please, give me a chance to give you a chance. খুঁজে না পাওয়া কচি হাতের সেই পুরোনো কবিতার খাতাটি তমাল আজ খুঁজে পেয়েছে। বেজায় খুশিতে আজ চার পাঁচটা খালি পুরনো পেইজ কলমের আদর পাবে। কিছু কিছু শব্দ যেন এখনি প্রসব হতে চায় হালকা হলদে হওয়া কাগজের জমিনে। নাহ, একটা সিগারেট টেনে শব্দগুলোকে আরোও পোষ মানাতে হবে। যেই ভাবনা সেই কাজ।
পকেটে হালকা মোচড়ে যাওয়া সিগারেটকে ঠোটে গুজে তমাল দিয়াশলাইয়ের তালাশে রান্না ঘরে গেল। কিন্তু একি!! দিয়াশলাইয়ের ডয়ারে অবশিষ্ট কিছু নেই। নাহ, অসহ্যকর এক অনুভূতি ইহা। খাটের চাদরের নিচে ইহা না থাকাই স্বাভাবিক। তবুও সেই জায়গায় খোঁজা বাদ রইলনা।
রাত তখন দুইটার কম নয়। বাহিরে রাতের সাথে তাল মিলিয়ে বৃষ্টি আরো গভীর হয়েছে। সুতরাং বৌদি ছাড়া আর উপায় কি। তমালের দক্ষিণা জানালা। তবে পাশের বেয়াদপ অট্টালিকার কারণে তমালের জানালার পর্দা বাতাসে নাচেনা।
জানালা দিয়ে হাত বারিয়ে তমাল দু একবার ঐ অট্টালিকাকে থাপ্পরও মারতে পেরেছে। সুবিধার মধ্যে ঐ অট্টালিকার তিন তলায় থাকা বৌদি আসলেই দুঃসময়ের বন্ধু। তমালের জানালা সোজাসুজি তার বারান্দা। এক মাস হলো পরিচয়। পরিচয় হওয়ার কারণ এই দিয়াশলাই ই।
মাঝে মাঝে তমালের মা দিয়াশলাই লুকিয়ে রাখে। মাঝে মাঝে নিজস্ব দিয়াশলাইয়ে কাঠি থাকেনা। তখন বৌদির ভরসা ম্যাচ একমাত্র ভরসা হয়ে উঠেছে আর কি। এই বর্ষনমুখর রাতে চাদরের নিচে জীবিত নিঃশ্বাস ক্লান্ত হলেও বৌদি পারলে ছাদে যায়, আর বারান্দায় থাকাতো একেবারে স্বাভাবিক। কারণ এর আগের আরেক বর্ষা রাতেও বৌদি তমালের সাথে গল্প জমিয়ে ছিল।
এ এক জীবিত মানবীর প্রেতাত্বা যা হাতের তালুতে জমানো বৃষ্টির ফোটাকে রবীবাবুর চোখে ছিটায়। জানালা দিয়ে বৃষ্টির ঝুমঝুমির সাথে এক চিকন গলা তমালের কানে রোমান্টিকতায় আবোল তাবোল। তমাল জানালায় ঘেষে দিয়াশলাই চাইবে কি, গীতের শ্রবণে সুর যেন মর্মের কানে কেশ বুলিয়ে সুড়সুড়ি দেয়। গানটা পরিচিত। তাই তমাল জানে গানটা এখনি শেষ হবে।
ভালোবাসা ভালোবাসা... সখি, ভালোবাসা কারে কয়...? সে কি কেবলি যাতনাময়...
>ভাগ্যিস রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন। তা না হলে বৌদির গাইতে নাইবা ইচ্ছে হতো অন্য কোন গান।
হয়তো তিনি লিখেছেন বলেই ইচ্ছে হলো। তা নয় তো কি। এতো তো ভাবতে পারিনা।
বারান্দার গ্রিলে জমানো পড় পড় বৃষ্টি বিন্দু আঙ্গুলে চুষে খেলা করি। কবি এ খেলার কারণ না বলে দিলে হয়তো ইহা নিছক খেলাই থেকে যেত। আমি যে আনমনে সেটা আমার স্বামী কোনদিন বোধ হয় বলতো না।
>দাদা বোধ করি বাসায়? আজই ফিরল নাকি?
হিম। আজই ফিরেছে।
ক্লান্ত শরিরে বাস কন্ডাকটারকে আজেবাজে বকছে। আমি পাশে থাকলে স্বপ্নে তার বেহুশ হাত পা দু একটা চর থাপ্পর মারতে পারে। মেজাজ ঠান্ডা করার জন্য বারান্দাই আমার একমাত্র আশ্রয়।
> প্রায়ই তো রাত জাগেন। এ আর নতুন কি।
তাছাড়া বৃষ্টি হবে আর বৌদি তার গুণ গাইবেনা তা তো প্রকৃতির আহাম্মক হওয়ার বিষয়।
হয়েছে। খুব বলেছ। তা ঠাকুরপোর বান্ধবী নেই নাকি। এই বয়সের রাততো চাদর মুরো দিয়ে মুঠোফোনে চাঁদ দেখে।
> ঠিকাছে। ভুল কিছু নয়। কবিতায় রাত কাটাই বলে শত প্রেমিকার অভিমান হতে পারে। কিন্তু কোনো প্রেমিকা কি জানে যে দুধ কলা দিয়ে পোষা কবিতা তাদেরই গুনগান গায়।
বুঝেছি।
জায়গামতো কিছু একটা আচড় কেটেছে। তবে পা পিচলে গেলে জায়গা চেনা যায়।
>এরকম কতোগুলো আচড় আছে তোমার পাজরে? তা না হলে গলায় এরকম আজগুবি আদরের সুর, তা না হলে আমায় এতো তাড়াতাড়ি অনুধাবন করার পথ তোমাকে কে চেনায়...
