আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

হরতালের আবর্তে বন্ধী তিনটি পরিবারের গল্প ।

একটু ভাবতে হবে.......... মজু মিয়া বাসের হেল্পার তার ছয় সদস্যের পরিবারে সেই একমাত্র উপার্জনক্রম ব্যক্তি । প্রতিদিন হেল্পার হিসেবে তাঁর ভাগ্যে ১৫০ থেকে ২০০ টাকা জোটে । আর এই টাকা দিয়েই তাঁর পরিবারের প্রতিদিনের চাল,ডাল,তেল ও নুন কেনা হয় । তাই হরতাল মানেই মজু মিয়ার কাছে এক আতঙ্কের নাম । টানা হরতালে আয়হীন মজু মিয়ার পরিবারকে তাই দিনের পর দিন না খেয়ে থাকতে হয় ।

আমাদের তথাকথিত জনদরদী রাজনৈতিকদের গণতন্থ ও চেতনা রক্ষার সপ্তাহ ব্যাপী হরতাল উৎসবে একবারও কি ভেবে দেখেছেন এই মজু মিয়ার পরিবারের কথা । কি খেয়ে বেঁচে আছে তার পরিবারের মানুষগুলো? নাম রফিক। ফুটপাতে একটি ছোট দোকান চালাই । তাঁর পঙ্গু বাবা সারাদিন ভিক্ষা করে কোনভাবে প্রতিদিনের চালের টাকাটা জোগাড় করে । বাকিটা রফিকের আয়ের উপর নির্ভর করে ।

দিন শেষে আয় ভাল হলে ভাতের সাথে আলু মরিচের গন্ড অন্যতাই শুধু মরিচ পোড়া দিয়েই কোন ভাবে বেঁচে থাকা । কিন্তু টানা হরতালের সহিংসতার ভয়ে আজ প্রায় ৫ দিন হল রফিক দোকান খুলতে পারে নি । একবারও কি আমাদের রাজনৈতিকরা ভেবে দেখেছেন এই পরিবারটি মাটি না পাথর খেয়ে বেঁচে আছে ? গ্রামের বাড়ি রংপুর । মেয়েটির নাম সালমা । চট্রগ্রামের একটি বস্তিতে ওরা কয়েকজন মিলে একটি ছোট রুমে গাঁদাগাদি করে কোন ভাবে থাকে ।

প্রায় তিন মাইল দূরে একটি গার্মেন্টসে কাজ করে সালমা । ওভারটাইম সহ মাস শেষে ৫,৫০০ টাকার মত পায়। দেশের বাড়িতে তাঁর অসুস্থ মা । তাই মাস শেষে সবার আগে বাড়িতে মায়ের ডাক্তার ও ঔষদ খরচের জন্য টাকা পাটাতে হয় । সেই সাথে ছোট ভাইটির পড়ালেখার খরচও ।

আজ তিন মাস হল সালমা গার্মেন্টস থেকে বেতন পায় না । মালিক বলেছে হরতালের জন্য ঠিকমত মাল ডেলিভারি দিতে না পারার দরুন অর্ডার বাতিল করেছে বিদেশি ক্রেতা তাই বেতন দিতে দেরি হবে । আমাদের তথাকথিত জনদরদী রাজনৈতিকরা একবারও কি খোঁজ নিয়ে দেখেছেন সালমার মা বিনা চিকিৎসায় বেঁচে আছে না মরছে! সালমার ছোট ভাইটির স্কুলে যাওয়া হয় কিনা ভাবার সময় হয়েছে কি কখনো? আমাদের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের দুই শীর্ষ নেত্রি বিরোধী দলে থাকা কালীন দুই জনেই ভিবিন্ন সময় বলেছিলেন উনারা বিরোধী দলে গেলেও হরতাল দিবেন না । যদিও নানা চলচাতুরি করে দুই প্রতারক নেত্রিই নিজেদের কথা রাখেন নি । কেউ জনগণকে গণতন্থ রক্ষার নামে আর কেউ মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও আদর্শ রক্ষার মোয়া দেখিয়ে হরতালের নৈরাজ্যে নিজেদের ক্ষমতার জুতা কামড়া কামড়িতে বলির পাটা বানিয়েছেন এই হত দরিদ্র মানুষ গুলোকে ।

উনারা যদি সত্যি জনগণের রাজনীতি করত তবে ঐক্যমত্তের ভিক্তিতে সংসদে বিল উত্তাপন করে চিরতরে হরতাল বন্ধের আইন প্রণয়ন করত । কিন্তু না উনারা তা করবেন না, কারন উনাদের কাছে জনগণের বেঁচে থাকার নিরাপত্তার চেয়ে ক্ষমতার গঁদি দখল বেশি গুরুত্বপূর্ণ । মজু মিয়া , রফিক আর সালমার কাছে এই মূহর্তে গণতন্থ ,মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও ডিজিটাল বাংলাদেশের চেয়ে বেশি প্রয়োজন হল একটি নিরাপদ জীবন । তারা কাজ করে খেটে খাওয়ার একটি শান্ত পরিবেশ চাই । রাষ্ট্রের কাছে কি একজন নিপীড়িত জনগণের এটা খুব বেশি কিছু চাওয়া?? ।

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে ১৮ বার

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.