আমাদের কথা খুঁজে নিন

   

জামায়াতের নেতাদের পূত্র-কন্যা যারা এখন অনলাইন ফোরামে লিখেন তাদের প্রতি আহ্বান

অতি দক্ষ মিথ্যুক না হলে সত্যবাদিতা উৎকৃষ্ট পন্থা

গত ৪ বছরে বিভিন্ন শিবিরকর্মী এবং জামায়াতের নেতৃস্থানীয় ব্যক্তিদের সন্তান-সন্ততিদের ভাষ্যে এ সত্যটা আমাদের জানা ছিলো, ২০০৬ সালে কামরুজ্জামান পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য কিংবা সামহোয়্যারে এখনও অবিরাম লিখে যাওয়া ফারজানা মাহবুব কিংবা সলিমুল্লাহ হলের প্রাক্তন প্রোভোস্ট কন্যা সাদিয়ার স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য থেকে আমরা জানতাম নতুন প্রজন্মের কাছে তাদের বাবারা ১৯৭১এ মুক্তিযুদ্ধে জামায়াতের অবস্থানকে ব্যখ্যা করেছে রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত হিসেবে। বাবা হিসেবে তারা ১৯৭১ এ নিজের কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত বলেই সম্ভবত সরাসরি বলতে পারেন নি তাদের কৃত অপরাধের কথা। কাদের মোল্লার ছেলে কি নিজের পিতার অপরাধের প্রতিরোধে তার মুখোমুখি দাঁড়াতে পারবে? আমি জানি না, তবে কাদের মোল্লা যখন প্রেসক্লাবে বললো মুক্তিযোদ্ধাদের নারীদের লোভে যুদ্ধ করেছে তখন সেই ছেলে কি বাবার কথার প্রতিবাদ করেছিলো? আমি জানি না। আমার সাথে তার দেখা হয় নি এরপর। কামরুজ্জামানের ছেলে অভিমান করেছিলো, তার বাবাকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে ধাওয়া করায়।

নিজের ক্ষোভ সে প্রকাশ করেছিলো মুক্তিযোদ্ধাদের কুত্তার বাচ্চা বলে, বিষয়টা আলোড়ণ সৃষ্টি করলেও কতিপয় ডানপন্থি অনলাইন বুদ্ধিজীবি তাদের সমর্থন করেছিলো। ফারজানা মাহবুব সেদিন ওয়ামীর সমর্থনে বলেছিলো পিতার অপমানে ক্ষুব্ধ হয়ে কেউ আবেগান্ধ হয়ে এমন কিছু বলে ফেলতেই পারে। আরিল কিংবা জানা'র অবশ্য এতে সমস্যা হয় নি। তার ব্যবসা টিকে আছে বহাল তবিয়তে। সামহোয়্যার কলেবরে বেড়েছে, সামহোয়্যারে বেড়েছে জামাতএর প্রচারণা, শুয়োরের সাথে সহবাসের ফতোয়া অস্বীকার করেছে কেউ কেউ।

সামহোয়্যারের নিজস্ব নীতি কিংবা সুযোগসন্ধানী নীতিপরিবর্তনকে মেনে নেওয়ার আগ্রহ আমার নেই। যে সত্য আমরা এতদিন জানতাম, জামায়াত এত দিন সে সত্য প্রকাশ করে নি। তারা বিভিন্ন পর্যালোচনা করছিলো কিংবা তাদের মজলিশে সুরার সুরাসক্ত নেতাগণ বিভিন্ন বিষয়াদি পর্যালোচনা করে অবশেষে সিদ্ধান্ত দিয়েছেন ১৯৭১ এ রাজনৈতিক কারণে জামায়াত মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতা করেছিলো। সে রাজনৈতিক কারণটা অবশ্য উল্লেখ করে নি তারা। তবে মুসলিম উম্মাহ এবং পাকিস্তানের অখন্ডতা বিষয়ে কোনো বক্তব্য জড়িত থাকবে এর সাথে।

