উপমহাদেশের অন্যতম বৃহৎ দ্বীনি শিক্ষা কেন্দ্র আল-জামিয়াতুল আহ্লিয়া দারুল উলূম মুঈনুল ইসলাম (হাটহাজারী মাদ্রাসা)এর ধর্মীয় ও তাহযিব-তামাদ্দুন বিষয়ক সাময়িকি মাসিক মুঈনুল ইসলাম ১৯৩৪ইং সালে হযরত মাওলানা আবুল ফারাহ্ মেখলী (রাহ্.)এর সম্পাদনায় {ইসলাম প্রচার} নামে পত্রিকাটির যাত্রা শুরু হয়। পরবর্তীতে মুরুব্বীগণের পরামর্শে পত্রিকাটির নাম জামিয়ার নামের সাথে সমঞ্জস্যপূর্ণ করে {মাসিক মুঈনুল ইসলাম} রাখা হয়। অফিস কপি পর্যালোচনা করে দেখা যায় যে, বিগত ৫০ দশকের শেষ অবদি মাসিক মুঈনুল ইসলাম-এর নিয়মিত প্রকাশনা অব্যাহত থাকে। এর পর বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের কবলে পড়ে পত্রিকাটি পত্রিকাটির নিয়মিত প্রকাশনায় বার বার বিগ্নঘটে। এবং অবশেষে বন্ধ হয়ে যায়।
অর্ধ শতাব্দি আগের যস সংখ্যাগুলোর প্রতিটি লেখাই ছিল অত্যন্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ। ভাষামান উচ্চ এবং পত্রিকাটির পারিপাট্য ছিল সে যুগের মানে নির্দ্বিধায় উত্তীর্ণ। ইসলাম বিদ্বেষী শিক্ষিত মহলের কেউ কেউ অভিযোগ করে থাকেন যে, দেওবন্দী উলামায়ে কেরাম মাতৃ ভাষার প্রতি বিদ্বেষভাব পোষণ করে এবং কার্যক্ষেত্রে তারা বাংলা শিক্ষাকে নিরুৎসাহিত করে থাকেন। যদি এটাই বাস্তব তথ্য হয়ে থাকে, তবে বাংলাদেশের দেওবন্দী সিলসিলার প্রাণকেন্দ্র হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে ৬ যুগ পূর্বে বাংলা ভাষায় ইসলামী একটি সাময়িকি প্রকাশ হল কীভাবে? মাসিক মুঈনুল ইসলামে তখন যারা লিখতেন, তারাও প্রায় সবাই ছিলেন, সাময়িক কালের দেওবন্দী আলেম। তাদের ভাষাশৈলী এবং সেৌকর্য ছিল রীতিমত বিস্ময় উদ্রেক করার মত।
সে যাক, আশির দশকের গোড়ার দিকে যখন এদেশে এনজিও ও ইসলাম বিদ্বেষীরা বই-পুস্তক ও পত্রপত্রিকার মাধ্যমে ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্বার গতিতে আক্রমণ শুরু করে, অশ্লীল ও ইসলাম বিদ্বেষী পত্রপত্রিকায় যখন বাজার সয়লাব হতে আরম্ভ করে, তখন বাংলা ভাষাভাষি শিক্ষিত মহলকে এ ফিতনার হাত থেকে রক্ষার জন্য মাসিক মুঈনুল ইসলাম-এর দ্বিতীয় পর্যায়ের নিয়মতান্ত্রিক প্রকাশনা শুরু হয়। তখন থেকে অদ্যাবধি নানা বাধাবিপত্তি ও ষড়যন্ত্রের জাল ছিন্ন করে পত্রিকাটির প্রকাশনা নিরবিচ্ছিন্ন ভাবে অব্যাহত রয়েছে।
