আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

মালয়েশিয়ায় কমপক্ষে ৩ লাখ শ্রমিক অবৈধঃ কলিং ভিসা চালু না হবার নেপথ্য কারণ



মালয়েশিয়ায় দিনে দিনে অবৈধ শ্রমিকের মিছিল দীর্ঘায়িত হচ্ছে। ধারনা করা হচ্ছে কমপক্ষে ৩ লাখ শ্রমিক বর্তমানে অবৈধ হয়ে পড়েছে। এ ব্যাপারে যেন কারো কোন মাথাব্যাথাই নেই। অথচ অনেকে উম্মাদ হয়ে পড়েছেন কলিং ভিসার জন্য। কিন্তু অবৈধদের কি হবে সেটা কেউ ভাবছেন না।

এত কিছুর পরও তর সইছে না। যেভাবেই হোক কলিং ভিসা চালু করতেই হবে। এছাড়া কিছুই আর শুনতে ভালো লাগে না। ‘তোরা যে যাই বলিস ভাই আমার কলিং ভিসা চাই’। আদম বেপারী বা দালালের আকুতি এরকমই।

আর টাকার থলে নিয়ে বাংলাদেশে চৌকাঠে বসে থাকা বেকার যুবক আকাশের তারা গুনছে- কবে স্বপ্ন হবে সত্যি। মালয়েশিয়ার সোনার হরিণ ধরবে। অনেকের দিবারাত স্বপ্ন- যে করেই হোক মালয়েশিয়ার কলিং ভিসা চাই। অবশ্য এখন আর মুখে কেউ আটকে থাকা ৫৫ হাজার কাজের কথা বলছেন না। কারন ঐ কাজের ফাইল এতদিনে জ্বলে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে।

এখন কেউ কাউকে আর সান্ত্বনার বানী শোনাচ্ছে না। বাংলাদেশে এই যখন অবস্থা তখন মালয়েশিয়ার মনোভাব একদম স্পষ্ট- না। কিন্তু যতবারই ‘না’ বলা হয় ততবারই যেন আমাদের অনুভূতি এমন- এটা মুখের কথা, মনের কথা নয়। তারপরও এত তৎপরতা, আগ্রহ ও অধৈর্য্য মানসিকতার কারনে দিন দিন আরো অনিশ্চিত হয়ে পড়ছে মালয়েশিয়ার এই শ্রমবাজারটি। গুজবে গুঞ্জনে সয়লাব হচ্ছে চারিদিক।

সবকিছু মিলিয়ে ‘কলিং ভিসা’ নিয়ে তলে তলে তোলপাড় চলছে। কিন্তু কেন কলিং ভিসা হচ্ছে না সেটা খতিয়ে দেখছেন না অনেকেই। আজ একথা নির্বাধায় বলা সাজে- পৃথিবীতে বাংলাদেশের সবচেয়ে লাভজনক ও কাছের শ্রমবাজার মালয়েশিয়া। কিন্তু এই লাভজনক বাজারটিকে তিলে তিলে ধংস করেছে কিছু মানুষ। সে ইতিহাস সবারই জানা।

এরা যেদিকে গেছে সেদিকেই শ্রমবাজারকে ধংস করে এসেছে। এককালের অতি লাভজনক মধ্যপ্রাচ্যের শ্রমবাজার আজ বাংলাদেশের নাগালের বাইরে চলে গেছে। মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, দক্ষিন পূর্ব এশিয়ায় যেখানেই শ্রমিক রপ্তানী করা হয়েছে সেখান থেকেই এসেছে নানা দুসংবাদ। বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সীগুলোও এত বেশী প্রভাবশালী ও রাজনৈতিক সম্পৃক্ত যে, তাদের বিরুদ্ধে কখনোই কোন কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেবার কথা শোনা যায়নি। অথচ বিদেশে শ্রমবিক্রি করতে গিয়ে বহু পরিবারে যেমন স্বচ্ছলতা ফিরে এসেছে ঠিক তেমনি বহু পরিবার মাটিতে মিশে গেছে।

