প্রতিনিয়ত নতুন করে চিনছি নিজেকে, চারপাশের সবাইকে...
ক্লাস টেনে পড়ি তখন। ইংরেজী পড়তাম গোপাল বাবু স্যারের কাছে। স্যার নাকি বিদেশিদের সাথে কথা বলতে পারতেন। অবাক হয়ে ভাবতাম, এত ইংরেজী জানে? আমিও সেরকম হওয়ার জন্যে প্রাইভেট পড়তাম স্যারের কাছেই। পাঁচ-ছয় জন ছিলাম আমরা ঐ ব্যাচে।
একদিন আমি কি কারনে যেন প্রাইভেটে যেতে পারিনি, স্যার বললেন, পরদিন ক্লাস নাইনের কয়েকজনকে ঐ জিনিসটা পড়াবেন, স্কুলের ক্লাস শুরু হওয়ার আগে। আমি যেন তখন সেটা বুঝে নিই। গেলাম যথা সময়ে। গিয়ে বসলাম টেবিলের এক মাথায়। দেখলাম কিছুক্ষণ পরেই একটা মেয়ে আসল।
বসল টেবিলের মাঝখানে। এখানে ঐ মেয়েটার একটু বর্ণনা না দিলে তার প্রতি অন্যায় করা হবে। ঐ মেয়েটা প্রথম স্পট লাইটে আসে ক্লাস সেভেনে থাকতেই। একটা সিনেমার গানের সাথে স্টেজে নেচেছিল। তারপরই দেখি সবাই তার জন্যে পাগল।
এই ক্লাস সেভেনে পড়া একটা মেয়ের জন্য!!! তারপর থেকেই তার পিছনে ঘুরঘুর করা ছেলেদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছিল। আর সেও যেন দিনদিন আরও সুন্দরী হচ্ছিল। ক্লাস নাইনে উঠে সে হয়ে গেল স্কুলের সেরা সুন্দরী, তর্কাতীতভাবেই। আর সে সুন্দরীই এখন আমার সাথে একই টেবিলে। স্কুলে থাকতে আমি ক্লাসের মেয়েদের সাথেই কথা হতোনা(একটু লাজুক ছিলাম কিনা, এই যে দেখেন, এখনো লজ্জা পাচ্ছি...ঈশশশ), অন্য ক্লাসের তো প্রশ্নই আসেনা।
জুনিয়র মেয়ে। নার্ভাস হওয়ার কথা তার। কিন্তু নার্ভাস হচ্ছি আমি। একজন একজন করে মেয়ে আসছে, তারা বসছে তার ওপাশে, আর ঐ মেয়ে চাপছে আমার দিকে!! সে আমার দিকে চাপছিল, আর আমি চাপছিলাম বাইরের দিকে। এভাবে চাপতে চাপতে একসময় খেয়াল করলাম, আমার দুই-তৃতীয়াংশ বাইরে, আর টেবিলে আছে মাত্র এক-তৃতীয়াংশ।
আর একটু চাপলেই পড়ে যাব। তার পায়ের সাথে আমার পা লাগানো, ভাবছেন ছিঃ কি নির্লজ্জ? ভাই উপায় নাই, জায়গা নাই, আমি কি করুম? আমি পা সরাই বাইরের দিকে, সে সরায় আমার দিকে!!! কি বিপদে পড়লাম রে বাবা। ঐ এক ঘন্টা সময়কে মনে হইল এক যুগ। যখন প্রাইভেট পড়া শেষ করলাম, দেখলাম, জ্বরে আমারে গা পুড়ে যাচ্ছে। ভাবলাম, ক্লাস করব, কিন্তু জ্বর এমন কড়া কইরা আসল, যে দরখাস্ত দিয়ে বাড়ী চলে আসতে হলো।
সেই প্রথম কোন মেয়ের পাশে বসলাম, আর তার পরিণতি এই!!! এরপর সহজে মেয়েদের পাশে বসতে চাইতাম না। একবারেই শিক্ষা পাইয়া গেছি। যদিও পরে ঐ মেয়ে তার লম্বা লিস্টে আমার নামও যোগ করতে চাইছিল। বুদ্ধি কইরা নাম যোগ করতে দিইনাই, জানের মায়া কার না আছে কন? যার লগে একঘন্টা বইসাই এই দশা, তার লগে সারা জীবন…..নাহ আমি আর ভাবতে চাইনা!!!
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।