পাকিস্তানকে ইসলামিক ইডিওলজিক্যাল রাষ্ট্র বিবেচনা করে পাকিস্তানী অসাম্প্রদায়িক জাতিয়তাবাদের বদলে মুসলীম জাতীয়তাবাদ এবং ইসলামী রাষ্ট্রের ধারণাটা ব্যর্থ হয়েছে বলেই বাংলাদেশের জন্মটা অবসম্ভাবী হয়ে উঠেছিলো। পাকিস্তানের একদল রাজনীতিবিদ বলেছিলেন পশ্চিম এশিয়া ও উত্তর আফ্রিকার পুরাতন খান্দানী মুসলিম রাষ্ট্র সমুহ ইসলাম রক্ষায় ব্যর্থ হওয়ায় আল্লাহ এই কাজে পাকিস্তানকে সৃষ্টি করেছেন এবং এই বিবেচনায় পাকিস্তানই মুসলিম দুনিয়ার একমাত্র যোগ্য নেতা। সুতরাং তারা করাচিতে " মোতেমারে- আলমে ইসলাম ডাকিয়া সারা বিশ্বের মুসলিম রাষ্ট্রসমুহকে সরকারী লেভেলে সম্মিলনী প্রতিনিধি পাঠানোর অনুরোধ করেছিলেন। তবে সে আহ্বানে সাড়া দেয় নি উত্তর আফ্রিকা এবং মধ্যপ্রাচ্যের মুসলিম রাষ্ট্রসমুহ। তারা তুর্কী সাম্রাজ্যের পতনের সাথে সাথে নিজেদের স্থানীয় জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে নিজেদের স্বাধীন ভুখন্ড সৃষ্টি করেছিলেন।

যদিও মিশর-সিরিয়া- ইরাক- জর্ডান- সৈদি আরব- সকল স্থানের যুবকনেতারা একই লক্ষ্যে সাম্রাজ্যবাদের বিরুদ্ধে লড়বার জন্য প্যান আরব ঐক্য গড়েছিলেন, তবে পরবর্তী সময়ে, বিশেষত প্রথম বিশ্বযুদ্ধ এবং পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তাদের নিজস্ব স্বদেশী জাতীয়তাবাদী আন্দোলনে আত্মনিয়োগ করেছিলেন তারা। সুতরাং মধ্যপ্রাচ্য এবং উত্তর আফ্রিকার দেশগুলোতে মুসলিম জাতীয়তাবাদের ভিত্তিতে অখন্ড মুসলিম রাষ্ট্র গঠিত হয় নি, বরং স্থানীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি এবং অর্থনৈতিক বিকাশের সাথে সাথে নিজস্ব জাতিয়তাবোধের উপলব্ধি স্পষ্ট হওয়ায় তারা মুসলিম ভাতৃত্ব স্বীকার করলেও নিজেদের রাষ্ট্রীয় পরিধিতে ইসলামিক জাতিয়তাবোধ নয় বরং অসাম্প্রদায়িক স্বদেশী জাতিয়তাবোধের চর্চায় মনোযোগী ছিলেন। সে কারণেই যখন পাকিস্তান সরকারী প্রতিনিধি পাঠিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোকে আরব জাতিয়তাবাদ ও তুর্কি জাতীয়তাবাদ জাতীয় স্থানীয় ও অনৈসলামিক জাতিয়তাবাদ পরিত্যাগ করে পাকিস্তানের মডেলে ইসলামী জাতিয়তাবাদ গ্রহনের উপদেশ দিলেন তখন মধ্যপ্রাচ্যের কোনো রাষ্ট্রই এই মতবাদ গ্রহন করে নি। সরকারী পর্যায়ে কোনো দেশই এই মোতামারে আলমে ইসলাম সম্মেলনে প্রতিনিধি পাঠায় নি, বরং পাকিস্তানের এই সর্দারিতে বিরক্ত হয়ে তারা পাকিস্তানের প্রতি বিরুপ ধারণাই পোষণ করেছেন। পাকিস্তানের ধর্মভিত্তিক জাতীয়তাবোধের চর্চাটাও যদি মুসলমি ভাতৃত্ববোধে উদ্বুদ্ধ হতো তাহলেও বাংলাদেশের স্বাধীকারের লড়াই হতো না।

