"এই বিংশ শতাব্দীতে আলো আঁধারের আরেক রকম মানে, যেখানে সূর্যের আলো বা প্রদীপের ব্যবহার নেই; সেখানে অন্ধকার..."
বুয়েটের রাজনীতি করে খুবই সীমিত সংখ্যক ছাত্র। ব্যাচপ্রতি বিশ-পঁচিশজনের বেশি হবে না। হলে হলে যখন কমিটি করার জন্য নির্বাচন হয় তখনই বোঝা যায় ছাত্ররাজনীতির বেহাল অবস্থা। হলে হলে রাজনীতির লেজুড়বৃত্তিকারীদের দেখা যায় পদ দেয়া যায় এমন কাউকে খুঁজে বেড়াতে। কিছু লাফাঙ্গা ছেলে যারা বুয়েটে ভর্তি হয়ে নিজের জীবনের সব উদ্দেশ্য পূর্ণ হয়ে গেছে বলে মনে করে সেই ছেলেগুলোই রাজনীতি করার জন্য ছোঁকছোঁক করে তথাকথিত বড় ভাইদের আশেপাশে।
সুযোগসন্ধানী বড়ভাই আর এই জুনিয়র লাফাঙ্গাগুলো কাছাকাছি আসে প্রথমত হলের থ্রোতে আর মূলত পরীক্ষা পেছানোর মিছিল করতে গিয়ে। একটা সময় যখন বড় ভাইরা বুয়েট ছেড়ে চলে যায় তখন এই লাফাঙ্গা রাজনৈতিক আদর্শশূন্য নেতা হতে ইচ্ছুক ছেলেগুলো বড় ভাই হয়ে বসে। এভাবেই চক্র চলতে থাকে। ভার্সিটিতে রাজনীতি করার সুবিধাস্বরূপ চাকুরিক্ষেত্রে বাড়তি সুবিধা পায় এরা। রাজনৈতিক পরিচয়ে সবচেয়ে বড় সুবিধা পায় ছাত্রশিবিরের কর্মীরা।
সারা বুয়েট লাইফ লুকো-ছাপা করে সকাল-সন্ধ্যা সালাম আর ইফতার পার্টির মাঝেই বুয়েট ছাত্রশিবিরের কর্মকাণ্ড সীমাবদ্ধ থাকলেও পাশ করার পর এরা শিবিরের গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা পায়। শিবিরপন্থী বিভিন্ন বেসরকারী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রভাষক, বেসরকারী সফটওয়্যার ফার্ম, কন্সট্রাকশান ফার্ম, ব্যাঙ্ক এসবে একমাত্র নিয়োগই দেয়া হয় ছাত্রশিবির পরিচয়ের বুয়েটিয়ানদের। ছাত্রশিবির বুয়েটে পড়া অবস্থায় তার কর্মীদের জন্য বৃত্তির ব্যবস্থা রাখে। যদ্দুর জানি, প্রতি ব্যাচে তিনজন ছেলে মাসে তিনহাজার (কয়েকবছর আগের এমাউন্ট এখন কত জানি না) করে টাকা পায়। এই টাকাটা দেয়া হয় টার্ম ফাইনালের রেজাল্টের উপর ভিত্তি করে।
বুয়েট ছাত্র-শিবিরের আরেকটা ব্রাঞ্চ হলো অনলাইন কর্মী। এরা পেইড ব্লগার টাইপ। বিভিন্ন ফোরামে শিবিরের প্রচারণা চালানো, শিবিরের বিরূদ্ধে আসা অভিযোগের জবাব দেয়া এসব করে। এরকম আট-দশজন ছেলে তাদের কাজের বদলা বাবদ ইন্টারনেট বিল পায় সংগঠনের তহবিল থেকে। ছাত্রলীগ-ছাত্রফ্রন্ট-ছাত্রদল সবার ঠ্যাঙানি খেয়েও ক্যাম্পাসে শিবির করার পেছনে এই কারণগূলো প্রধান।
অন্যদিকে ছাত্রফ্রন্টের রাজনীতি মূলত আদর্শিক। বেশ কিছু ছেলে যারা দিনবদলের স্বপ্ন দেখে তারা ছাত্রফ্রন্টের আদর্শের বুলিতে আকৃষ্ট হয়ে ফ্রন্টে ভিড়ে। একটা সময়ে বুঝতে পারে এ রাজনীতির কোন ভবিষ্যত নেই। তবুও আদর্শের ধ্বজা ধরে একটা গ্রুপ রাজনীতি চালিয়ে যায়, আরেকটা গ্রুপ খুবই শ্যালোভাবে ওদের সাথে লেগে থাকে, কিন্তু দলীয় কর্মকাণ্ডে যোগ দেয় না। বুয়েটে ছাত্রফ্রন্টের রাজনীতি অনেকটা তাবলীগী দাওয়াতের মতো।
