আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

রাস্তা পারাপারে জেল নয় ....জেব্রা ক্রসিং চাই


সা¤প্রতিক সময়ে পথচারীদের ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করতে জেল প্রদানের পরিকল্পনা গ্রহণ করা হচ্ছে। যা পথচারীদের অপরাধী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। পথচারীরা অপরাধী নয়। একজন ব্যক্তি আরাম, স্বাচ্ছন্দ্য ও শারিরীক কষ্ট কমাতে গাড়ী ব্যবহার করে। পথচারীও তার কষ্ট কমাতে রাস্তায় সমতলে চলাচল করে।

ব্যক্তিগত গাড়ীর সুবিধা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করা বা বাধ্য করতে জেল সংক্রান্ত বিধান সংবিধানে বাংলাদেশ সংবিধানের গণতন্ত্র ও মানবাধিকার অনুচ্ছেদ-১১, কৃষক ও শ্রমিকের মুক্তি অনুচ্ছেদ ১৪, সুযোগের সমতা অনুচ্ছেদ-১৯ (১) (২), আইনের দৃষ্টিতে সমতা অনুচ্ছেদ-২৭, জবরদস্তি শ্রম নিষিদ্ধকরণ অনুচ্ছেদ ৩৪ (১), চলাফেরার স্বাধীনতা অনুচ্ছেদ-৩৬ এর পরিপন্থী। যে কারণে পথচারীরা ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহার করে না এবং যত্রতত্র রাস্তা অতিক্রম করে ১. ফুটওভার ব্রিজগুলি প্রায় দুই/তিনতলা ভবনের সমান উচু, যা অতিক্রম করা খুবই কষ্টসাধ্য কাজ। ২. মানুষ একটা নির্দ্দিষ্ট দূরত্ব হাঁটার পর এই উচ্চতা পাড়ি দিতে শারিরীকভাবে সমর্থ নয়। ৩. অসুস্থ, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী, হৃদরোগী, গর্ভবতী মহিলা, শিশু, মালামালসহ পথচারীর জন্য এই উচ্চতা পাড়ি দেওয়া স্বাস্থ্যের জন্য হুমকিস্বরূপ এবং অসম্ভব একটি ব্যাপার। ৪. ফুটওভার ব্রিজ পাড়ি দিতে অনেকদূর পথ অতিরিক্ত হাঁটতে হয়।

৫. এ ব্যবস্থা কষ্টদায়ক, অমানবিক এবং চৎধফবংঃৎধরহ ঋরৎংঃ চড়ষরপু-র পরিপন্থী। ৬. ঢাকা শহরের প্রায় সকল রাস্তায় জেব্রা ক্রসিং নেই বললেই চলে। জেব্রা ক্রসিং যেগুলো ছিল, তা ইতিমধ্যেই মুছে ফেলা হয়েছে। যা নগর পরিবহন পরিকল্পনার একটি মরাত্মক ক্রুটি। অধিকাংশ মানুষের যাতায়াত ব্যবস্থা নিশ্চিতে, স্বাস্থ্য ও পরিবেশের কথা বিবেচনা করে হাঁটার পরিবেশ, নিরাপদ, স্বাচ্ছন্দ্য ও উন্নয়নে নিম্নোক্ত দাবি জানাচ্ছি।

১. ফুটওভার ব্রিজ ব্যবহারে বাধ্য করতে জেল জরিমানা প্রদানের পরিকল্পনা প্রত্যাহার করা। ২. ঢাকার সকল রাস্তায় নির্দ্দিষ্ট বিরতিতে পথচারী পারাপারের চাহিদা নিরূপন সাপেক্ষে জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করা। ৩. ফুটওভার ব্রিজ এর পরিবর্তে জেব্রা ক্রসিং নিশ্চিত করা। ৪. জেব্রা ক্রসিং এর পূর্বে সতর্কতামূলক সাইন স্থাপন করা। ৫. জেব্রা ক্রসিংগুলোতে গাড়ী গতি ধীর করতে এবং পথচারীদের অগ্রাধিকার দিতে চালকদের সচেতনতা করা।

৬. জেব্রা ক্রসিং এর পূর্বে গাড়ি থামানোর ব্যবস্থা করা। ৭. শহরে গাড়ির গতি নিয়ন্ত্রণ করা। ৮. হকারদের লাইসেন্স-র মাধ্যমে ফুটপাতে শৃঙ্খলার সাথে বসার ব্যবস্থা করা। ৯. গাড়ীর বেপরোয়া চালনা বন্ধে অভিযোগ প্রদানের সুযোগ সৃষ্টিতে যোগাযোগের নম্বর, ইমেইল, ঠিকানা প্রদান। ১০. নিয়ম লঙ্ঘনকারী চালকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান করা।


 

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।