হাটি হাটি পা পা করে অনেক চড়াই উৎরাই ও বাধা বিপত্তি মোকাবেলা করে মাসিক মুঈনুল ইসলাম তার লক্ষ্যপানে সদর্প অগ্রযাত্রা অব্যাহত রেখেছে। বিশুদ্ধ ইসলামী মতাদর্শ ও ধর্মীয় তাহযীব-তামাদ্দুনের প্রচার প্রসারে পত্রিকাটি জন্মলগ্ন থেকেই আপোসহীন অক্লান্ত পরিশ্রম ও প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বিশ্ব ইতিহাসে নজিরবিহীন মুসলিম সভ্যতা, শেৌর্য-বীর্য ও অতীতের মহান স্বার্ণ যুগের ঈর্ষণীয় সাফল্যগাঁথা উপস্থাপনের পাশাপাশি সোনালী আগামীর প্রত্যয় দীপ্ত দিক নির্দেশনাও প্রদান করে আসছে।
আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের প্রকৃত মুখপত্র, আকাবিরীনদের রুহানিয়্যাত ও আমল আখলাকের একনিষ্ঠ ধারক বাহক রূপে মাসিক মুঈনুল ইসলমের দৃপ্ত পদচারণা। মুসলিম সমাজের বিভিন্ন সমস্যাবলী, নিত্য-নৈমিত্তিক জিজ্ঞাসাসমূহের বস্তুনিষ্ঠ ও সঠিক ইসলামী সমাধান প্রদানে মাসিক মুঈনুল ইসলাম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্যের দাবীদার। সহজ সরল ও প্রাঞ্জল ভাষায় বিষয়বস্তুর উপস্থাপনা, লেখ নির্বাচনে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন এবং হাটহাজারী দেওবন্দী তথা আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাআতের মতাদর্শ পরিপন্থী বিষয়াবলী পরিহার, এই সাময়িকীটির অন্যতম সেরা আকর্ষণ।
বর্তমানে বাজারে প্রচুর ইসলামী পত্রপত্রিকার উপস্থিতি দেখা গেলেও শরীয়তের দৃষ্টিকোণ থেকে তথ্য নির্ভর পত্রিকার দুর্ভিক্ষ শেষ হয়নি বলা যায়। এহেন অভাব দুরীকরণের জন্যই আত্মপ্রকাশ করেছিল মাসিক মুঈনুল ইসলাম।
সাহিত্যমানে লেখা যত উন্নতই হোক, তথ্য ও বস্তুনিষ্ঠতার ব্যাপারে মাসিক মুঈনুল ইসলাম কোন কালেও আপোস করেনি এবং করতে জানেও না। ধর্মীয় গোঁড়ামি, বিভ্রান্তি ও ভ্রষ্টতা থেকে মুসলিম জাতিকে রক্ষা করার জন্যই মাসিক মুঈনুল ইসলামের নিরলস প্রয়াস, যাতে বাংলার ঘরে ঘরে হক্বের আলো সূর্যরশ্মির ন্যায় ছড়িয়ে পড়ে। মাত্র দেড় যুগ পার হতেই বাংলাদেশের প্রায় প্রতিটি অঞ্চলেই মাসিক মুঈনুল ইসলামের শত শত এজেন্ট ও গ্রাহক, পাঠক তৈরী হয়েছে। হাজার হাজার মানুষের নির্ভেজাল জ্ঞনার্জনের মাধ্যম হিসেবে মাসিক মুঈনুল ইসলাম ভূমিকা রাখছে। দেশের বাইরে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও এশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলেও এর অসংখ্য পাঠক রয়েছে।
মাসিক মুঈনুল ইসলাম
রেজিঃ নং- চ/১৩
সম্পাদক-হযরত আল্লামা শাহ্ আহ্মদ শফী (দা.বা.)
প্রথম পর্যায়ের প্রকাশনাঃ ১৯৩৪ খ্রীস্টাব্দ থেকে প্রায় ৫০ দশকের শেষাব্দি।
দ্বিতীয় পর্যায়ের প্রকাশনা শুরুঃ জুন ১৯৯১ খ্রীস্টাব্দ থেকে।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।