যশোরের বিএনপি নেতা নাজমুল ইসলাম তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার আগমুহূর্তে টেলিফোনে তা জানিয়েছিলেন তার এক বন্ধুকে।
নাজমুল বলেছিলেন, তিনি তখন ছিলেন মোহাম্মদপুরে। ঘটনাটি স্থানীয় থানায় জানানোও হলেও পুলিশ উদাসীনতা দেখিয়েছে বলে অভিযোগ নাজমুলের স্বজনদের। তবে পুলিশের দাবি, তাদের চেষ্টা ছিলো।
বুধবার রাতে অপহরণের পর বৃহস্পতিবার সকালে গাজীপুরের দক্ষিণ সালনা এলাকা থেকে নাজমুলের লাশ উদ্ধার করা হয়।
তাকে হত্যা করা হয় শ্বাসরোধে।
নিহত নাজমুল (৪৫) যশোরের ঝিকরগাছা থানা বিএনপির সভাপতি এবং যশোর জেলা বিএনপির অর্থ বিষয়ক সম্পাদক ছিলেন।
মিরপুরে একটি বিয়ের অনুষ্ঠান থেকে ধানমণ্ডিতে নিজের বাড়িতে ফিরছিলেন নাজমুল। অপহরণের সময় ঘটনাটি মোবাইলে ফোনে কুষ্টিয়ার বাঘাবাড়ি থানা বিএনপির সভাপতি তালহা শাহরিয়ার আইয়ুবকে জানিয়েছিলেন তিনি।
আইয়ুবের স্ত্রী তানিয়া রহমান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “‘যখন অপহরণ করা হয় ঠিক সেই সময় নাজমুল ভাই আমার স্বামীকে ফোন করে বলেন, ‘আমাকে মনে হয় কিডন্যাপ করা হচ্ছে’।
”
তানিয়া বলেন, “স্থানীয় রাজনৈতিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে ফোনে কথা হচ্ছিলো নাজমুল ভাইয়ের সঙ্গে ওর (আইয়ুব)। আমি আমার স্বামীর পাশেই ছিলাম। হঠাৎ নাজমুল ভাই আমার স্বামী আইয়ুবকে বলেন, তাকে একটি গাড়ি ফলো করছে। ”
“মোবাইলেই নাজমুল ভাই বলতে থাকেন- ‘আইয়ুব ভাই, আমাকে সম্ভবত ছিনতাইকারী বা সন্ত্রাসীরা ধাওয়া করেছে। আমাকে কিডন্যাপ করা হচ্ছে,” বলেন তানিয়া।
তানিয়া জানান, আইয়ুব নাজমুলের অবস্থান জানতে চাইলে তিনি জানান, মোহাম্মদপুর থানার সামনে রয়েছেন তিনি।
“এটা বলতেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যায়। তখন ঠিক রাত ১১টা ৫৭ মিনিট,” বলেন তানিয়া।
বৃহস্পতিবার দুপুরে নাজমুলের ধানমণ্ডির বাড়িতেই তানিয়ার সঙ্গে কথা হয় বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের। নাজমুলের স্ত্রী সাবিরা সুলতানা মুন্নীও ছিলেন পাশে।
মুন্নী বলেন, “রাত ১২টার কিছু পরপর ঘটনা শুনেই আমরা মোহাম্মদপুর থানায় যোগাযোগ করি। মোহাম্মদপুর থানার ডিউটি অফিসার বলেন, ‘এখন অনেক রাত, কিছুই করা যাবে না, সকাল ৯টায় আসেন’। আমরা ঘটনাস্থলের পাশের র্যাব-২ এর ফিজিক্যাল ক্যাম্প অফিসে যোগাযোগেরও চেষ্টা করি। ”
মুন্নীর অভিযোগ, পুলিশ অনেক কালক্ষেপণের পর গভীর রাতে সাধারণ ডায়রি নেয়।
এ বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে মোহাম্মদপুর থানার ওসি মাহমুদুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে জানান, আইয়ুব থানায় এসে নাজমুলকে অপহরণের আশঙ্কার কথা জানিয়েছিলো।
“তার বক্তব্য শোনার পর থানায় সাধারণ ডায়েরি করা হয় এবং নাজমুল যে গাড়িতে ছিলেন তার বর্ণনা দিয়ে তা আটকের জন্য অয়্যারলেসের মাধ্যমে সব পুলিশ সদস্যকে তাৎক্ষণিকভাবে জানিয়ে দেওয়া হয়,” বলেন তিনি।
স্বামীর শেষ টেলিফোনের সূত্র ধরে মুন্নীর দাবি, মোহাম্মদপুর থানা ও র্যাব-২ ক্যাম্পের মাঝামাঝি কোনো স্থান থেকে তার স্বামীকে অপহরণ করা হয়েছে।
এই বিষয়ে ওসি বলেন, সাধারণ ডায়েরিতে এমন কোনো তথ্য নেই। মৌখিকভাবে তাদের কেউ তা জানায়নি।
তিনি বলেন, “সাধারণ ডায়েরিতে মোহাম্মদপুর থানা এলাকার কোথাও থেকে অপহরণ করা হতে পারে বলে সন্দেহের কথা বলা হয়েছে।
”
বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের পাশে নাজমুলের লাশ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশে খবর দেয়। পরে লাশের পাশে পড়ে থাকা মোবাইল ফোন থেকে নাজমুলের স্বজনদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়।
গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, নাজমুলকে চোখে মলম দেওয়ার পর শ্বাসরোধে হত্যার আলামত পাওয়া গেছে।
মুন্নী বলেন, “আমার স্বামী যে মডেলের গাড়ি চালাতেন সেই গাড়ি ঘণ্টায় ২০ কিলোমিটার গতিতে চললে দরজা আপনাআপনি বন্ধ হয়ে যায় (অটো অফ)। দুর্বৃত্তদের তাড়া খেয়ে তিনি নিশ্চয়ই তার চেয়ে বেশি গতিতে গাড়ি চালিয়েছিলেন।
তাকে ধরতে হলে তার গাড়ির গতিরোধ করা ছাড়া সম্ভবপর ছিলো না। ”
নাজমুল বিয়ে বাড়িতে কামাল নামে তার এক বন্ধুকে নিয়ে গিয়েছিলেন। তবে ফিরছিলেন একাই। অন্য গাড়িতে ফিরছিলেন মুন্নী ও সন্তানরা।
এ হত্যাকাণ্ডের কারণ কী বলে মনে করেন- জানতে চাইলে মুন্নী বলেন, “আমার স্বামী আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এমপি প্রার্থী হতেন।
এলাকায় তার অনেক জনপ্রিয়তা ছিলো। এলাকার উন্নয়নে তিনি গত কয়েক বছর ধরে অনেক কাজ করেছেন। ”
নাজমুলের বন্ধু কামালের পরিচয় জানতে চাইলে মুন্নী বলেন, “দুই-তিন বছর ধরে তার সঙ্গে স্বামীর পরিচয়। তিনি গোপালগঞ্জ আওয়ামী লীগের নেতা বলে আমরা জানি। ”
বিয়ে বাড়ি থেকে নাজমুল বের হওয়ার আধা ঘণ্টা আগে কামাল বেরিয়ে যান বলে মুন্নী জানান।
“বিয়ে বাড়িতে কামাল ভাইকে একটু অন্যরকম লাগছিলো। অনেকটা চুপচাপ ছিলেন তিনি। আমার স্বামী অপহরণ ও নিহত হওয়ার পর আমি ফোন করেছি উনাকে। তবে তার ফোন বন্ধ পাচ্ছি,” বলেন মুন্নী। ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।