মোহাম্মদ আলী বোখারী
কানাডার ‘সিবিসি রেডিও’র জনপ্রিয় অনুষ্ঠান ‘ডিসপেচেজ’-এ বাংলাদেশের যুদ্ধাপরাধ বিচার বিষয়ক প্রায় পৌনে নয় মিনিটের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করা হয়। গত ২৭ নভেম্বর সম্প্রচারিত এই অনুষ্ঠানে উপস্থাপক রিক ম্যাকানেস রয়কে টেলিফোনে সাক্ষাৎকারটি প্রদান করেন ঢাকা থেকে ডেইলি নিউ এজ-এর বিশেষ প্রতিবেদন বিষয়ক সম্পাদক ডেভিড বার্গম্যান।
এই সাক্ষাৎকারটি তখনই প্রচার করা হলো যখন বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনাল কর্তৃক গত ২ অক্টোবর ডেইলি নিউ এজের অপ-এড কলামে প্রকাশিত ডেভিড বার্গম্যানের নিবন্ধ ‘এ ক্রুসিয়াল পিরিয়ড ফর ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইবুনাল’ ওপর আদালত অবমাননার অভিযোগটি পত্রিকাটি সরাসরি অস্বীকার করেছে। এতে পত্রিকাটির আইনজীবি মুস্তাফিজুর রহমান খান বলেছেন, ওই নিবন্ধে আদালত অবমাননার মতো তেমন কোনো বিষয়বস্তু নেই বরং তা ‘কম্পিমেন্টারি টু ফেয়ার প্লে’ বা ন্যায়বিচারের উপযোগ। এদিকে আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইবুনালের তিন বিচারক নিজামুল হক, এটিএম ফজলে কবির ও একেএম জহির আহমেদের সমন্বয়ে গঠিত আদালতে অনুষ্ঠিত ‘আদালত অবমাননা’ বিষয়ক শুনানিতে আইনজীবি মুস্তাফিজুর রহমান খান সম্পাদক ডেভিড বার্গম্যানের আইন ও সাংবাদিকতা সংক্রান্ত প্রশিক্ষণ, অভিজ্ঞতা ও চিত্রনির্মানের পরিচিতিটি তুলে ধরেন।
তাতে বলা হয়, ১৯৭১ সালের হত্যাযজ্ঞে লিপ্ত প্রকৃত অপরাধীদের আইনের মুখোমুখি করতে ডেভিড বার্গম্যান সুদীর্ঘ সময় ধরে আলামত সংগ্রহের তৎপরতায় নিয়োজিত রয়েছেন। তার অভিজ্ঞতা কোনোক্রমেই আদালত অবমাননার সামিল নয়, বরং তিনি আদালত কর্তৃক নিরপেক্ষ বিচার সম্পন্নের স্বার্থে পক্ষপাতহীন সমালোচনা করেছেন।
সিবিসি রেডিও’র ওয়েবসাইটে সংরক্ষিত ডেভিড বার্গম্যানের সাক্ষাৎকারের পরিচিতি ‘জাস্টিস ডিলেইড অর জাস্টিস ডিনাইড’-এ বলা হয়েছে, যুদ্ধকালীন সাধারণ মানুষ মাত্রই অপরাধী হয়ে ওঠে। উদাহণন হিসেবে বাংলাদেশে রাজধানী ঢাকায় কসাইখানা বলে একটি জায়গার পরিচিতি রয়েছে। চল্লিশ বছর আগে এই এলাকাটির জলমগ্ন গোরস্থানে বাংলাদেশের স্বাধীনতাকামী হাজার হাজার মানুষকে পাকিস্তানি বাহিনী ছুড়ে ফেলেছে।
কখনো কাউকেই তাদের জন্য জবাবদিহিতায় আনা হয়নি । গত সপ্তাহে একটি যুদ্ধাপরাধ আদালত প্রথম সাতটি মামলার শুনানি শুরু করেছে। যদিও তা শোনা অভিযোগের ভিত্তিতে, যা আন্তর্জাতিক মানতুল্য নয় এবং সেসবকে বিস্মৃতির জন্য করা হতে পারে।
তবে সিবিসি’র ওই সাক্ষাৎকারে ডেভিড বার্গম্যান বলেছেন, অভিযুক্তরা যেহেতু বিরোধী রাজনৈতিক দলের, সেহেতু সরকারের দায়িত্ব হবে এই বিচার প্রক্রিয়াকে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন নিরপেক্ষ করা। তাদের ব্রিটিশ আইনজীবি নিয়োগ আদালত অনুমোদন দেয়নি।
এই বিচার প্রক্রিয়ায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতার হাত প্রসারিত থাকলেও বাংলাদেশ তা গ্রহণ করেনি। অথচ একই সময়ে কম্বোডিয়ায় অনুষ্ঠিত যুদ্ধাপরাধের বিচারে জাতিসংঘের সহযোগিতা নেয়া হয়েছে। এ জন্য দেশে-বিদেশে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ সংস্থাগুলো এই বিচার প্রক্রিয়ার সমালোচনা করেছে। তাকে রাজনৈতিক বলেছে। প্রসঙ্গত এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে নিবন্ধ লেখায় তাকে দোষী করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়।
এছাড়া সাক্ষাৎকারটিতে নব্বই সালের দিকে ব্রিটেনে বসবাসকারী বাংলাদেশের তিনজন যুদ্ধাপরাধীর ওপর বিবিসির জন্য ডকুমেন্টারী তৈরীর আলোকে এই বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে কথাগুলো বলেছেন বলে জানান ডেভিড বার্গম্যান। সাক্ষাৎকারটি শুনতে-
তথ্যসূত্র-
Click This Link
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।