আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

আমি তোমাকেই বলে দেব সেই ভুলে ভরা গল্প.....কড়া নেড়ে গেছি ভুল দরজায়...(শেষ প্‌র্ব)

:-)
প্রথম পর্ব দ্বিতীয় পর্ব তৃতীয় পর্ব ০৪/০২/২০১০ (বৃহস্পতিবার) সায়ন, তোর সাথে অনেকদিন পর দেখা হল। আগের মতই আছিস তুই! তোকে দেখে তোকে প্রথম দেখার সেই দিন্‌টার কথা মনে প্‌ড়ে যায়। মুগ্ধ ভঙ্গিতে ব্‌ই-এর পাতা উল্টাছিলি তুই। তোকে দেখে পুরো শ্‌রীর কাঁপা শুরু করল আমার। ঠিক সেই মুহুর্তেই কেউ যেন আমার কানে কানে বলে গেল,”যত্‌ই তুমি তাকে ভুলে থাকার চেষ্টা করনা কেন,সায়ন্‌কে তুমি ঠিক-ই ভালোবাস আনিলা,এখনো,আগের মত!” ভাব্‌লাম পালিয়ে যায়।

কিন্তু পারলাম না। ধীরে ধীরে এগিয়ে গেলাম,তোর পাশে দাঁড়ালাম। যে ছেলে কোন্‌দিন আমার দিকে ভাল করে দেখেইনি সে আমাকে আজকে দেখতে পাবে সেটা আশা করা অন্যায় ছিল। কিন্তু আমাকে অবাক করে দিয়ে তুই আমাকে দেখলি এবং সবার সামনেই বল্‌লি,”আরে নীলু বেগম যে! ক্‌ত্তদিন পর! ডিইউ তে চান্স পাওয়ার পর যে ভাব হ্‌ইসে তোর!” তোর সাথে অনেকদিন পর দেখা হ্‌ওয়াতেই কিনা জানিনা,হ্যাঁ-হুঁ ছাড়া কিছুই বলতে পারিনি আমি। তোর কাছেই শুনলাম তুই সামিহাকে ফেইসবুকে এড করসিস।

ওর নাকি এখন বয়ফ্রেন্ড্‌ও আছে। মেক-আপ আর কৃত্তিমতার রং সামিহার অপূর্ব সুন্দর রূপ ঢেকে ফেলেছে। শুনে অবাক হলাম তোর নাকি এখন আর সামিহাকে ভাল লাগেনা। অদ্ভূত নারে? এই মেয়েটার জন্য বারবার তুই আমাকে ফিরিয়ে দিয়েছিস আর আজ? তোর কথাগুলো শুনে খুশি হ্‌ওয়া উচিত ছিল কিন্তু পারিনি। কেন জানিস? এক্‌টু ঈর্ষা হল।

কারন তুই নিয়মিত আমার খোঁজ না রাখলেও সামিহার খোঁজ ঠিক-ই রেখেছিস। অবশ্য আমার তো আর ফেইসবুক নাই যে আমার খোঁজ নিবি! ফোন করতে টাকা লাগবেনা? এবং তুই এক্‌টুও বদলাস্‌নি। এতদিন পর তোর সাথে আমার দেখা হল—তুই সামিহার গ্‌ল্পই করে গেলি। একবারও জান্‌তে চাইলি না আমি কেমন আছি। ভাল,এই শেষ! আর কোন্‌দিন তোকে নিয়ে ভাব্‌বনা আমি! তোকে ফোন... লেখাটা শেষ হ্‌ওয়ার আগেই মুঠোফোন বেজে ওঠে আনিলার।

কি লিখতে চেয়েছিল ডায়্‌রিতে,সেটা ভুলে গিয়ে ফোন ধরে আনিলা। --হ্যালো নীলু! --সায়ন। বল। --তোকে অনেকদিন পর দেখে ভাল লাগছে। তুই অনেক বদলে গেছিস।

--যেমন? --আগে তোকে বাচ্চা লাগত! এখন অনেক প্‌রিণত লাগল। অনেক সুন্দরও হয়েছিস। অবশ্য ভূটকী-ই আছিস! --হুম! তুই এক মাস চার দিন পর আমাকে ফোন করলি। --দিন তারিখ মুখস্ত? বাহ! --তোর কোন জিনিসটা আমার মুখস্ত না? --তুই আমাকে এখনো পছন্দ করিস আনিলা? --তোকে পছন্দ? নাহ! এক্‌সময় করতাম। এখন এসব নিয়ে ভাবিওনা।

