বাংলাদেশ ব্লগারস এসোসিয়েশন সদস্য নং: ১০ । facebook.com/milton3d আর দশটা ব্যাক্তির সাথে আপনাকে এক কাতারে দাঁড় করাতে পারছি না। প্রথমতঃ আপনি দেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের সাথে দীর্ঘদিন ছিলেন, সেইসাথে আছে আপনার বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন। বিভিন্ন আপদকালীন সময়ে সেই রাজনৈতিক দল তাদের পাশে আপনাকে পেয়েছে। এসব কিছুকে ছাপিয়ে আপনি এখন বাংলাদেশ গণপ্রজাতন্ত্রী সরকারের মাননীয় রাষ্ট্রপতি।
অর্থাৎ রাষ্ট্রের পিতা, রাষ্ট্র প্রধান।
মাননীয় রাষ্ট্রপতিঃ
মানুষের প্রতি অবিচার, নির্যাতন আর কেউ সমর্থন বা নিরব সমর্থন করলেও আপনি কখনই তা সমর্থন করবেন না সে ব্যাপারে একটা গাঢ় ধারণা ছিল বাংলাদেশের মানুষের মনে। তার একটি বড় কারণ আপনি ২১ অগাষ্ট ধিকৃত গ্রেনেড হামলায় হারিয়েছেন আপনার অর্ধাঙ্গীনি আইভি রহমানকে। যিনি আপনাকে তার সারাটা জীবন দিয়ে আগলে রেখেছিলেন। যিনি আপনার সন্তানদের মা।
তাকে নির্মম ভাবে হারানোর ব্যথা নিশ্চই আপনি অনুভব করেন প্রতিটি ক্ষণে। নিশ্চই আপনার সন্তানরা মা হারানোর ব্যথা অনুভব করেন প্রতিটি ক্ষণ। আসলে এ ব্যথা যে কতটা গভীর আর বেদনাদায়ক তা শুধু তারাই বোঝেন, যারা তাদের প্রিয়জনকে এভাবে অকালে হারিয়েছেন।
মাননীয় রাষ্ট্রপিতাঃ
কথায় আছে, "শাসন করা তারই চলে, সোহাগ করে যে"। একটা পরিবারের পিতা, তার সন্তানদের আদরও করেন আবার শাসনও করেন।
পিতার শাসন বা সোহাগ করার অধিকারের অপব্যাবহারের ফলে একটা পরিবার নষ্ট হয়ে যায়। ক্ষমার অযোগ্য অপরাধের শাস্তি যদি, পরিবার পিতা স্নেহের বশবর্তী হয়ে বারংবার অহেতুক মাফ করে দেন, তবে একসময়ে সন্তানরা পিতার উপরই চড়াও হয়।
মাননীয় রাষ্ট্রপতিঃ
অপরাধের মূল অপরাধী বা ঠান্ডা মাথার খুনীকে যদি আপনি মৃত্যুদন্ড শাস্তি মৌকুফ করে দেন তবে কি সেই অপরাধীর মত অন্য অপরাধীরাও মাথায় চড়ে বসবে না? যদিও আপনার সিদ্ধান্তের পরে আর কোন কথা চলে না। প্রাণভিক্ষা চাওয়া ব্যাক্তিকে আপনি প্রাণভিক্ষা দিতে পারেন। কিন্তু সে ক্ষমতার বারংবার ব্যাবহার কি অপরাধীদের অপরাধে উৎসাহ দিবে না?
মাননীয় রাষ্ট্রপতিঃ
আপনি এখন রাষ্ট্রপতি।
আপনি সমস্ত দল, মতের উর্দ্ধে। আপনি রাষ্ট্রের পতি। আপনার চোখে সবাই সমান। আপনি একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে আনিত এবং প্রমানিত এবং দন্ডিত ব্যাক্তিদের দন্ড মৌকুফ করেছেন। আপনি একটি রাজনৈতিক দলের শীর্ষস্থানীয় নেত্রীর সন্তানের সাজা মৌকুফ করেছেন।
নাটোরে গামা হত্যা মামলার ২০ জন ফাঁসির আসামীকে আপনি খালাসের হুকুম দিয়েছেন। রাষ্ট্রের চাঞ্চল্যকর ঘটনা আইনজীবী নুরুল ইসলাম হত্যা মামলার মৃত্যুদন্ড প্রাপ্ত আসামীকে মাফ করে দিয়েছেন।
মহামান্য রাষ্ট্রপতিঃ
সম্প্রতি আপনার আসামী ক্ষমার তালিকা দেখলে বোঝা যায়, একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের সাথে জড়িত লোকজনের অপরাধের শাস্তি আপনি ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখছেন। তবে কি আপনাকে পক্ষপাতদুষ্ট বলা যায় না? আপনার অবস্থানের সাথে আপনার ক্ষমার দৃষ্টান্ত গুলো খাপ খায় না।
সত্যিই, আপনার পূর্বের বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক অধ্যায়, বর্তমান রাষ্ট্রীয় ও সামাজিক অবস্থান এবং আপনার ক্ষতিগ্রস্থ পারিবারিক অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে আপনার নেয়া সিদ্ধান্তগুলোর মানতে আমাদের কষ্ট হচ্ছে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।