২০ বছর আগে মালয়েশিয়ায় যেখানে একজন বাংলাদেশি শ্রমিকের মাসিক আয় ছিল ৭/৮ শ’ রিঙ্গিত ২০ বছর পরও একই জায়গায় নতুন বাংলাদেশি শ্রমিকরাও পাচ্ছে সেই একই মজুরী। এই ২০ বছরে বিশ্বে পন্যের মূল্য বহুগুন বৃদ্ধি পেলেও নতুন শ্রমিকদের বেলায় বাড়েনি এক টাকাও। সর্বনিম্ন বেতন ১৮ রিঙ্গিত ৫০ সেন্টে এখনো শ্রমিককে শ্রম বিক্রি করতে হচ্ছে। যেখানে লেভী ও আনুসাঙ্গিক খরচ বাদ দিয়েও একজন মানুষের দৈনিক কমপক্ষে খরচ হয় ৮/১০ রিঙ্গিতের মতো। আবার সেখান থেকে নানা উপায়ে অর্থ কর্তনও চলে।

এই মজুরী বৈষম্যের কারণেই মূলতঃ মালয়েশিয়ায় সবচেয়ে বেশী শ্রমিক চুক্তিবদ্ধ কোম্পানী পরিবর্তন করে অবৈধ হতে বাধ্য হয়েছে। এরপরও এ বৈষম্য দূর না করেই বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক রপ্তানীর চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। কিন্তু মালয়েশিয়া সরকারও সহজেই বাংলাদেশের শ্রমবাজার চালুর পক্ষে খুব বেশী ইতিবাচক মনে করা যায় না। কারণ- অবৈধ শ্রমিক সমস্যাঃ মালয়েশিয়ায় কতজন শ্রমিক অবৈধ এ মুহুর্তে এর কোন সঠিক হিসাব না থাকলেও ধারনা করা হচ্ছে ৩ লাখ শ্রমিক অবৈধ রয়েছে। এর সাথে যুক্ত হয়েছে ট্যুরিষ্ট ভিসা, ষ্টুডেন্ট ভিসা বা বিভিন্ন উপায়ে এসে অবৈধ হওয়া শ্রমিকের সংখ্যা।

যেখানে এতজন শ্রমিক আজ অবৈধ হয়ে মালয়েশিয়ায় এক অনিশ্চিত জীবন যাপন করছে সেখানে নতুন করে শ্রমিক পাঠানোর চিন্তা করা বোকামীরই নামান্তর। মালয়েশিয়া সরকারও জানে এ শ্রমিকদের বৈধ করার আগে বা দেশে ফেরত পাঠানোর আগে বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক আমদানী করলে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। তার উপর বৈধ শ্রমিকদের ভিসা রিনিউ হচ্ছে না ইমিগ্রেশন সমস্যার কারণে। এ পরিস্থিতিতে মালয়েশিয়া শ্রমবাজার নিয়ে আদম ব্যবসায়ী ও এর সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিরা বুকভরা আশা নিয়ে থাকলেও কার্যতঃ শ্রমবাজার চালুর সম্ভাবনা ক্ষীণ বলেই ধারনা করা যায়। এর সাথে মালয়েশিয়ায় ট্যুরিষ্ট ভিসার নামে যেভাবে লোক এসে এদেশে অবৈধ অভিবাসীর খাতায় নাম লেখাচ্ছে তা বন্ধ না করতে পারলে শ্রমবাজার চালুর সম্ভাবনাকে আরো সুদূর পরাহত করবে।