বরং লাহোর প্রস্তাবের স্পষ্ট বিরোধি একটি রাষ্ট্র গঠিত হয়েছিলো। বাংলাদেশের নেতৃবৃন্ধ কখনই বিভাজন চায় নি। বরং তারা স্বাধিকার চেয়েছে। আয়ুব পতনের আগে বাংলায় তথা পূর্ব পাকিস্তানে স্বাধীকার আন্দোলন জোরদার হয়ে উঠে। ততদিনে পাকিস্তানের ঔপনিবেশিক শোষণের স্বরূপ উন্মোচিত হয়ে গিয়েছিলো।

কিন্তু আইয়ুব লাহোর প্রস্তাবের দু'টি পৃথক সার্বভৌম রাষ্ট্রের দাবিকে প্রত্যাখ্যান করে স্বাধীকার আন্দোলনরত রাজনৈতিকদের এবং পূর্ব পাকিস্তানের স্বাধীকার আন্দোলনের বিরোধিতা করে বলেছিলেন, যদি পূর্ব পাকিস্তানীরা পাকিস্তান হতে বিচ্ছিন্ন হতে চায় তবে গৃহযুদ্ধের মাধ্যমে অস্ত্রের ভাষায় সে বিদ্রোহ দমন করা হবে। ইয়াহিয়া আয়ুব খানকে সরিয়ে যখন রাষ্ট্রপতি হয়ে নির্বাচন আহ্বান করলেন তারপর পূ্ব পাকিস্তানে সাইক্লোনে নিহত হয় প্রায় ১০ লক্ষ মানুষ, তবে এই ব্যপক মানুষের প্রাণহানী ও সম্পদহানীর তোয়াক্কা না করে পূর্বঘোষিত সময়েই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। এবং ৬ দফার প্রবক্তা আওয়ামী লীগের প্রতি জনগণের ব্যপক সমর্থন প্রকাশিত হয় এই নির্বাচনে। আওয়ামী লীগে পশ্চিম পাকিস্তানে একটি আসনও পায় নি, সত্যিকার অর্থেই প্রাদেশিক একটি দল হয়েও আওয়ামী লীগ পাকিস্তানের সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেয়েছে। স্বাধীকার আন্দোলনে আওয়ামী লীগের সমর্থন থাকায় এবং প্রাদেশিক স্বাধীকারের দাবিতে বেলুচ এবং সিন্ধকে সমর্থন করবার জন্য পাকিস্তানের জাতীয় সংসদে স্বাধীকার ও ফেডারেল রাষ্ট্র নির্মাণের ক্ষেত্রে আওয়ামী লীগের কোনো সংকট হতো না।

এই পরিণতি সম্ভবত পূর্ব পাকিস্তানের অর্থনৈতিক বিষয়াদিতে পশ্চিমা শোষণের চিরস্থায়ী বিলোপ ঘটাতো। সেটা মেনে না নিয়ে বরং ঔপনিবেশিক শোষণে পূর্বপাকিস্তানকে নিঃস্ব করা এবং বেলুচ সিন্ধ ও ওয়াজিরিস্তানে উদ্ভুত জাতীয়তাবাদীতাকে দমনের জন্য পাকিস্তান পূর্ব পাকিস্তানে গণহত্যা চালান। আমরা সাদিয়া( তৎকালীন আস্তমেয়ে)র কল্যানে জানি গোলাম আজম তার জীবনিতে বলেছেন ১৯৭১ সালের ২৬ শে মার্চ তিনি ঢাকায় কয়েকটি লাশ দেখেছেন, ১৯৭১ এ ঢাকায় গণহত্যা হয় নি। পিতার বীর্যে হয়তো অন্ধ চোখ তার, সুতরাং গুগলের যুগেও পিতার বয়ান আর গোলাম আজমের জীবনি হয়েছে তার স্বাধীনতা সম্পর্কে জানবার একমাত্র গ্রহনযোগ্য উপায়। যাদের বাবা জামায়াতের নেতা, যারা জন্মসূত্রে ইসলামী জাতিয়তাবাদে বিশ্বাসী, যাদের পিতা-মাতার শীৎকারে এক ওয়াতন এক ভুমি পাকিস্তান আমার জন্মভুমি চিৎকার এখনও ধ্বন্বিত হয় তাদের শিওশব যৌবন সবই পাকিস্তানের লেহনে নষ্ট হয়েছে।

