আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ফিরে পাওয়া ভালবাসা (১ম খন্ড)

আমার চোখে ঠোটে গালে তুমি লেগে আছো !! “বলতেই হবে । আজ কোন ছাড়াছাড়ি নাই” । সবাই এক সাথে বলে । আমি সাহায্যের আশায় রফিক ভাইয়ের দিকে তাকাই । কিন্তু তিনিও আজ সবার সাথে সুর মেলান ।

“আচ্ছা বাবা বলছি । কিন্তু এটা এমন কোন বিশেষ কিছু না । খুব সিমপল একটা গল্প” । লিনা বলল “ কোন সমস্যা নাই অপু ভাই । আমরা তবুও শুনবো” ।

তারপর সবার দিকে তাকিয়ে বলল “কি শুনবো না ?” “ শুনবো”। সবাই একসাথে বলে উঠল । আমি চট করে তনুর দিকে তাকালাম । ও কোন কথা বলে নি । এখানে সবাই আমরা কলিগ ।

একই গ্রুপের । বেশ কয়েক দিন ধরে আমরা সবাই একটা এসাইনমেন্ট নিয়ে কাজ করছিলাম । কাল সেটা একসেপ্ট হয়েছে । এই জন্য আমাদের গ্রুপ লিডার আমাদের কে ট্রিটে নিয়ে এসেছে । আর এখানে সবাই আমাকে ধরছে আমার ভালবাসার কথা শোনার জন্য ।

আগে বেশ কয়েক বার আমি এড়িয়ে গেছি । কিন্তু এই মনে হয় পার পাবো না । রফিক ভাই বলল “আজ শেয়ার করেই ফেলল” । আমি আমার গল্প শুরু করি । “তিন সাড়ে তিন বছর আগের কথা ।

তখন আমি ভ্যগাবন্ডের মত ঘুরে বেড়াই । পড়ে লেখা শেষ , বাপের হোটেলে খাই কোন চেন্সন নাই । সারাদিন খাইদাই আর ঘুরে বেড়াই” । সবাই তাকিয়ে আছে আমার দিকে । কিন্তু তনু তাকিয়ে আছে অন্য দিকে ।

“এক দিনের কথা । বাসা থেকে বের হয়েছি । নিউমার্কেট যাবো বলে । বাসস্ট্যান্ডে দাড়িয়ে আছি বাসের জন্য । এমন সময় একটা মেয়েকে দেখলাম দাড়িয়ে আছে ঠিক রাস্তার অপজিটে ।

বলবো না যে সে বিশ্ব সুন্দরী ছিল । কিন্তু তার চেহারার মধ্যে কেমন একটা কোমলতা ছিল । আমি চোখ ফেরাতেই পারলাম না । অবাক হয়ে লক্ষ্য করলাম বুকের ভেতর কেমন যেন এক অনুভুতি হচ্ছে । এটাকে উপেক্ষা করার ক্ষমতা আমার নাই ।

আমি যন্ত্রের মত রাস্তা ক্রস করে ওপারে চলে গেলাম । যাওয়ার কথা ছিল নিউ মার্কেট চলে গেলাম মহাখালি” । “এরপর ঐ একই কাজ । মেয়েটার জন্য বাসস্ট্যান্ডে ওয়েট করা । একই বাসে করে মহাখালি যাওয়া ।

তারপর ফিরে আসা । এই মোটামুটি দিনের রুটিং আমার । মেয়েটা মনে হয় মহাখালিতে কোন একটা কিছুতে কোন কোর্স করতো । আমি সিওর ছিলাম না । কেবল জেনেছিলাম সপ্তাহে তিন দিন মেয়ে টা সকাল নয়টা সাড়ে নয়টার মধ্যে বাস স্ট্যান্ডে আসতো ।

তারপর শুরু হত আমাদের সরি আমার স্বপ্নের বাস জার্নি” । আমি একটু চুপ করলাম । “থামলেন কেন ?” লিনা বেশ অধর্য্য । “বলছি তো । দম নিতে তো দিবেন” ।

আমি আবার বলা শুরু করলাম । “ মেয়েটা প্রথমে কিছু লক্ষ্য না করলেও পরে ২/৩ সপ্তাহের মধ্যে ঠিকই ক্ষ্যল করলো যে আমি তার পিছু নিয়েছি । প্রথম প্রথম কিছু না হলে পরে দেখতাম আমাকে দেখলেই তার চোখমুখ শক্ত হয়ে যেত । ইস্পষ্টই সে বিরক্ত । আমার এরকম আচরন সে মোটেই পছন্দ করছে না ।

কিন্তু আমার তখন অবস্থাটা খারাপ । মেয়েটাকে না দেখে থাকতে পারি না । কি অদ্ভুদ তাই না ?” “ মেয়েটার নাম পর্যন্ত আমি জানি না কিন্তু কি অদম্য এই আকর্ষন । তারপর একদিন মেয়েটা নির্দিষ্ট সময়ে বাসস্ট্যান্ডে এলো না । পর পর তিন দিন এলো না ।

আমার অবস্থা তখন কি বলব । মনে হলে হয়তো শরীর খারাপ । অথবা কোর্সের সময় বদলিয়ে নিয়েছে । কিন্তু সে আর এল না । পরের তিনটা মাস আমি ঐ বাস স্ট্যান্ডে প্রতি দিন মেয়েটার জন্য ওয়েট করে থাকতাম ।

সকাল থেকে সন্ধ্যা । কিন্তু সে এল না । যেন একেবারে গায়েব হয়ে গেল আমার জীবন থেকে । “ “ বাবা মনে হয় কিছু একটা আচ করতে পেরেছিলেন । আমাকে বড় চাচার বাসায় পাঠিয়ে দেন কলকাতায় ।

এক রকম জোর করেই । কলকাতায় সময় কাটাতেই এমবিএ তে ভর্তি হয়ে যাই । তারপর এই অফিস । “ “ গল্প শেষ !” লিনা বলল “ আপনি আর কোন দিন তার দেখা পান নি না ?” আমি হাসলাম । বললাম “আর একটু বাকি আছে গল্পের” ।

“বাকি আছে ?” “ তারপর ?” “ কিছুদিন আগে মেয়েটার সাথে আমার আবার দেখা হয়েছে” । “হোয়াট” ? কথাটা সবাই একসাথে বলল । “কোথায় ?” (চলবে) ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.