আচ্ছা সায়ন শোন আমি আসলে এক্‌টু ব্যস্ত ছিলাম। তোর সাথে পরে কথা বলি? --ভাবজ? --হুঁ! তোর থেকেই শিখেছি। বাই! রাত বাড়ছে। আনিলার মন খুব অস্থির লাগছে। আজকাল পারতপক্ষে সায়নের ফোন ধরেনা সে।

আজকে বিকালে তো ফোন-ই বন্ধ করে দিল। সায়ন কি আজ পাঁচ বছর পরও তার জীবন থেকে হারাবেনা? সে তো এখন সায়নকে ভুলতেই চায়! কিন্তু সায়ন-ই তো ভুলতে দিচ্ছে না তাকে। কেন দিচ্ছেনা? সায়ন সব স্‌ময়-ই খুব স্পষ্টবাদী ছিল। এখনো আছে। তাই খুব স্পষ্ট করেই মাত্র তিনমাস আগে সে একদিন জানিয়ে দেয়—“আমি তোকে পছন্দ করি আনিলা,আমি তোকে ভালবাসি।

“ সেদিন আনিলার খুব আনন্দের দিন হতে পারত। কিন্তু হয়নি। আনিলা একটুও খুশি হতে পারেনি। মনে হচ্ছিল সব মিথ্যা! --তুই কি কথাটা ভেবে বলছিস সায়ন? মদ-গাঁজা খাস্‌নিতো! --না আনিলা। হালকা চরস খেয়েছি।

--ধুর! ফাজলামি রাখ। কিন্তু তুই তো সামিহাকে...? --আমি ওকে ভুলে যেতে চেষ্টা করছি। --বাহ! তুই ওকে ভুলে যেতে চেষ্টা করবি আর আমি হব তুরুপের তাস? ভাবিস কি তোরা? আমি তোর খেলনা সায়ন? একবার বলবি আমরা শুধুই ফ্রেন্ড আর একবার বলবি ভালবাসি? দারুন! --রেগে যাচ্ছিস কেন নীলু? --তো কি করব? মিষ্টি মিষ্টি কথা বল্‌ব? আমি এসব পারিনা। এসব শুন্‌তে হলে সামিহার কাছে যা। --আনিলা আমি তোকে সত্যি পছন্দ করি! --আমি বিশ্বাস করিনা! একদিনে তোর ভালবাসা গজায় গেল? এই ভালবাসা এতদিন কই ছিল? যখন আমি দিনে দিনে বিষন্ন হয়ে যাচ্ছিলাম তোর জন্য? যেদিন আমি তোর সাথে কথা না বলে থাক্‌তে পারতাম না—তুই সেসব জানতি কিন্তু ফোন ধরতি না? কই ছিল সেদিন তোর ভালবাসা? --নীলু! তুই মাথা ঠান্ডা কর।

আমরা পরে কথা বলি। টাটা! অনেক রাত হয়ে গেছে। এখন ঘুমাতে যাবে আনিলা। তার আগে সায়ন্‌কে এক্‌টা ফোন করতে ইচ্ছে করছে খুব। শেষ বার।

এই শেষ। নাহলে শান্তি পাবেনা আনিলা। আর তাছাড়া আজকে সায়ন তাকে অনেকবার ফোন করেছিল! আনিলাই বরং ভাল করে কথা বলেনি। “করেই ফেলি ফোন”—এক সেকেন্ড চিন্তা করে আনিলা। রিং হচ্ছে,হচ্ছে,হচ্ছে।

ঘুমিয়ে গেল নাকি সায়নটা? --হ্যালো! --কি রে ঘুমাস নাকি? --এত রাত্রে কি আন্ডা পাড়ব নীলু? --পাড়তেও পারিস। তোরে বিশ্বাস নাই। --ফোন করসিস ক্যান? --এটা বলার জন্য যে আমি তোকে ঘৃণা করি সায়ন! --তুই? আমাকে? যাহ ফোট! --কেন? বিশ্বাস হয়না? বিশ্বাস হয়না তোমার? সারাজীবন তো ভালবেসেই গেলাম। কি পেয়েছি তোর থেকে? --কিচ্ছু না! --তাহলে? রিসেন্টলি যখন শুনলি সামিহার বয়ফ্রেন্ড আছে আমার কাছে চলে আসলি। আমাকে ভালবাসিস বললি।