তারা হয়তো চোখ খুলে দেখবে না কোনো দিনই। তবে মুজাহিদের বক্তব্যের প্রতিবাদ না করে পারছি না। ছাত্রমজলিসের কর্মী হিসেবে তারা ৬ দফার পক্ষে মিছিল করেছেন একদা, ২১শে মার্চ পর্যন্ত তারা বাংলার স্বাধীকারের সপক্ষে আওয়ামী লীগ থাকায় তাদের সমর্থন করেছেন, এবং হঠাৎ করেই ২৫শে মার্চের গণহত্যার পরে তারা রাজনৈতিক বিবেচনা কেনো পাকিস্তানবাদী হয়ে উঠলেন? কেনো তারা এবং তাদের নেতৃবৃন্ধ ১৯৭১ এ যেখানে গনহত্যা চলছে সে মুহূর্তে নির্বাচনে মনোনয়ন নিলেন, কেনো তাদের কেউ কেউ বিনা প্রতিদন্ডিতায় নির্বাচিত হলেও তারা গণহত্যার প্রতিবাদ না করে বরং গণহত্যার সপক্ষে কাজ করে গেলেন। তাদের মুখপত্রে দৈনিক সংগ্রামে প্রকাশিত সংবাদগুলো মিথ্যা এমনটাই দাবি মুজাহিদের। সাংবাদিকেরা অনেক উল্টা পাল্টা লিখে থাকে।

মুজাহিদ আমাদের সত্য কথা জানান, তিনি জানান কাউকে জবাই করবার জন্য নিশ্চিত ভাবেই তাকে চড় মারতে হয় না। কুয়ায় ঝুলিয়ে অত্যাচারে অজ্ঞান করে ফেলবার জন্য হাতের ব্যবহার করতে হয় না, জনাব কামরুজ্জামান এসে জানান শেরপুরে তার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ আছে তা ভ্রান্ত- সামহোয়্যারের শীর্ষে বিশেষ পোষ্টে ঝুলে আছে শর্মীর নাম- সেও ৩ লক্ষ না ৩০ লক্ষ মৃতদেহের বিনিময়ে বাংলা স্বাধীন হয়েছে এই প্রশ্নে বিভ্রান্ত ছিলো। সেও এত দিনের এত তথ্য উপাত্ত জেনেও আত্মীয়তার বন্ধনে লজ্জিত হয় নি? না কি অতীত যা ঘটে গেছে ঘটে গেছে- আপনারা শুধু অতীত নিয়ে মাতামাতি করেন এমন জামায়াতী নেতাদের অনুযোগের মতো তারও বিশ্বাস অতীতে যে হত্যা হয়ে গেছে তার বিচারের প্রয়োজন নেই? আহ্বান জামায়াতী নেতাদের সন্তান-সন্ততিদের কাছে- যারা মুক্তিযুদ্ধের চেতনায় বিশ্বাসী তাদের ঘৃণা অপরিসীম, তারা যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী কার্যক্রমে লিপ্ত সকল মানুষকে ঘৃণা করে। কিন্তু আপনাদের পিতাদের অনেকেই ৭১এ মানবতা বিরোধী কর্মকান্ডে লিপ্ত ছিলো। এসবের প্রমাণ ছড়িয়ে আছে সব দিকে, সেসব দেখে তাদের ঘৃণা করুন।

শুধু একবার বলুন "বাবা ১৯৭১ এ তোমার কাজের জন্য তোমাকে বাবা ডাকতে আমার লজ্জা হয়" দেশের আদালত যে রায়ই দিক না কেনো আপনার বিবেকের রায় যদি এভাবে স্পষ্ট হয়ে উঠে তাহলেই আপনাদের আমরা পুনরায় কাছে টেনে নিতে পারবো। যার যা কাজ তার প্রাপ্ত সম্মান ও ঘৃণা তাদের দিতে হয়। এটাই সামাজিক বিধি

অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।

প্রাসঙ্গিক আরো কথা
Related contents feature is in beta version.