শুভেচ্ছা ক্রশ এক্সাম বাদ দেবার বিষয়টি কিছুটা আলোচিত হয়েছে বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ার সমালোচনা করায়।
উল্লেখ্য ট্রাইবুনালের বিচারিক প্রক্রিয়ার অস্বচ্ছতা থাকলে সেটা জাতির জন্য কোন সুখকর বিষয় হতে পারেনা।
ভাবগতিক দেখে মনে হচ্ছে বিচার নামের সেতু দিয়ে যেন তেন ভাবে হলেও ফাসিতে ঝুলানো হল মূল লক্ষ্য। সেক্ষেত্রে প্রতিপক্ষ উল্লসিত হবে "বিচার হয়েছে বলে" আর জামাতের কর্মীরা "নেতাদের শাহাদত হয়েছে" ভেবে সাত্বনা নেবে। কিন্তু বিচার প্রক্রিয়ায় যে চিরস্থায়ী দাগ রয়ে যাবে - তার কি হবে? সেটার বোঝা যে জাতিকে বয়ে বেড়াতে হবে বাকী জীবন।
ট্রাইবুনালের সর্বশেষ সংস্করন, তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সাক্ষীর সাক্ষ্যই যথেষ্ট - এটার কথাই ধরা যাক। এটি কোন ন্যায় বিচারের ভাষা হতে পারে না। কথা হল, সাক্ষীরা ইতিমধ্যে তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দিয়েছে এবং তাদের সাক্ষ্য এই মামলায় অভিযুক্তের বিরুদ্ধে যাবে। তাদের নাম ধাম এমন কোন গোপনীয় নয় যে আসামী পক্ষের আইনজীবীর জেরা থেকে অব্যহতি দিলেই পরের জামাতী সরকারের (বাই চান্স যদি সত্যই ক্ষমতায় আসে) ধরা ছোয়ার বাইরে এই সাক্ষীরা থেকে যাবে। তারা সব জায়গায় ঘুরছে, তদন্তকারী কর্মকর্তার কাছে সাক্ষ্য দিচ্ছে,অথচ দাবী করা হচ্ছে আসামী পক্ষের আইনজীবীর জেরার সম্মূখীন হলেই নাকি তাদের নিরাপত্তা থাকে না।
সাক্ষীদের ক্রশ এক্সামিনেশন রুয়ান্ডা বাদ দিয়েছে খুব অস্বাভাবিক কিছু ক্ষেত্রে। বাংলাদেশে এই সাক্ষীরা এমন কোন অস্বাভাবিক পরিস্থিতিতে পরেন নি যে ক্রশ এক্সামিনেশন বাদ দিতে হবে। ন্যায় বিচারের দাবী হল আসামী পক্ষের আইনী অধিকার নিশ্চিত করা। এক্ষেত্রে কি তা উপেক্ষিত হয় নি।
এই ক্রশ এক্সামিনেশন বাদ দেয়ার বিষয়টি নিয়ে বিচারপতি নিজাম বিএনপি নেতা এম কে আনোয়ারকে সতর্ক করেছেন।
এই দেশ যেহেতু সাত ভূতে চালায় তাই কারো বলার কিছু নেই। কিছু বলা মাত্রই একে "বিচার বাতিলের ষড়যন্ত্র" বলে দাবী করা হবে। আদালত অবমাননার ভয় দেখানো হবে। সব সম্ভবের এই দেশে সবই স্বাভাবিক বিষয়।
আর্মেনিয়ান জেনোসাইডের কথা ধরা যাক।
ঐটা আমার খুব প্রিয় এক চ্যাপ্টার। সময় পেলেই ইন্টারনেটে রিলেটেড সাইট দেখার চেষ্টা করি। প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পরে তুরস্ক যখন হেরে গেল, অটোম্যান সুলতান দেখল মহাবিপদ। তারা মিত্রবাহিনীকে আশ্বস্ত করল যে তারা আর্মেনিয়ান জেনোসাইডের বিচার করবে। শুরু হল বিচার।
তখনকার মূল তিন মন্ত্রী তালাত পাশা, এনভার পাশা, জামাল পাশা সহ ১৩০ জনের বেশী অফিসারকে মৃত্যু দন্ড দিয়েছিল। এদের বেশীর ভাগই ছিল পলাতক। চরম নিন্দনীয় সে বিচারটিতে এই ক্রশ এক্সামিনেশনের নিয়ম থাকে নি। সেই বিচার প্রসংগে উইকিতে যা লেখা হয়েছে তা দেখুন:
The tribunals were held under occupation, thus the judges were under the scrutiny of the occupying forces. Due process did not exist, and there were gross absences of legal rights; defenders and lawyers feared for their life. The Ottoman penal code did not acknowledge the right of cross-examination. Some Western authors claimed that these were matters of local jurisprudence and the verdicts had to be trusted. However, the validity of the evidence presented in these testimonials has been questioned owing to a lack of defendant rights. Historians familiar with Ottoman jurisprudence do not hold the process of these trials in a positive light.[16] The decision was taken by evidence submitted during the preparatory phase, the trial, and how the defender present his defense. During the trials, none of the presented evidence was verified. The validity of the evidences presented, such as letters and orders have been in study. Some of them had proven to be forgeries. In some cases hearsay was an issue as direct evidence has never been presented (one direct evidence regarding Talat Pasha was claimed to be a forgery (the signature, the code/number of the document, and the missing stamp). During the trials, testimonies were not subjected to cross-examination, or some of the materials were presented as "anonymous court material" (i.e., not sponsored by a witness, who has sworn or solemnly affirmed to tell the truth).
ক্রশ এক্সামিনেশনের মৌলিক অধিকার সেখানেও অস্বীকার করা হয়। যেসব এভিডেন্স দেয়া হয় তার বৈধতা যাচাই হয় নি।
কিছু ক্ষেত্রে সাক্ষীকে শপথ করতে হয় নি।
মিলিয়ে দেখুন বাংলাদেশের এই যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের সাথে কতটুকু মিল রয়েছে!!
এই ট্রাইবুনাল অবশ্য এখনও গুজবকে এভিডেন্স হিসেবে নেয় নি। যা অটোম্যান ট্রাইবুনাল নিয়েছিল। তবে সামনের দিনে হয়তবা সেটাও দেখা গেলে অবাক হবার কিছু নেই। যারা এই ট্রাইবুনালের সমর্থক তারা বলে থাকেন দেশীদের তো দেশীয় আইনেই বিচার করতে হবে।
অটোম্যানও তাই করেছিল। ইচ্ছামত আইন দিয়ে অফিসারদের শাস্তি দেয়া। কিন্তু সেটা আখেরে অটোম্যানদের বিরুদ্ধেই গিয়েছিল।
ইতিহাস বলে ইতিহাস থেকে কেউ শিক্ষা নেয় না। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।