সাম্প্রতিক যুবলীগের এক ইফতার মাহফিলে প্রধানমন্ত্রীপূত্র জয় এক বক্তব্য দিয়ে মিডিয়ায় বেশ আলোচিত হয়েছেন এবং বিরধীদল এই বক্তব্যের সমালোচনা করেছেন। বক্তব্যটি হলো আগামী নির্বাচনে আওয়ামীলীগ আবারো জয়ী হবে। তার কাছে তথ্য আছে। পরবর্তীতে এই বক্তব্যে বিরধীদল প্রতিক্রিয়া জানালে প্রধানমন্ত্রীসহ সরকারের মন্ত্রী এমপিরা এই বক্তব্যকে কাভারেজ দেয়ার চেষ্টা করেন। তবে যত আলোচনা সমালোচনা হোকনা কেন?জয়ের এই বক্তব্যের সত্যতা থাকা অবান্তর কিছু নয়।
এর কারণ হলো ২০০৮ নির্বাচনের আগে জয় এরকম একটি থিসিস বা তত্ব দিয়েছিলেন। হার্বাট ইন্টারন্যাশনাল রিভিউ নামে এক পত্রিকায় ১৯ নভেম্বর ২০০৮ যৌথভাবে লিখেছেন সজীব ওয়াজেদ জয় ও মার্কিন সামরিক অফিসার কার্ল সিওভাক্কো। বলাবাহুল্য কার্ল সিওভাক্কো শুধু ইরাকে নয়,তিনি সেনা অফিসার হিসেবে সৌদি আরব,জার্মানী ও পোলেন্ডে কাজ করেছেন। তিনি শুধু মার্কিন সেনা অফিসারই নন,তিনি আলকায়দার প্রচারণা পদ্দতির উপর একজন গবেষক। এই ব্যক্তিটির সাথে সজীব ওয়াজেদ জয়ের শুধু বন্ধুত্ব নয়,রীতিমতো আদর্শগত বন্ধুত্ব অবিশ্বাস্য বলতে হবে।
সিওভাক্কের সাথে জয় যে তত্বটি তুলে ধরেন তা হলো-ক) বাংলাদেশ ইসলামী সন্ত্রাসীদের দখলে চলে যাচ্ছে বা চলে গিয়েছে,একমাত্র আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় গেলেই ইসলামী সন্ত্রাসীদের মোকাবেলা করা সম্ভব। সিওভাক্কের সাথে এই পরিকল্পনার মূল সূরটা ছিল সামরিক। এর টার্গেট সেনাবাহিনী। ক)সেনাবাহিনী ইসলামপন্থীদের দখলে চলে যাচ্ছে বা গিয়েছে অতএব সেনা বাহিনীকে পূণর্গঠনের জন্য আওয়ামীলীগকে ক্ষমতায় আনা দরকার। খ)দ্বিতীয়ত জয় ও সিওভাক্কোর সেকুলার প্লানটা হলো বাংলাদেশকে শুধূ ইসলামপন্থীদের কাছ থেকে মুক্ত করলে হবেনা,তাদের জীবন আচরণও পরিবর্তন করতে হবে।
তারা আশংঙ্কা প্রকাশ করেন যে,বাংলাদেশে গত পাচ বছরে (২০০১-২০০৬) বোরখা বিক্রি বেড়েছে ৫০০ গূন। বোরখা বিক্রির এই বিচিত্র ও বিস্ময়কর হিসাব কোথা থেকে পেলেন তা প্রশ্নসাপেক্ষ। গ)মসজিদে মুসল্লির সংখ্যা বেড়ে গেছে। তবে তাদের এই সেকুলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য তারা কিছু বাস্তব পদক্ষেপ নিবেন ক্ষমতায় গেলে, তা হলো:১.মাদ্রাসা শিক্ষার পাঠ্যক্রম বদলাতে হবে। ২.সঠিকভাবে ধর্মহীন প্রাথমিক স্কুল ও হাসপাতাল বানাতে হবে।
৩.সেনাবাহিনীতে মাদ্রাসা তথা মৌলবাদী ছাত্ররা ঢুকে পড়েছে তাই মৌলবাদমুক্ত সেনাবাহিনী গঠন করতে হবে। ২০০৮ সালের নির্বাচনের পুর্বে জয়ের এই থিসিসের ব্যাত্যয় ঘটেনি। আমরা যদি একটু পর্যালোচনা করি তাহলে সহজেই বুঝতে পারি যে,জয়ের ওই থিসিসের পরেই আওয়ামীলীগ ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসে প্রথম যে কাজটি করেছে তা হলো-সেনাবাহিনীকে মৌলবাদ মুক্ত করা (যা পিলখানা হত্যাকান্ড)এর মাধ্যমে সফলভাবে করা হয়েছে। এরপর আদালতের মাধ্যমে রায় দেয়া হলো যে,কোন মুসলিম মেয়েকে বোরখা পরতে বাধ্য করা যাবেনা।
এবং বোরখা পরিহিত মেয়েদের বিভিন্নভাবে লান্ঞিত করা হলো গ্রেফতার করা হলো। এরপর মসজিদে মুসল্লিদের সংখ্যা কমানোর জন্য সকল ধরনের অপকৌশল সরকার গ্রহন করলো। মসজিদে মুসল্লিদের গ্রেফতার করা,লাঠিপেটা করা,জুমারদিন নাশকতার আশংঙ্কায় নিরাপত্তা বাহিনী দিয়ে মসজিদ ঘেরাও করা,মুসল্লিদের আতংঙ্কগ্রস্থ করা ইত্যাদি। উপরোক্ত তথ্য থেকে আমরা পরিষ্কার ধারণা পাই যে,আগামী নির্বাচন নিয়ে জয়ের কাছে যে তথ্য আছে বলে তিনি প্রকাশ করেছেন তা মিথ্যা নয়। এর কারণ জনগণের সমর্থন আওয়ামীলীগের যখণ শূন্যের কোঠায় তখণ প্রধানমন্ত্রী মার্কিন প্রবাসী পূত্র জয়ের তথ্যটি বেশ গুরূত্ব বহন করে।
নির্বাচনের মাধ্যমে তথা জনগনের সমর্থনে ক্ষমতায় না আসতে পারলেও ক্যুা এর মাধ্যমে ক্ষমতায় আসার তথ্যের দিকেই ইংগিত করেছেন সম্ভবত সজীব ওয়াজেদ জয়। তথ্যটি যদি সঠিক হয় তাহলে বাংলাদেশকে কঠিন সংকটে পড়তে হবে।
লেখক
এম এন আবছার (টিপু)
প্রাবন্ধিক ও গবেষক
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।