স্থানীয় শ্রমিক সংগঠনের আপত্তিঃ মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমিক রপ্তানীর ক্ষেত্রে সবচেয়ে প্রধান প্রতিবন্ধক মালয়েশিয়ার শ্রমিক ইউনিয়ন। শ্রমবাজারের সেই শুরু থেকেই তাদের বিভিন্ন আপত্তির কথা শোনা যায় প্রায়ই। কারণ, মালিকরা একজন বিদেশী শ্রমিককে যে বেতন প্রদান করছে তা মালয়েশিয়ার একজন শ্রমিকের জন্য খুবই অপ্রতুল। মালিকরাও বিদেশী শ্রমিককে দিয়ে যে শ্রম আদায় করে নিতে পারে তা স্থানীয় শ্রমিকদের দিয়ে আদায় করা সম্ভব নয়। কারণ একজন বাংলাদেশি শ্রমিক যখন ওভারটাইমের জন্য মালিকের কাছে ধর্না দেয় তখন একজন স্থানীয় শ্রমিক ওভারটাইম করতে বাধ্য না থাকায় ৮ ঘন্টা শ্রমই সে যথেষ্ট মনে করে।

এছাড়া স্থানীয় শ্রমিকদের জন্য ইপিএফ, সকসো ইত্যাদি সুযোগ সুবিধা দিতে মালিক বাধ্য থাকে। আর বাংলাদেশি শ্রমিকের বেলায় হয় তার বিপরীত। বিভিন্ন উপায়ে মালিক শ্রমিকের বেতন থেকে অর্থ কর্তন ও বিভিন্ন প্রতারণার সুযোগ বের করে নেয় সহজেই। কাজেই মালিকদের সর্বপ্রথম পছন্দ বিদেশী শ্রমিক। এতে স্থানীয় শ্রমিকরা বিভিন্ন কোম্পানীতে কর্মসুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

এ কারণে স্থানীয় শ্রমিক সংগঠন মালিকদের স্থানীয় শ্রমিক সরবরাহে বাধ্য করার জন্য সবসময়ই বিদেশী শ্রমিক বিশেষ করে বাংলাদেশি শ্রমিক সরবরাহে বাধা সৃষ্টি করে আসছে। মালয়েশিয়ার রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও এ সংগঠন খুব প্রভাবশালী। রাজনৈতিক ইস্যুঃ অপ্রিয় হলেও সত্য মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশি শ্রমিক সরবরাহের কারণে বার বার মালয়েশিয়া প্রশাসনের বিভিন্ন ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতি ঢুকে যায়। যার কারণে ইতিমধ্যে এসব বিষয়গুলো রাজনীতির ইস্যুতে পরিনত হয়েছে। ইমিগ্রেশন ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রনালয়ে ব্যাপক পরিবর্তন করা হয়েছে বর্তমান সরকার ক্ষমতাসীন হবার পরই।

এছাড়া বর্তমানে মালয়েশিয়ার বিরোধীদল অতীতের যে কোন সময়ের চেয়ে বেশী শক্তিশালী। তাই বর্তমান সরকার বাংলাদেশি শ্রমিক আমদানী করে কোন ঝুঁকি নিতে চাচ্ছে না বলে অনেকের ধারণা। এছাড়া মালয়েশিয়ার বর্তমান সরকার প্রশাসনের অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করাতে আন্তরিক বলেও জানা গেছে। অনেকের ধারণা, বাংলাদেশের ব্যাপারে মালয়েশিয়ায় একটু ক্ষতচিহ্ন রয়েছে। কারণ ওআইসির মহাসচিব পদে বাংলাদেশ মালয়েশিয়ার বিপক্ষে প্রার্থী দাঁড় করিয়ে যে সম্পর্কের চিড় ধরিয়েছে মালয়েশিয়ার বিভিন্ন স্থানে সে প্রসঙ্গ সামনে আসলে তখন বাংলাদেশের শ্রমবাজার সম্প্রসারনের সম্ভাবনা কমে আসে।

দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কে ঘাটতিঃ কাগজে কলমে বা সভা মঞ্চে যতই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কোন্নয়নের কথা বলা হোক না কেন, বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার সম্পর্কে ঘাটতি চোখে পড়ার মতো। যথাযথ সম্পর্কোন্নয়ন হলে মালয়েশিয়ায় আজ অন্ততঃ ৩ লাখ শ্রমিকের অবৈধ হওয়া বা জেলে যাবার কথা নয়। বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার যতটুকু সম্পর্কোন্নয়ন রয়েছে এতে লাভবান হচ্ছে মালয়েশিয়া। কারণ এখনো বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার বানিজ্য ঘাটতি বহুগুন বেশী। এছাড়া সম্প্রতিকালে মালয়েশিয়ার সাথে বাংলাদেশের বিভিন্ন আলাপ আলোচনা বা শীর্ষবৈঠকগুলোতে বাংলাদেশ আশানুরূপ কোন সুফল পেয়েছে বলে ধরে নেয়া যায় না।

বাংলাদেশে মালয়েশিয়াই এশিয়ার মধ্যে প্রধান বিনিয়োগকারী দেশ। সেখানের বাতাসও মালয়েশিয়ারই অনুকূলে। দুর্বল কূটনৈতিক প্রচেষ্টাঃ বাংলাদেশের সাথে মালয়েশিয়ার বানিজ্য ঘাটতি দূরীকরণে অন্ততঃ বাংলাদেশের একটি সুযোগই সামনে ছিল। সেটা হচ্ছে বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে অর্থনৈতিক সমঝোতার মাধ্যমে শ্রমবাজার সম্প্রসারনের সুযোগ গ্রহন করা। কিন্তু বাংলাদেশের দুর্বল কূটনৈতিক পদক্ষেপে বাংলাদেশ এ সুযোগ লাভে বার বার ব্যর্থ হচ্ছে।

এছাড়া মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশ হাইকমিশনের কর্মকান্ড এতবেশী দুর্বল যে, বাংলাদেশের শ্রমিক সমস্যা সমধানে ও শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষায় কখনোই মালয়েশিয়ার সাথে দর কষাকষি বা জোড়ালো উদ্যোগ গ্রহন করতে দেখা যায়নি। যেখানে মালয়েশিয়ায় অন্য সোর্স কান্ট্রিগুলো এদেশে তাদের শ্রমিকদের স্বার্থরক্ষায় সারাক্ষণ সচেষ্ট, সেখানে বাংলাদেশের হাইকমিশনের নীরবতা কুম্ভকর্নের মতোই নিদ্রাতুর। এছাড়া শ্রমবাজারের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্বল দিকগুলো দূর করতেও হাইকমিশনের ভূমিকা আজ প্রশ্নবিদ্ধ। যা প্রবাসীদের ক্ষোভের অন্যতম কারণ। শ্রমবাজারেও সিষ্টেম লসঃ বাংলাদেশে বিদ্যুৎ চুরি বা বিদ্যুৎ ঘাটতির অপর নাম সিষ্টেম লস।

যা মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজারেও চোখে পড়ে। আর এই সিষ্টেম লসের কারনেই শ্রমিকরা ৩ বছরের চুক্তিতে এসেও অনেকেই সে তার ক্ষতি পুষিয়ে নিতে হিমসিম খাচ্ছে। সেখানে লাভের অংশ কবে যে আসবে শ্রমিকরা জানে না। মালয়েশিয়ায় লেভী দিয়ে শ্রমিক পাঠিয়ে যেভাবে সিষ্টেম লস করা হয়েছে সেখানে এই সিষ্টেম লস বন্ধ না করে শ্রমিক রপ্তানীর চেষ্টা করা হলে বাংলাদেশকে বার বার এরকম সিষ্টেম লসই দিতে হবে। এখন মালয়েশিয়াও বুঝে ফেলেছে সিষ্টেম লস্ হচ্ছে কোথায়।

