আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

শ্রম আইনে আরো সংশোধনী আনতে হবে: আইএলও

গত ১৫ জুলাই জাতীয় সংসদে পাশ হওয়া বাংলাদেশ শ্রম আইন (সংশোধন) ২০০৬ বিষয়ে সোমবার দেয়া এক বিবৃতিতে এই প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে আইএলও।
তবে বাংলাদেশের সই করা চুক্তিগুলোর আওতায় আন্তর্জাতিক শ্রমমানের সঙ্গে সংশোধিত আইন পুরোপুরি সঙ্গতিশীল কী না এবছরের আরো পরের দিকে সংস্থাটির পর্যবেক্ষকরা তার মূল্যায়ন করবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রাথমিক পর্যালোচনায় আইএলও বলেছে, শ্রমিকদের সংগঠন করার ও দলবদ্ধভাবে দরকষাকষির মৌলিক অধিকারকে পূর্ণ শ্রদ্ধা প্রদর্শনে এবং পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্যঝুঁকি নিরসনে সরকারের দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে সংশোধিত শ্রম আইন ‘প্রথম পদক্ষেপ’ হিসেবে প্রমাণিত হবে বলে আশা করা যায়।
এতে বলা হয়, আইএলওর সৃনির্দিষ্ট কিছু উদ্বেগকে আমলে নিয়ে সরকার শ্রম আইন সংশোধন করলেও আন্তর্জাতিক শ্রমমান অর্জনের ক্ষেত্রে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপের ঘাটতি রয়ে গেছে।
কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনে আনা বেশকিছু সংশোধনীকে স্বাগত জানিয়েছে সংস্থাটি।

তবে পেশাগত নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য বিষয়ে আন্তর্জাতিক শ্রমমানের দুটি কনভেনশনে দ্রুত অনুসমর্থন করতে তাগাদা দিয়েছে।
আইএলও বলেছে, সংশোধিত আইনের আনুষ্ঠান্কি ও অনুদিত কোনো কপি এখনো না পাওয়ায় অনানুষ্ঠানিক অনুবাদের ওপর নির্ভর করে তারা প্রাথমিক মতামত দিয়েছে।
ইউনিয়ন গঠনের জন্য শ্রম দপ্তরে জমা দেয়া প্রয়োজনীয় স্বাক্ষরের তালিকা কারখানা মালিকদের দেয়া নিষিদ্ধ করে আনা সংশোধনী, দরকষাকষির সময় শ্রমিকদের জন্য বাইরে থেকে বিশেষজ্ঞ আনার সুযোগ ও সরকারি কারখানাগুলোর ইউনিয়নে ১০ শতাংশ সদস্য বাইরে থেকে রাখার সুযোগ দেয়াকে স্বাগত জানিয়েছে আইএলও। তবে সর্বশেষ সুযোগটি সরকারি কারখানার মতো ব্যক্তিমালিকাধীন কারখানাগুলোতেও দেয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
এছাড়া ইউনিয়ন গঠনের জন্য কমপক্ষে ৩০ শতাংশ সদস্য থাকার বাধ্যবাধতা, রপ্তানি প্রক্রিয়াজাতকরণ অঞ্চলগুলোতে শ্রমিকদের ইউনিয়ন করার ও সম্মিলিতভাবে দরকষাকষি করার অধিকার না দেয়া এবং চুক্তিভিত্তিকসহ বেশকিছু খাতের শ্রমিকদের আইনের বাইরে রাখায় আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।


এছাড়া কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও স্বাস্থ্য সেবার অধিকার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আনা সংশোধনীগুলোকে স্বাগত জানিয়েছে আইএলও।
তবে অনুসমর্থিত আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর আওতায় অন্যান্য মৌলিক অধিকারগুলোর বিবেচনায় নিয়ে আইএলও আহ্বান করার পরও সংশোধনীতে চাকরি ও ব্তেন বৈষম্য নিষিদ্ধ না করার সমালোচনা করেছে সংস্থাটি।
এছাড়া শৃঙ্খলা ভঙ্গ বা ধর্মঘটের অধিকার সংক্রান্ত বিধি ভঙ্গের জন্য শাস্তি হিসেবে অতিরিক্ত শ্রম নিষিদ্ধ না করার এবং শিশুদের ঋণের দায়ে না আটকানোর বিষয়ে সংশোধনী না আনায় আপত্তি জানিয়েছে আইএলও।
আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলোর পালন করতে শ্রম আইনের গুরুত্বপূর্ণ সংশোধনী জরুরি ভিত্তিতে আনার জন্য তাগিদ দিয়েছে আএইএলও।
এছাড়া ওয়ার্কার্স পার্টিসিপেশন কমিটির নির্বাচন মালিকদের অধীনে অনুষ্ঠানের বিধি পরিবর্তনের প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়েছে।


আন্তর্জাতিক চুক্তিগুলো ছাড়াও সম্প্রতি ইইউসহ ত্রিপক্ষীয় চুক্তিতে দেয়া আইন সংশোধনের প্রতিশ্রুতিগুলো পূরণে সরকারকে শিগগরিই পদক্ষেপ নিতে আহ্বান জানিয়েছে আইএলও।
এছাড়া প্রয়োজনীয় সংশোধনীর প্রস্তাব ও পরিদর্শকের নতুন দায়িত্ব বাস্তবায়নের বিষয়ে শিগগরিই বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে আইএলও।

সোর্স: http://bangla.bdnews24.com     দেখা হয়েছে ১১ বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।