মুক্তিযুদ্ধ আমাদের অহংকার, ধর্মান্ধতা ও দলান্ধতা মুক্তিযুদ্ধের চেতনার পরিপন্থী। রাজা-বাদশাদের আমল পিছনে ফেলে আজ আমরা একবিংশ শতাব্দীর সভ্য সমাজ। বেহায়াপনা,নির্লজ্জতা ছিল রাজা-বাদশাদের যুগেও, সে আমলে অশিক্ষিত, মূর্খ প্রজাদের শাসনকারী রাজা-বাদশাগন বেহায়াপনা করতেন নিজস্ব গন্ডীর ভিতরে। যার নাম ছিল রং মহল। বাঈজী নাচানোই ছিল সেই মহলের মূল আর্কষন সাথে মদ্যপান।
আমরা একবিংশ শতাব্দীর সভ্য সমাজ রাজা-বাদশাদের মত অসভ্য ভাবে চুপি-চুপি বাঈজী নাচাই না। আমরা সভ্য তাই আমাদের কর্মের মাঝেও সেই ছাপ সুস্পষ্ট। তাইতো আমরা সাংস্কৃতির মোড়কে বাঈজী নাচাই উন্মুক্ত মঞ্চে নৃত্য শিল্পী হিসেব। একটা সময় ছিল বিভিন্ন কাবিলা থেকে যুবতী মেয়েদের ধরে এনে বিক্রি করা হতো ধনাট্যদের কাছে। আজ আমরা একবিংশ শতাব্দীর সভ্য সমাজের বাসিন্দা, আমরা নিজেরাই নিজেদের বিক্রি করি কখনো তা হয় ফটো সুন্দরীর নামে কখনো বা ভিন্ন কোন নামে।
তবে হ্যাঁ আমরা কিন্তু রাজা-বাদশাদের মত নই আমরা একবিংশ শতাব্দীর সভ্য সমাজ।
হয়তো সেদিন আর খুব বেশী দূরে নয়, আমাদের পরবর্তী প্রজন্ম প্রশ্ন করবে আচ্ছা লজ্জা কি জিনসি?
ঢাকা ভার্সিটিতে পড়ে এক মেয়ে বন্ধু গতকাল ফোন করে চানতে চাইল আমাদের দেশে যে টিভিতে বা বিলবোর্ডে বিভিন্ন পন্যের বিজ্ঞাপন যে হয়, তার জন্য কি কোন নীতিমালা আছে? পাল্টা প্রশ্ন করলাম কেন? ও বলল দেখ বিশেষ করে ছেলের জন্য যে সকল পন্যের বিজ্ঞাপন আমরা দেখি সেখানে দেখা যায় মেয়েদের উপস্থিতি। তার প্রশ্ন ছেলেদের পন্যের বিজ্ঞাপনে মেয়েদের ব্যবহার করা যাবেনা এই ধরনের কোন নীতিমালা কি আছে? বললাম না। তারপরে চামড়া সুন্দরী প্রতিযোগিতা নিয়ে বেশ কিছু কথা হলো, এক পর্যায়ে ফ্রেন্ডটা বলল কোন সভ্য মেয়ে এ জগতে পা রাখবে না তার ধারনা। প্রশ্ন করলাম কেন আসবে না? ও বলল তার কয়েকজন বান্ধবী মডেলিং করে তাদের অবস্থা দেখে তার এই ধারনা জন্মেছে।
পেশাগত কারনে কিছু মডেলদের নিয়ে কাজ করতে হয়েছে সেই অভিজ্ঞতার কথা না হয় বাদ দিলাম। কিন্তু প্রশ্ন হলো আমাদের সমাজ সভ্যতার মোড়কে সাংস্কৃতির নামে চামড়া সুন্দরীদেরকে কি নিষিদ্ধ পল্লীর দিকে ঢেলে দিচ্ছে না?
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।