কিচ্ছু বুঝিনা আমি? তুই আমাকে ইউস করসিস। সো আই হেইট ইউ। --কি শুরু করলি নীলু? ঘুমাতে যা। আমাকেও ঘুমাতে দে। --না দিবনা! বল তুই কেন আমার লাইফ টা এলোমেলো করে দিলি? ক্যান? --কারণ তুই আমাকে ভাল্‌বাসিস নীলু।

ভালবাসলে কিছু কষ্ট পেতে হয়। আর তোর লাইফ এখনো তেমন এলোমেলো হয়নাই। আমাকে বিয়ে করলে হইতে পারে। --শোন সায়ন,পরিষ্কার করে বলতেসি,আমি তোকে ভালবাসিনা এখন আর। একসময় বাসতাম।

কিন্তু যখন জানলাম,বুঝতে পারলাম তুই চেহারা দিয়ে মানুষ বিচার করিস,মেয়েদের পছন্দ করিস... --আমি চেহারা দিয়ে মানুষ পছন্দ করিনা। করলে তোকে ভাল লাগত না নীলু কোনদিনও। তুই আহামরি কিছু না। কিন্তু তোকে আমার ভাল লাগে। আর মানুষ তো বদলায়।

আমিও কিছুটা বদলেছি। এখন ঘুমাতে যা। আজাইরা প্যাঁচাল বন্ধ কর। --আজাইরা প্যাঁচাল পাড়তেসি আমি তোর সাথে? --না তো কি? তুই আমাকে ভালবাসিস না নীলু? যদি ভাল নাই বাসিস তাহলে তোর দুইটা বিয়ের প্রপোজাল ফিরায় দিলি কেন? কেন তুই ওয়েট করিস আমার পড়ালেখা শেষ হওয়ার? বল? আমি না হয় তোকে একসময় ফিরায় দিসি। কিন্তু তুই ও কি আমাকে ফিরায় দিয়ে এখন সেটার রিভেঞ্জ নিবি? চুপ হয়ে যায় আনিলা।

ওপ্রান্তে সায়ন কথা বলতেই থাকে—এসব কথা সে এর আগেও বহুবার বলেছে। নিঃশব্দে ফোনটা নামিয়ে রাখে আনিলা। আর পারছেনা সে এই ঝামেলাগুলো নিতে—“আর পারিনা,আর পারিনা—আমার বড় ক্লান্ত লাগে”! যে ছেলে একদিন সে দেখতে খারাপ দেখে ফিরিয়ে দিয়েছিল---তাকে সারাজীবন হাজার ভালবাসলেও নিজেকে অপমান করে,নিজের আত্মসম্মান বিকিয়ে দিয়ে তার কাছে কোনদিন ভালবাসার দাবি নিয়ে ফিরবে না আনিলা,কক্ষনো না! হঠাৎ আকাশ ভেঙ্গে কান্না নামে আনিলার চোখে..... ******************************************************** কম্পিউটারের পর্দার লেখাগুলো ঝাপসা হয়ে আসতে থাকে বিখ্যাত বায়োকেমিষ্ট নায়লা ফেরদৌসের কাছে। দু'চোখে জলে টলমল করছে তাঁর। একটু আগে নিজের লেখাটা ব্লগে প্রকাশ করেছেন তিনি।

লেখায় মন্তব্য আসা শুরু হয়েছে! কিন্তু কেউ জানবেনা বহু বছর আগে একটা তরুনকে ভালবেসে ভুল করা সেই কিশোরী আনিলা আসলে সবার প্রিয় ব্লগার নায়লা আপু! সবাই জানবে এটা শুধু ভুল আর অভিমানে ভরা এক গল্প—যে গল্পে আনিলার কিশোরী বয়সে সায়নের কাছ থেকে পাওয়া প্রত্যাখ্যনের অভিমান তার ভালবাসার মানুষ্‌টি চিরতরে সরিয়ে দেয় তার থেকে! নায়লার ল্যাপটপে বেজে চলেছে সঞ্জীবদা'র সেই গান--- আমি তোমাকেই বলে দেব সেই ভুলে ভরা গল্প কড়া নেড়ে গেছি ভুল দরজায় ছুঁয়ে কান্নার রং; ছুয়ে জোছনার ছায়া... ছুঁয়ে কান্নার রং; ছুয়ে জোছনার ছায়া... আমি কাউকে বলিনি সে নাম কেউ জানেনা না; জানে আড়াল জানে কান্নার রং; জানে জোছনার ছায়া... জানে কান্নার রং; জানে জোছনার ছায়া.... (সমাপ্ত)
 

সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।