আসলেই এরা ইন্ডিভিজ্যুয়ালি অনেক পেইন দেয়। এদের একটি বড় অংশ পাশ করার পর পাড়ি জমায় বিদেশে। সকল কম্যুনিস্ট মারা যায় পূজিবাদী বেডে শুয়ে এই প্রবাদখানা এদের ক্ষেত্রে বড়োই সত্য।
অন্যদিকে ছাত্রলীগ-ছাত্রদলের রাজনীতি পেশীশক্তির প্রদর্শনভিত্তিক। এরা ক্যাম্পাসে রাজনীতি করে শুধু এক ধরণের শো অফ এর জন্য।
একটু লায়েক হলে ছেলেরা যেমন সিগারেট ফুঁকে বাহাদুরি জাহির করতে চায়, সারাজীবন বইয়ের আর পত্রিকার পাতায় ছাত্ররাজনীতি পড়ে আসা কিছু এডভেঞ্চারাস ছেলে বুয়েটে এসে হয় ছাত্রলীগ না হয় ছাত্রদলে সমর্থন দেয়। এই মেরুকরণ মূলত নির্ভর করে ছোটবেলা থেকে কে কিভাবে বেড়ে উঠেছে। জিয়ার আদর্শ আর মুজিবের ক্যারিশমা এই দুইয়ের কোনটাতে কে আগে থেকে মুগ্ধ তার উপরই নির্ভর করে দল নির্বাচন। দল যাই হোক এরা ক্যাম্পাসই একটা কাজই করে তা হলো শক্তির একটা মহড়া দেয়া। এর পাশাপাশি দেশের সর্ববৃহৎ দুই দলের নেতাদের সাথেও সাক্ষাত হয়, সেটাও কম রোমাঞ্চকর নয়।
এদের কাউকে কর্মী সংগ্রহে ফ্রন্টের মতো পেইন দিতে হয় না। বন্ধুত্বের সূত্রেই যে কোন দরকারে ছাত্র মেলে, কারণ বাংলাদেশের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটটাই এমন যে গড়পড়তা সবাই হয় আওয়ামী লীগ অথবা বিএনপিকে ভোট দেয়। ছাত্রলীগ-ছাত্রদল মেরুকরণ সেই গড়পড়তা হিসেবের মধ্যেই বাঁধা।
এতক্ষন যা বললাম তাই ছিলো বুয়েটের ছাত্ররাজনীতির অবস্থা। কিন্তু সম্প্রতি কিছু ছাত্র যারা মূলত ছাত্রলীগের ছত্রছায়ায় ক্যাম্পাসে থাকে তারা বুয়েটে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে।
কেউ স্বনামে এর প্রতিবাদ করার সাহস করতে পারছে না। কিন্তু বিভিন্ন ব্লগে ছদ্মনামে মন্তব্য দেখে বোঝা যায় বুয়েটের বর্তমান অবস্থা কতটা ভয়াবহ। ছাত্রলীগের এই পাপীগ্রুপ বুয়েটের উপাচার্য, ছাত্রকল্যান উপদেষ্টা, উপ-উপাচার্য প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন। প্রশ্রয়দাতা হিসেবে বুয়েটের শিক্ষক অধ্যাপক মূণাজ আহমেদ নূরের নামও দেখতে পাচ্ছি বিভিন্ন ব্লগে। যে ছেলেগুলো গৌতমকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলো, যে ছেলেগুলো ক্যাম্পাসে সাধারণ ছাত্রছাত্রীদের জিম্মি করে রেখেছে ভয় দেখিয়ে, ক্যাম্পাস এবং তার আশপাশের দোকানপাটে চাঁদাবাজি শুরু করেছে, ক্যাম্পাসে সহিংস রাজনীতি শুরু করেছে এদের চেহারা সকল বুয়েট এলামনাইদের চিনে রাখা দরকার...
ওয়ালী'০৫
রনক, ০৪ এই হলো মূল শয়তান
রানা'০৫
মম'০৭
ফাইরুজ, ০৬. অধ্যাপক মূণাজ আহমেদ এর ডানহাত
বাঁধন, ০৭
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।