশি ভালোবাসেন। কি আওয়ামীলীগ আর কি বিএনপি। আজকাল টেলিভিশনে যে পরিমান টকশো হচ্ছে তা আর কোন দেশে হচ্ছে কিনা আমার জানা নেই।
ভাই আর কোন দেশে এতো টকশো হলে আমাকে দয়া করে একটু জানাবেন। আমিও জানতে চাই কোন সে দেশ। বয়স্ক লোক কিংবা অনেকেই অলস সময় কাটানোর জন্য টিভির রিমোট দিয়ে চ্যানেল ঘুরাতে ঘুরাতে আটকে যায় এই সব টকশোতে। বিএনপি আওয়ামীলীগ এর তর্ক শুনতে তখন ভালোই লাগে। তর্ক তো মাঝে মাঝে এমন পর্যায়ে চলে যায় এই বুঝি হাতাহাতি শুরু হয়ে গেলো।
আজ মধ্যরাতে তেমনি একটি অনুষ্ঠানে আমার আর বাবুর চোখ আটকে যায় আরটিভির পর্দায়। আজ টিভিতে প্যাঁচাল পারতে আসছে কে? এ যে আওয়ামীলীগ এর “বিশাল” নেতা স্বয়ং জয়নাল হাজারী! আমরা টকশোটি শেষ মুর্হূতে এসে ধরতে পারি। এই শেষ মুর্হূতে এসে বাংলাদেশের রাজনীতির বৈশিষ্ট্যকে অক্ষুন্ন রেখে তিনি তার নেত্রী শেখ হাসিনার গুন কীর্তন করলেন। তবে মজা পেলাম এক দর্শকের প্রশ্ন শুনে। প্রশ্ন হল উনি কেনো বিয়ে করলেন না।
প্রশ্ন শুনে হাজারী সাহেব বেশ রাগান্বিত। সব জায়গায় কেনো তার ব্যক্তিগত বিষয় নিয়ে প্রশ্ন করা হয়? আর সব জায়গায় নাকি তিনি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে দিতে বিরক্ত। কিছুক্ষন রাগ ঝাড়লেন। রসিক উপস্থাপকও কিঞ্চিত রসিকতা করা থেকে তাকে ছাড় দিলেন না। রাগ ঝাড়া শেষে হাজারী সাহেব বললেন তার মনের দুঃখের কথা।
“বিশাল” নেতা হতে পারেন তাই বলে তো আর রোমান্টিকতা বর্জিত নন। তিনি নাকি তার কলেজ জীবনে বিজু নামক এক মেয়ের প্রেমে পড়েছিলেন। তারা দুজন দুজনাকে কথা দিয়েছিলেন তারা কখনোই একে অন্যকে ছাড়া বিয়ে করবেন না। সেই বিজু নাকি হাজারীর কাছে দেয়া কথা না রেখে পরে এক রাজাকারকে বিয়ে করে থিতু হয়েছেন। শেষ পর্যন্ত রাজাকার! এইডা কিছু হইলো! রাখলেন না বিজু তার কথা কিন্তু হাজারী সাহেব ঠিকই রাখলেন।
তিনি নাকি তার কোন এক বইতে সেই বিজুর বিচার চেয়েছেন তার কথা না রাখার জন্য। তিনি নাকি সেই বিজু আর তার রাজাকার স্বামীকে শাস্তি দিতে পারতেন কিন্তু তিনি তা দেননি। জয়নাল হাজারী হয়তো আজ মনে মনে “গাইছেন এক হৃদয়হীনার কাছে হৃদয়ের দাম কি আছে.........। ” তিনি তার কোন এক বইতে এইসব কথা লিখেছেন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এর এক উপাচার্যও নাকি বিয়ে করেননি।
আমি দুঃখিত তার নামটি এই মুহূর্তে মনে পড়ছে না। তার পিছনেও হয়তো বিজুর মতই একজন আছে। আমার মনে হয় আজ জয়নাল হাজারীর এই “বিশাল” নেতা হওয়ার পিছনে বিজুর অনেক বড় অবদান আছে।
হায়রে প্রেম! তবে উনি যদি সত্যি বিজু রাজাকার দম্পতিকে শাস্তি না দিয়ে থাকেন তবে আমার ব্যক্তিগত মতামত হচ্ছে অনেক ভালো কাজ করেছেন।
[এই লেখাটা যদি আওয়ামীলীগ এর কোন কট্টরপন্থী নেতা পড়ে থাকেন তবে তার কাছে আমি আগেই ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি আমি ভাই মরতে চাইলেও গুম হতে চাই না।
]
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।