বই মেলা শুরু হয়েছে। অন্যবার যেখানে প্রথমদিনই একবার ঘুরে আসি। এবার এখনো যেতে পারিনি! এটা হতেই পারে না। সন্ধ্যার পর হাটতে হাটতেই পৌঁছে গেলাম মেলা চত্বরে। ভীড় কম না।
আলোচনা হচ্ছিল 'সমকামিতা' নিয়ে। এক লেখক বন্ধু তার প্রথম বই লিখবেন 'সমকামিতা' নিয়ে। কিন্তু এই শব্দটা নিয়ে তার প্রবল আপত্তি। বইয়ের নাম রাখবেন 'সমপ্রেমী'।
ভাবনাটা একটু ব্যতিক্রমই।
কথা বলতে বলতে হাতে একগাদা বই জমে গেল। টের পেলাম, মুত্রনালিতেও 'চাপ' জমতে শুরু করেছে। কিন্তু মেলায় এত লোকের সামনে তো আর 'চাপমুক্ত' হওয়া যায় না। ব্লগার একরামুল হক শামীমের হাতে বইয়ের প্যাকেট ধরিয়ে দিয়ে নেমে পড়লাম চাপমুক্ত হওয়ার মিশনে। না, কোথাও নেই।
একজন বলেন, সোজা গিয়ে হাতের বামে। সেখানে যাওয়ার পর আরেকজন বলেন, আপনি তো ভুল জায়গায় চলে এলেন! সোজা গিয়ে হাতের ডানে চলে যান। গেলামও। সেখানে গোটা চারেক পুলিশ ভাইয়া। আশপাশে তাকিয়ে বুঝলাম, এখানেও সুবিধা হওয়ার কথা না।
এক পুলিশ ভাইয়াকে খাঁটি কলাকাতার টোনে বললাম, 'দাদা এদিকে মুত্র বিসর্জন পাড়া আছে?' পুলিশ ভাইয়া কিছু বললেন না। মুখের দিকে তাকিয়ে থেকে একটু পর বললেন, 'কী বললেন? বুঝি নাইক্কা। ' পুলিশ ভাইয়া কিছু না বুঝলেও আমি বুঝলাম, ঠোলা ভাইয়াদের ভাষাজ্ঞান এবং রসিকতা বোঝার ক্ষমতা খুবই সীমিত। রসিকতায় তো আর 'চাপ' কমে না, বেড়েই চলেছে। দুই ঘণ্টার মেলা সফরের পুরোটাই 'চাপ' নিয়েই ঘুরে বেড়াতে হলো।
মেলায় ঘোরা শেষ। বসেছে কবি-সাহিত্যিকদের ম্যারাথন আড্ডা, মেলার ভেতরেই। মাথায় তখন ঘুরছে ম্যালা সমীকরণ। আচ্ছা, আমার ঠিক সামনের এই ভদ্র মহিলার যদি এখন আমার মতোই 'চাপ' আসে, উনি কী করবেন? বড় জোর কী-ই বা করতে পারেন? আর ভাবতে পারলাম না। ব্লগার বন্ধুর হাতে আবারো বইয়ের প্যাকেট ধরিয়ে এক দৌড়ে ছুটে আসলাম মেলার বাইরে।
একটা সুন্দর, নির্জন যায়গা দেখে.... আহা! কী শান্তি!!!
চাপমুক্ত হয়ে যখন মেলায় ঢুকি, প্রথমেই চোখে পড়লো 'মুত্রালয়'! এতক্ষণ তবে কোথায় খুঁজেছি?! ৫ মিনিট আগেও যে স্থানটা আমার কাছে ছিল আরাধনার, চোখের সামনে পড়ে সেটাই হয়ে উঠল কষ্টের কারণ।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।