তাই বিভিন্ন আলোচনায় মালয়েশিয়া সরকার বার বার এই সিষ্টেম লসের ব্যাপারে সতর্ক করেছে। কারণ সিষ্টেম লস যেখানেই হোক না কেন ভবিষ্যতে এর বিরূপ প্রভাব পড়ে শ্রমিকের উপরেই। কাজেই মালয়েশিয়া সরকারও এই সিষ্টেম লসে অসন্তোষ্ট। মধ্যসত্ত্বভোগীদের অপকর্মঃ মালয়েশিয়ায় শ্রমিকদের কষ্টের আরেক নাম- মধ্যস্বত্ত্বভোগী বা দালাল ব্যবস্থা। মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার ধংসের পেছনে অন্যতম দায়ী এই গোষ্ঠীটি।

কিন্তু বাংলাদেশ এখনো পর্যন্ত কোন অভিযুক্ত দালালের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থাই নেয়নি। অথচ বিভিন্ন সরকারের আমলে দেখা যায় এই গোষ্ঠীটির হাতেই দৃশ্যতঃ জিম্মি হয়ে পরে বাংলাদেশ হাইকমিশন। অতীতে এর ভূড়ি ভূড়ি দৃষ্টান্ত রয়েছে। এই মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের অনেকেই শ্রমিকের আয়ে ভাগ বসিয়ে প্রতি মাসে তার বেতনের অংশ খেয়ে ফেলছে। আবার শ্রমবাজার চালু থাকাবস্থায় দেখা গেছে এই দালাল বা মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা শ্রমিকদের এয়ারপোর্ট থেকে কোম্পানীতে শ্রমিক না পাঠিয়ে বা শ্রমিকদের গোডাউনে জিম্মি রেখে রিক্রুটিং এজেন্টকে বেকায়দায় ফেলে অর্থ আদায় করেছে।

অবশ্য বহু এজেন্সীও মালয়েশিয়ায় সম্পূর্ন খরচ পরিশোধ না করেই শ্রমিককে মালয়েশিয়া পাঠিয়ে দিয়েছেন। যার কারনে এয়ার পোর্টে শ্রমিককে কষ্টভোগ করতে হয়েছে। এতে শ্রমবাজারের সুযোগকে গলাটিপে হত্যা করা হয়েছে। অবশ্য মালয়েশিয়ায় স্থানীয় এই মধ্যস্বত্ত্বভোগীরা ‘আউটসোর্সিং’ কোম্পানীর নামে আজ বৈধতাও পেয়েছে। ভারসম্য বজায় রাখাঃ মালয়েশিয়ায় দ্বিতীয় ম্যানপাওয়ার সোর্সকান্ট্রি বাংলাদেশ হলেও মাত্র কিছুদিনেই যে পরিমান শ্রমিক মালয়েশিয়ায় এসেছে তা আঞ্চলিক সংস্থা আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোর জন্য রীতিমত ঈর্ষণীয়।

কম সময়ে এত শ্রমিক সরবরাহের ঘটনা হঠাৎ অনেকের চোখে ভালো ঠেকেনি। স্থানীয় লোকজনের কাছ থেকে ব্যালেন্স রক্ষার তাগিদ এলে তখন মালয়েশিয়া বাংলাদেশের শ্রমবাজার ফ্রিজ করে দিতে বাধ্য হয়। এমনকি বাংলাদেশকে সোর্সকান্ট্রির ভেতরেও অন্তর্ভূক্ত করা হয়নি। রিক্রুটিং এজেন্সীর আত্মশুদ্ধির অভাবঃ রিক্রুটিং এজেন্সীগুলোর খারাপ দিক যেমন আছে ভালো দিকও আছে অনেক। কারন আজ বাংলাদেশ যে দেড় হাজার কোটি টাকার বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের সাফল্য অর্জন করেছে সেখানে এই এজেন্সীগুলোর ভূমিকা অস্বীকার করার সুযোগ নেই।

