মেঘের কোলে ভাসিয়ে দিলাম আমার যত কল্পনা
- তুই এখন আর আমাকে আগের মতো বন্ধু মনে করিসনা।
- কেন...? তোর এমন মনে হওয়ার কারণ কি? জানতে পারি।
- আমি জানি।
- তাই.... কি করে বুঝলি?
- তোর বিয়ের পর থেকে আমাকে আর পাত্তাই দিসনা।
- তাই নাকি! বলিস কি?
- হুমম এটা আমি ভালো করেই বুঝি।
আমি ফারাহ, ও হচ্ছে আমার ফুফাতো বোন নীলাঞ্জনা, বন্ধুও বটে। সে প্রায়ই এই কথা আমাকে বলে- আমি নাকি থাকে ভুলে গিয়েছি বিয়ের পর। কবিতা আপু হলেন নীলাঞ্জনার বড় বোন। আপু আমার চেয়ে ৪ বছরের বড়। তার সাথে কথা বলতে আমি ভয়ে কাঁপতাম কারণ সে ভালোবেসে শাসনে রাখতো সব সময়।
আবার একদিকে মজাও পেতাম। মজার একটা কথা না বললেই নয়। আপু সব সময় সুন্দর করে বিছানা গুছিয়ে রাখত। তাকে রাগানোর জন্য আমি আর নীলাঞ্জনা বিছানায় গিয়ে বসতাম আর আপু তেলে বেগুনে জ্বলে উঠত... ইসস আপুর রাগমাখানো মুখটা কি সুন্দর না লাগতো! এখনও সেই মুখখানা চোখের পাতায় ভাসে।
যাই হোক, নীলাঞ্জনা যখন আমাদের বাসায় আসত বা আমি যখন যেতাম তাদের বাসায় তখন আমাদের মনে হতো এই ভুবনে সে আর আমি ছাড়া আর কেউ নাই।
বর্ষার নদী-নালার মতো আনন্দের স্রোত আমাদের মনে বয়ে বেড়াত..........যা বলার অপেক্ষা রাখেনা।
দুইটা সময় আমাদের কাছে খুব প্রিয় ছিল ‘কাক ডাকা ভোর’ আর ‘মধ্যদুপুর’। দুজন মিলে পাশের বাসায় দোলনা চরতে যাওয়া আর কত মজা করে চা বাগানে ইচ্ছে মতো ঘুরে বেড়ানো! পেয়ারা গাছে বসে বসে পেয়ারা খাওয়া, কাঁচা পেয়ারাগুলো লবন-মরিচ দিয়ে খাওয়ার স্বাদই আলাদা। মনের মতো করে গানের সুর ছড়িয়ে দেওয়া।
আর যখন যার যার বাসায় চলে যেতাম তখন শুরু হতো চিঠির পালা।
কি আনন্দই না লাগত যখন চিঠি হাতের মুঠোয় এসে পৌঁছতো। কমপক্ষে সপ্তাহে তিন-চারটা চিঠি আমরা দেয়া-নেয়া করতাম। চিঠিও যেমন তেমন লিখা হতো না, যেন এখানে মহাভারতের কাহিনীর মতো লিখে দিতাম সারাদিন কে কি কি করলাম না করলাম। আর সব চেয়ে মজার কথা হলো চিঠি এলে সবার চোখে প্রশ্ন জাগত, আমাদের কাছ থেকে নিয়ে পড়ার জন্য খুব কাড়াকাড়ি শুরু করতো। জানতে চাইত এটাতে কি লেখা আছে।
বলে শেষ করা যাবেনা সেইসব রঙ্গিন দিনগুলোর কথা। পাখির মতো উড়ে বেড়াত দু'টি মন।
বিয়ের পর হয়ে গেলাম সংসার নিয়ে ব্যস্ত, সবাই যে রকম হয়। নীলাঞ্জনার সাথে প্রতিদিন দেখা হয়, কথা হয়। ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় তাকে সময় দিতে পারিনা।
তখন তার অনেক রাগ হয় আমার উপর, আমারও বটে।
আমার তখন ধীরে ধীরে কবিতা আপু খুব কাছের মানুষ হয়ে উঠল, আপুর কাছেও আমি। বন্ধুত্বের হাত বাড়িয়ে দিলাম আমরা, ব্যাস...হয়ে গেলাম বন্ধু। এখনো বন্ধুত্বে আবদ্ধ হয়ে আছি।
নীলাঞ্জনার মন.....কবিতা আপুর সাথে এইভাবে চলা-ফেরা করাকে মেনে নিতে পারেনা।
আমি নাকি এখন তার চেয়ে আপুকে বেশি ভালোবাসি। আমি কিছুই বলতে পারিনা। তার পুরো মনে বসে আছে আমি থাকে ভুলে গেছি।
কিন্তু সে জানে তাকে ঘিরে আমার সুন্দর অতীত, অনেক রুপকথা এখনও জাগিয়ে রাখে কত রাত। আর সে আমার জীবনের সাথে যেমন মিশে ছিল তেমনি আছে এখনও।
সাগর যতদিন পানিকে ভালোবাসবে, গাছ যতদিন পরিশ্রান্ত মানবকে ছায়া দেবে, সূর্য তার নিজস্ব গতিতে যতদিন পৃথিবীকে আলোকিত করবে ততদিন তোর আর আমার বন্ধুত্ব একই সূতায় বাঁধা থাকবে।
“বন্ধু, যাবনা তোকে ফেলে-
আমি আছি, থাকবো, কোথাও যাবনা তোকে ছেড়ে
কতই বা দূরে যেতে পারি বল?
আমার নির্জনতায়, একাকীত্বের প্রতিটি মূহুর্তে
জড়িয়ে আছিস তুই।
আমি সারাক্ষণ মিশে আছি তোর বুকে-নিঃশ্বাসে,
তবে কেন?
এতো ভয় এতো ভাবনা তোর দুচোখে?”
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।