আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

ভারতের সাথে হারা আমাদের হারা নয় বরং আগামী ম্যাচের জেতার বাহন মাত্র।



প্রত্রিকাগুলির রিপোর্ট দেখলে হাসব না কাদব কিছুই বুঝতে পারছিনা। দৈনিক ইত্তেফাকের রিপোর্টার লিখেছেন সাকিবের বোলিং সিদ্বান্তের পরে দর্শকরা একে অপরের মুখের দিকে চাওয়া চাওয়ি করেছ। রিপোর্টার নিশ্চয়ই জানেন টিম ম্যানেজমেন্টের সিদ্বান্ত। ষ্টেডিয়ামের পূর্বতন ইতিহাস তাই বলে। ভারতের অধিনায়ক ধোনিও বলেছেন টস জিতলে তিনিও বোলিং নিতেন।

অর্থাৎ কেন আগে বোলিং নিয়েছেন সাকিব সেই প্রশ্ন তোলার আগে আমাদের অবশ্যই শক্তির তারতম্যটা দেখতে হবে। আমরা সবাই চাই বাংলাদেশ জিতুক কিন্তু সেই জেতাটা ভারতের বিরুদ্বে বার বার খুবেই কঠিন। এই সত্যটা অনুভব করা আমাদের প্রয়োজন। ভারতের সাথে বাংলাদেশের জেতার চান্স ১০ ভাগের ১ ভাগ। যদিও গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ এবং ভারত দুই দলেই অনেক উন্নতি লাভ করেছে।

গত পাচ বছর আগে বাংলাদেশ অষ্ট্রেলিয়ার ৫ দলের সাথে খেললেও নিয়মিত জিততে পারত কিনা সন্দেহে। সেই বাংলাদেশ এখন অষ্ট্রেলিয়ার ২ য় দলের সাথে নিয়মিত ফাইট দেয়ার সামর্থ্য রাখে। এই সবেই হয়েছে আমাদের দ্রুত উন্নতির ফলে। ভারতের বেশীর ভাগ ব্যাটসম্যানের গড় যেখানে ৪০ এর উপড়ে আমাদের খেলোয়ারদের দুই একজনের ৩০ কাছাকাছি বা উপড়ে। তাই দুই দলের পার্থক্য খানিকটা সহজেই অনুমেয়।

২০১০ সালে বাংলাদেশের ওয়ানডে রেকর্ডের দিকে তাকালে দেখা যায় বাংলাদেশ জিম্বাবুয়ের বিরুদ্বে একবার তিনশতাধিক রান করেছে। আর ইংল্যান্ডের বিরুদ্বে একবার করেছে ২৬১ রান। আর সকল ইংনিস এর রান এর চেয়ে কম। উপরন্ত বাংলাদেশ ২০১০ সালে একবার নেদারল্যান্ড এবং একবার আয়ারল্যান্ডের সাথে হেরেছে। তাই ভারতের সাথে এই হার কোনভাবেই আমাদের মর্যাদা খাটো করেনি বরং রান তাড়া করে ২৮০ রানের উপড়ে করতে পেরেছি এটাই আমাদের বিশাল পাওনা।

আগামী ১০ বছরের মধ্যে আমরা ভারতকে নিয়মিত হারাবো আশা করি। কি হওয়া উচিত আগামী ম্যাচের বাংলাদেশ দল। অনেকেই বলছেন রিয়াদ আর নাইমের কি ভূমিকা ছিল কালকের ম্যাচে। ঠিক যেই সময়ে এদের দুইজনকে নামানো হল তখন বল খুবেই কম এই কম বল নিয়ে মাঠে এসে চার ছয় মারা খেলোয়ার আমাদের হাতে নেই। ইউসুফ পাঠানের মত খেলোয়ার এসেও শেষ সময় কিছুই করতে পারে নাই।

নাইম এর রিয়াদের বিকল্প আশরাফুল হতে পারেনা। এদের বিকল্প শুভ হতে পারে। আশরাফুল রকিবুলের বিকল্প হতে পারে। কিন্তু রকিবুল ২৮ বলে ২৮ করেছে। মোটেও খারাপ নয়।

এর চেয়ে যে ভালো আশরাফুল করতে পারত তার প্রমান কিন্তু আমরা বিগত কয় বছরে পাই নাই। অনেকেই প্রশ্ন করছেন রকিবুল কেন ধুম ধারাক্কা মারে নাই। এটা টিমের সিদ্বান্ত হতে পারে যেহেতু ম্যাচ আর জেতা যাবেনা তাই অল আউট হওয়া যাবে না। তার চেয়ে বড় কথা বর্তমান টিমের আন্ডারস্টান্ডিং ভালো এবং তারা ভালো করছে তাই ব্যাটিং সাইড পরিবর্তনের কোন মানে হয় না। আমাদের এই টিমের সাথে শুধু মাশরাফি থাকলেই সেরা এগারো হয়।

তাই ভারতের মত বড় দলের সাথে হেরেই দল পরিবর্তন এবং হতাশার কিছুই নাই। আরো খেলা আছে সেই দিকেই আমারা তাকিয়ে আছি এবং বাংলাদেশ তার সামরর্থ্যানুযায়ী তিনটি ম্যাচ জিততে পারলেই আমাদের খুশি হওয়া উচিত। বড় দলগুলোর সাথে জিততে হলে আমাদের মত ছোট দলের উচিত লো-স্কোরিং হয় সেই রকম হওয়া পিচ বানানো। কারণ আমাদের হাতে পর্যাপ্ত বিগ হিটার নাই। ভারতের মত দেশের সাথে খেলতে হলে তাদের শক্তিশালী ব্যাটিং লাইন আপকে ভেংগে ফেলেই সম্ভব।

অন্যথায় নয়।


এর পর.....

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.