পাজরের আচড়। হা! তার হিসেব কষতে গেলে অসংখ্য দীর্ঘশ্বাস গুনতে হবে। বারান্দায় লুকিয়ে যতগুলো দীর্ঘশ্বাস ফেলেছি তা গুনতে গেলে সংসার টের পেয়ে যাবে।
আমার জমানো মেঘ গুমরে গুমরে লুকিয়ে ফাটুক। বৃষ্টি নামার আগে সবাইকে ঘুম পাড়িয়ে দেব।
>কিছু তো বল। নিজেকে হালকা লাগবে। বাতাসে মুক্ত কর নিজেকে।
বিদ্যুত চমকালে ভয় পাবো না। বরং আজ তোমার সাথে ভিজে যাব।
হিম। তুমি বলছ আমায় হালকা হতে। আমি আমার দীর্ঘশ্বাসের হিসেব দেবো তোমায়।
কিন্তু আমায় কি তুমি বলবে যে এমন কত নারীর দীর্ঘশ্বাসের তুমি হিসেব রেখেছ? তোমার মা কি এরকম কাউকে পেয়েছে? তোমার বোন? তোমার প্রাক্তণ প্রেমিকা? যার কাছে বলে এরা হালকা হবে।
>হঠাৎ এরকম প্রশ্ন।
হ্যা, এরকমই... আমার প্রশ্নের জবাবটা পেলে হিসেবটা কষে দিতাম।
>উম... হয়তো বা...
হিম, হয়তোবা না। কারণ তুমি শুধু আমাদের নিয়ে কবিতাই লিখেছ।
তোমার মায়ের দীর্ঘশ্বাস তুমি কোনদিন শোননি? তারও তো অতীত ছিল। বোনদের পরিবারের প্রতি অন্যরকম এক দায়িত্ব টান থাকে। তার সাথে কত টা খোলাসা হয়েছ? শুধুমাত্র ক্যাডভেরী চকলেটে সে যে খুশি হয়েছে তা কিভাবে মেনে নিলে? অনেক কিছুই তো সে আড়াল রেখেছে পরিবারের মায়া পিছুটানে। প্রেমিকার থেকে ধাক্কা খেয়ে কবিতায় বিদ্রোহী হয়েছ। নিজেকে শুধরে নিয়েছ।
ভেবেছ এইবারই শেষবার। আর কোনদিন হাড়বেনা। অতিরিক্ত কষ্টে সব ধামাচাপা দিয়েছ। কই!! তোমাকে মেনে নিতে না পারার ব্যার্থতা তার মুখে কোনদিন শুনেছ? সে কিছু বলতে গেলে অযোথা ন্যাকামি করেছ। ন্যাকামির প্রশ্রয় না দিলে বৃথা ভালোবাসার দোষ ঝেড়েছ তার কানে।
আর কত? সে যে তোমায় ভুলতে পেরেছে তা আসলেই সঠিক কিনা তা কি তোমার মর্মে নাড়া দেয়নি?
>বৌদি... আমি দুঃখিত... এতোটা গুমরে কালো হয়ে আছো আমি বুঝিনি। এতো প্রশ্নের উত্তরও কোনদিন অনুধাবন করিনি। আমি আসলেই দুঃখিত।
ঐ দেখ... আমার স্বামীর নাক ডাকার আওয়াজ শুনতে পাবে। তার ছোটবেলায় খিদে পেলে তার মাকে পাগল করে ফেলত।
মাঝে মাঝে কোন কিছু বায়নার সময় মা তোমাকে ভালোবাসি। এখন নিজ রোজগারের অর্থে মাকে কত কি না দেয়। মা খুশি হয়। আমাকেও দেয়। আমিও খুশি হই।
এখনো তোমার দাদার খিদে পেলে আমায় পাগল করে ফেলে। তার অন্ধকারে খিদে পায়, অন্ধকারে সে ক্লান্ত হয়, অন্ধকারে সে আমার চেহারাও দেখেনা। আমি খিদে মেটাই। নাক ডাকার আওয়াজ শুনি। বিরক্ত হলে বারান্দায় মুষ্টিবদ্ধ বারান্দার গ্রিল চেপে ধরে বৃষ্টিকে ধমক মেরে আমার চোখে মুখে মেখে দেই।
আর মেঘগুলো ফুপিয়ে ফুপিয়ে আমার দিকে তাকায়। আর টলমল করে গলতে থাকে আমার চোখে।
>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>>
বৌদি হঠাত দ্রুত চলে গেল। কিছু বলল না। বৌদির চোখের কোণে ভুল কিছু দেখেনি তমাল।
তমালের চোখও ঘোলা লাগছে। এতোটা ভাবেনি সে। তার চোখের কোণে কিছু জমেনি তো আবার। ওমা!! এ কি!! তারও জমেছে। উফ!! একেবারে লাগিয়ে লাগিয়ে বলল কত কি!! একটা কবিতা লিখবে তমাল বৌদিকে নিয়ে।
এখনি লিখবে। নাহ, একটা সিগারেট না খেলেই নয়। আহা!! বৌদির থেকে তো দিয়াশলাই নেয়া হয়নি তমালের। আরেকবার কি গিয়ে দেখবে জানালায়... কেনো জানি আটকে গেল তমাল। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।