নৌকা আর ধানের শীষে ভোট দিয়ে সোনার বাংলার খোয়াব দেখা আর মান্দার গাছ লাগিয়ে জলপাইর আশা করা একই! বিস্ময়ের ব্যাপার হল দিনের পর দিন আমরা তাই করছি!! আবারো গোত্তা খেয়েছে বাংলাদেশের ডমেস্টিক এভিয়েশন বিজনেস। এর আগে এরোবেংগল, এয়ারপারাবত, বেস্ট এয়ার বেশ ঢাকঢোল পিটিয়ে ব্যবসাটা শুরু করলেও মূর্খতা, সরকারী প্যাঁচ এবং নানাবিধ কারনে তা ভেস্তে যায়। এ দফায় ইউনাইটেড, জিএমজি ও রিজেন্ট এয়ার ভাল একটা সাড়া ফেললেও গত কয়েকমাসে তা ক্রমেই ধবংসের দিকে যাচ্ছে বলে পত্র-পত্রিকায় প্রকাশ। অনুমান করি এভাবে এগুলে কিছুদিন পর এভিয়েশন আবারো বাংলাদেশ বিমানের করালগ্রাসে পরিণত হবে!
ঢাকা-চট্টগ্রাম রুটে বেশ কিছু ট্রাভেলের অভিজ্ঞতার আলোকেই বলি। হন্তদন্ত হয়ে সেনাকল্যান ভবনের ১২/১৩ তলায় যাই একদিন জিএমজির পরদিনের টিকেট কাটতে।
সন্ধ্যা ৭-০০ টা প্রায়। কেতাদুরস্ত লেডী এক্সিকিউটিভ টিকেট দিতে সম্মত হলেও বুকিং দিতে পারবেন না! (তার টিকেট ধুয়ে পানি খাব)। গেলাম দৌড়ে সোনারগাঁ হোটেল। ৮ টা বাজে বাজে অবস্থায় প্রায় রিকোয়েস্ট করে ঐদিনের মত রক্ষে! অথচ তারাই বলছিলেন সিট খালি!!
প্রশ্ন হল- এসব টিকেট কাউন্টার রাস্তার ধারে না হয়ে সেনাকল্যান বা সোনারগাঁর চিপার মধ্যে কেন? আর এত ভাব নিয়ে কাউন্টারের মাইয়া (ও পোলা) গুলা কথা বলে ক্যান?
আসি আরেকদিনের কথায়। এয়ারপোর্ট কাউন্টার।
রিজেন্টএয়ার। বললাম- পরদিন ১০-০০ টার দিকের টিকেট দেন। কয়- আছে ৫৮০০ টাকা! আমি কৈলাম, ক্যান ৪০০০ টাকাই তো জানি। ওরা কয় ঐ টিকেট নাই! পাঠকদেরকে বলে রাখি ড্যাশ বা সেশনা ৪০/৫০ সিটের এসব প্লেনের সামনের সিট যা পেছনেও তা!! ফাস্ট ক্লাশ বা সেকেন্ড ক্লাশ বলতে কিছু নাই। বাসের মত।
তবে হারামজাদা এয়ারলাইন্সগুলা ফেরৎযোগ্য অফেরৎযোগ্য এসবের ভিত্তিতে টিকেটের ৩ রকম দাম করে রেখেছে। অর্থাৎ, আপনি ৫৮০০ টাকা দিয়ে টিকেট কেটে ফেরৎ দিয়ে যাবেন আরেকজন ৪০০০ টাকায় অফেরৎযোগ্য শর্তেও তা পাবেনা! মাঝখানে সিটটা ফাঁকা গেল। তেল খরছ কিন্তু সমান!
ছাগলের বাচ্চাদের আরেকটা ব্যবসায়িক মূর্খতা ৪০ মিনিটের এসব ফ্লাইটে কেক, স্যান্ডউইচ, চকলেট, পানি, কোক, বাদাম দিয়ে ফালতু পয়সার অপচয় করা ও ২ জন কন্ডাকটর (বালা!!!) রাখা। ১ জন স্টুয়ার্ড ও আপ্যায়ন বাদ দিয়ে টাকাটা ডিসকাউন্ট দিলেই কাস্টমার বাড়বে।
এদেশের এভিয়েশনের প্রতি আমজনতার বড় অভিযোগ দাম বেশী।
আর কোম্পানি গুলার কথা প্যাসেন্জার কম। পোষায় না এর কমে। সুতরাং গুটিকয়েক কাস্টমার ও গলাকাটা প্রাইসের টেকনিকই তাদের সম্বল। গাধার বাচ্চারা সমস্যার গোড়ায় হাত দেয়না। তা হল-
কাস্টমার বেজ বাড়াও
সিটি সেন্টার থেকে এয়ারপোর্ট গুলাতে যাওয়াই বিরাট সমস্যা।
আমি রিজেন্টের কাউন্টারম্যানকে একদিন বললাম, আপনারা একটা মিনিবাস শাটল দিলেতো অনেক উপকার হত। আরো কাস্টমার পেতেন। ও বলে, লাগবে না- আমাদের মালিকের ফ্যামিলির লোকই বেশী চড়ে। ওদের গাড়ী আছে। আর এরকমটা করলে সবাই লেট করবে!!! ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।