আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মনের পশুরেই করো জবাই

বালক ইসমাইল তার বাবা ইব্রাহীম এর নির্দেশে ছুরির নিচে মাথা পেতে দিলেন। ইব্রাহীম পুত্রস্নেহের কাছে মাথা নত করলেন না। তাঁর কাছে ঈশ্বর-এর নির্দেশ বেশি গুরত্বপূর্ণ মনে হল। ঈশ্বর খুশি হয়ে ইব্রাহীমের ছুরির নিচে এক পশুর গলা পেতে দিলেন। নিরীহ পশু কোরবানি হয়ে গেল।

সেই ঘটনার স্মরণে প্রতি বছর একটা নির্দিষ্ট দিন ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা পশু কোরবানি করেন। এই পশুর মাংস হতে হবে হালাল আর উত্তম হয় যদি সেটা নিজের পালিত হয়। কারন পালা পশুর উপর টানটা বেশি থাকে আর কোরবানির দর্শন হল ঈশ্বরের নির্দেশকে সবার উপর স্থান দেওয়া। কিন্তু সমস্যা হোল অন্য জায়গায়। ইসলামি রীতি অনুযায়ী পশুহত্যার নিয়ম হল আল্লাহর নামে তার গলা কাটা।

ঈদ উল আজহার মূল আনুষ্ঠানিকতা হলো কোরবানি। অতএব গরু-ছাগল-দুম্বা-উট যাই হোক না কেন, আয়োজন করে তার গলা কাটা হয়। যিনি কোরবানি দেবেন, তিনি তো বটেই, তার স্ত্রী কন্যা শিশুপুত্রও উপস্থিত থাকতে পারে। শিশুরা আনন্দ নিয়ে দেখছে, কীভাবে গলাকাটা হয়। কীভাবে ফিনকি দিয়ে রক্ত বেরোয়।

কীভাবে একটা পশু মরার আগে ছটফট করে, কীভাবে শেষ চীৎকার দেয়। গড়িয়ে গড়িয়ে ড্রেনে মেশে তাজা রক্ত। পশ্চিমে সচরাচর পশুহত্যা হয় গুলি করে, লোকচক্ষুর আড়ালে। রক্তারক্তির ব্যাপারটা আড়ালেই থাকে। বুচার শপগুলো কাটাগলার উন্মুক্ত প্রদর্শনী করে না।

আমাদের এখানে অতো নিয়ম মানা হয় না। আর কোরবানির ঈদে তো কথাই নেই। রক্তমাখা ছুরি হাতে হুজুরেরা ছুটে যান এক বাড়ি থেকে আর এক বাড়ি। কৌতুহলী শিশু কিশোরেরা তার পিছু নেয়। হুজুরের কাজ পশুর গলা কাটা পর্যন্তই, এরপর চামড়া ছিলতে বসে কসাই।

সবকিছুই হয় বাড়ির শিশুটির চোখের সামনেই। এর মধ্যে বীভৎসতার যে ব্যাপারটি আছে আমাদের চোখে তা কখনো ধরা পড়ে না। আমরা তখন মাংস খেতে ব্যস্ত। আর ইহুদি-নাসারাদের তৈরি ভিডিও গেমস আর মুভি কীভাবে আমাদের কোমলমতি শিশুদের মনে ভায়োলেন্স ঢুকাচ্ছে, এই আলোচনা করছি। কিন্তু কর্তৃপক্ষও কি মাংস খেতে ব্যস্ত থাকেন? নীতিনির্ধারকেরা কি এমন কোন আইন করতে পারেন না যে, কোরবানির সব পশু জবাই হবে নির্দিষ্ট এক জায়গায় এবং অতি অবশ্যই শিশুদের চোখের বাইরে? এমন নিয়ম করা জরুরী।

কারন আমাদের শিশুরা তো বলতে ভুলে যাবে, "মাগো, এতো রক্ত কেন?" রাজশাহী ।

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.