কিন্তু মুষ্টিমেয় কিছু এজেন্সী মালয়েশিয়ায় যে অপকর্মগুলো করেছে তার বিরুদ্ধে সরকারও যেমন কোন কঠোর ব্যবস্থা গ্রহন করেনি ঠিক তেমনি ব্যাবস্থা নেয়নি রিক্রুটিং এজেন্সী সংগঠন ‘বায়রা’। তারাতো আত্মশুদ্ধি করেইনি তেমনি দুঃখজনক সত্য যে, অনেক অভিযুক্ত ও শ্রমিক প্রতারনায় জড়িত এজেন্সীও এবার বায়রার নতুন কমিটিতে নির্বাচিত হয়ে এসেছেন। তার অর্থ এটাই যে, বাংলাদেশে অপরাধ করে তিরস্কৃত হতে হয় না। সে পুরষ্কৃত হয়। দেশপ্রেমের অভাবঃ আদম ব্যবসা অবশ্যই বাংলাদেশের জন্য জনকল্যানমুখী একটি বাণিজ্য ব্যবস্থা।

যদি সেটা একটি সুষ্ঠু নিয়মে চালিত হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের বেকার যুবকদের বিদেশে কর্মসংস্থানের মাধ্যমে দেশের বৈদেশিক মুদ্রা তহবিল বৃদ্ধিতে এটাই এখন বাংলাদেশের বৃহৎ অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপ নিয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশের রিক্রুটিং এজেন্সীগুলোর অতি মুনাফা লাভের কারনে আজ দেশে দেশে এই শ্রমবাজার সংকুচিত হয়ে পড়েছে। অনেকক্ষেত্রেই অনেকে দেশপ্রেমের কথা ভুলে গিয়ে নিজের লাভের জন্য পক্ষান্তরে দেশের স্বার্থ বিকিয়ে দিয়ে অন্যদেশের স্বার্থকে সুযোগ করে দিচ্ছে। যেমন, কোম্পানীগুলোর সাথে শ্রমিকদের বেশী বেতন দেবার দরকষাকষির চেয়ে তারা দরকষাকষি করে কম বেতনে বেশী শ্রমিক সাপ্লাইয়ের জন্য।

এতে শ্রমিক তার উপযুক্ত মজুরী থেকে বঞ্চিত হচ্ছে, বাংলাদেশও অভীষ্ট বৈদেশিক মূদ্রা অর্জনের সুযোগ পাচ্ছে না। আর রিক্রুটিং এজেন্সীর পক্ষে এ কাজগুলো করছে ঐ মধ্যস্বত্ত্বভোগীরাই। উপসংহারঃ মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার চালু না হবার পেছনে অনেক যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে। কিন্তু এ কারনগুলো অনুসন্ধান করে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহন করা না হলে খুব সহজেই যে আর মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের শ্রমবাজার চালু হচ্ছে না তা আদম ব্যবসা সংশ্লিষ্ট মহল না বুঝতে পারলেও শ্রমবাজার বিশেষজ্ঞ ব্যাক্তিগন বোঝেন সহজেই। গোপনে আবডালে কৌশলে দুর্নীতির মাধ্যমে শ্রমবাজার চালুর সুযোগ এখন আর মালয়েশিয়ায় নেই।

কারন এখন এদেশের রাজনৈতিক পরিবেশ আর তিন বছর আগের পরিবেশে নেই। মালয়েশিয়া তার নিজের প্রয়োজনেই যদি কোনদিন বাংলাদেশের শ্রমিক আমদানী করে থাকে করবে। নতুবা স্বপ্ন দেখেও কোন কাজ হবে না। শ্রমবাজার চালু না হবার নেপথ্য কারনগুলো যাচাই বাছাই করে উদ্যোগ নিলে হয়তো আবার মালয়েশিয়ায় বাংলাদেশের এই লাভজনক শ্রমবাজারটি আলোর মুখ দেখতে পাবে। লিংক


সোর্স: http://www.somewhereinblog.net     দেখা হয়েছে বার

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.