আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

সহনশীল ভাবনা ও সাম্প্রতিক রাজনীতি

আমি শুধুই মানুষ, কোন বিশেষণ নাই।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনীতি যে একটা অস্থির সময় পার করছে তা নিয়ে কারো সন্দেহ না থাকারই কথা। ক্ষমতাসীন ও বিরোধী উভয়ের রাজনৈতিক বক্তব্য, মতামত ভিন্ন হলেও লক্ষ্য একটাই তা হলো ক্ষমতা টিকিয়ে রাখা অথবা ক্ষমতা দখল করা। এই একটি উদ্দেশ্য হাসিল করতে তারা এমন কিছু নাই যা করতে রাজী নয়, এমন কিছু নাই যা তারা বলতে রাজী নয়। তাদের এই করা বা বলা তাদের রাজনৈতিক আদর্শ, ব্যক্তিত্ব, দেশের সংস্কৃতির সাথে সামঞ্জস্য পূর্ণ কিনা তা নিয়েও তারা ভাবতেও রাজী নন।

তাদের ভাবনা এমন যেন তারাই দেশের একমাত্র চালাক নাগরিক আর আম জনতা বোকা হদ্দরাম। আওয়ামীলীগ দেশের প্রাচীনতম রাজনৈতিক দল যাদের একটি গৌরবোজ্জল ইতিহাস আছে। মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধুর মতো ব্যক্তিত্ব, স্বাধীনতা সংগ্রাম সহ নানা ঐতিহ্য দলটির সাথে ওতোপ্রোতভাবে জড়িত। স্বাভাবিক ভাবেই দলটির কাছে মানুষের প্রত্যাশা বেশী ছিল; হয়তো ভবিষ্যতেও থাকবে। দায়িত্বশীল রাজনৈতিক চর্চা দলের সর্বস্তরের নেতা কর্মীর কাছে প্রত্যাশিত।

বঙ্গবন্ধুর হত্যা পরবর্তী সময়ে দলটি জনগণের সে প্রত্যাশা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। আজ যে বিষয়টি সবচেয়ে বেশী আলোচিত তা হলো যুদ্ধাপরাধীর বিচার। আর এ বিষয়ের সাথে জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি আষ্টেপৃষ্ঠে গাঁথা। অথচ খুব বেশীদিন আগের কথা নয় যখন এ দলটির সাথেই জোট গঠন করে আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় আরোহন করেছিল। আর আজ দলটির সে সব নেতারা কেউ ফাঁসি আবার কেউ যাবত জীবন দন্ডে দন্ডিত।

অল্প কদিন আগে যখন হেফাজতে ইসলাম নামের নব্য জামায়েতে ইসলামের উথ্থান ঘটে তখনও সরকারের আচরণ অনেকটা তাদের সাথে সমঝোতার মাধ্যমে ক্ষমতায় টিকে থাকার মতো। এ দুটো ঘটনাই যারা বঙ্গবন্ধুর আদর্শের আওয়ামীলীগকে ধারণ করেন এবং একটি অসাম্প্রদায়িক বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেন তাদের জন্য হতাশা ব্যঞ্জক। এখানে দলটির আদর্শিক পরাজয় হয়েছে। সাধারণ মানুষের কাছে প্রতীয়মান হয়েছে দলটি নিতান্তই ক্ষমতার জন্য রাজনীতি করছে, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের শক্তি হিসেবে দায়িত্ব বোধের জায়গা থেকে দলটির বিচ্যুতি ঘটেছে। এরশাদের জাতীয় পার্টির সাথে আওয়ামীলীগের এই জায়গাটাতে পার্থক্য করা সত্যিই কঠিন্।

ব্যাপারটা যে শুধু মাত্র আওয়ামীলীগ প্রেমিদেরকে হতাশ করেছে তা নয়, দোদুল্যমান ভোটারদেরকেও দারুণভাবে প্রভাবিত করেছে। সাম্প্রতিক ৫টি সিটিকর্পোরেশন; বিশেষ করে গাজীপুরের নির্বাচনে তাই প্রমাণিত হয়েছে। আমাদের দেশে শুধুমাত্র দৃশ্যমান উন্নয়ন দিয়ে ভোটারদের মন জয় করা যাবে এমনটা ভাবার সুযোগ যে ন্ই তা মোটামুটি সবাই বুঝেন। এখানে যে রাজনৈতিক বিষয়টি ভোটারদরেকে আবেগাপ্লুত করে সে জায়গাটেতে সরকারী দল মার খেয়েছে। আরো একটি বিষয় অবশ্যই বিবেচ্য, তা হলো আমাদের রাজনীতি দলপ্রধান নির্ভর।

তারেক জিয়ার অর্থ পাচার আর আবুল হোসেনের দূর্নীতি যা-ই বলেন সব কিছুর দায়ভার কিন্তু দল প্রধান বা দলকেই বইতে হবে। শেয়ার বাজার, হলমার্ক, রেলের ৭০ লাখ টাকা, পদ্মা সেতু কোন কিছুই কিন্তু আওয়ামীলীগকে ছাড়বেনা। বর্তমান সময়ে সরকারী চাকুরীতে কোটা নিয়ে যে বিতর্ক; পরবর্তী সময়ে প্রধানমন্ত্রীর এ প্রসঙ্গে যে বক্তব্য সবকিছু মিলে বর্তমান তরুণ সমাজের যে অনুভূতি তা আওয়ামীলীগের বিরুদ্ধেই যাবে। সরকারী দলের নেতা-মন্ত্রীদের অতিকথন দলটির জন্য ক্ষতি বৈ লাভ বয়ে আনবে বলে মনে হচ্ছেনা। তত্ত্বাবধায়ক ইস্যুতেও সরকারী দল পরাজিত।

আমি অনেক সাধারণ মানুষের সাথে কথা বলে বুঝেছি, তারা যে ঠিক তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থার পক্ষে তা নয় কিন্তু বিপক্ষেও নয়। তবে সরকারী দলের বিষয়টি নিয়ে বাড়াবাড়ি তাদের মনে সন্দেহের উদ্রেক করে। তাদের কাছে গণতন্ত্র বলতে একটি গ্রহনযোগ্য নির্বাচন; কোন ব্যবস্থায় হলো তা বড় বিষয় নয়। তাদের বক্তব্য অনেকটা এমন যে, যদি আওয়ামীলীগ সত্যিই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন চায় আর নির্বাচনে চুরির চিন্তা না করে তাহলে তত্ত্বাবধায়ক ব্যবস্থায় দোষটা কোথায়? সরকারী দল যদি নিতান্তই মনে করে যে বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা কোন রাজনৈতিক সুবিধা পাবে তা হলে তা হবে তাদের জন্য আরেকটা মরণ ফাঁদ। আওয়ামীলীগের অধীনে নির্বাচন হলে বিএনপিকে জয়ী করার দায়িত্ব এসে পড়বে সরকারের উপর; তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে হলে আওয়ামীলীগ অন্তত সে দায়িত্ব থেকে মুক্তি পাবে।

৫টি সিটিকর্পোরেশন নির্বাচনে পরাজয় ও সাম্প্রতিক দল প্রধান ও অন্যান্য নেতাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন বক্তব্য আওয়ামীলীগকে ঘোর সংকটে ফেলে দিয়েছে। দলের সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বক্তব্য ও কর্মকান্ডে দূরদর্শী, সহনশীল ও টেকসই চিন্তা চেতনার অভাব আমাদেরকে হতাশ করেছে। (চলবে....)

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.