আমি চাই শক্তিশালী স্বাধীন-সার্বভৌম বাংলাদেশ
সেই ১৯৯৬ সালের কথা। আমার কয়েক জন বন্ধু ভারতের তামিল নাড়ুতে বিবিএ পড়াশোনার জন্য যায়। তারা ইংরেজীর সাথে হিন্দীও জানত। কিন্তু তামিলনাড়ুতে গিয়ে দেখল যদি ঐ তামিল ভাষা জান খুব ভাল নতুবা ইংরেজীও চলবে। তাই বলে হিন্দির বেইল নাই।
নিজ ভাষাকে তামিলরা খুবই আবেগ প্রবণ। বস্তুত এই কারণেই তামিল নাড়ুতে তাদের মাতৃভাষা বহাল তবিয়তে আছে। আর ভারতের পশ্চিমবঙ্গে হিন্দীর কাছে মার খেয়ে কোমড় ভেঙে পড়ে আছে। তাদের রাজ্যের বাংলা গল্প সাহিত্য, গান ইত্যাদি বাংলাদেশে না আসলে তারা আর্থিক ভাবে ক্ষতির সম্মুখীন হয়। তথা বাংলা পশ্চিমবঙ্গে ভিন্ন সংস্কৃতিই মনে হয়।
সেখানে হিন্দি ও ইংরেজীই ষ্ট্যাটাস সিম্বল।
তামিলনাড়ু ভারতের অঙ্গরাজ্য হয়েও হিন্দীকে ভালমতই ঠেকিয়ে রাখছে। কারণ তাদের জাতীয় ঐক্য প্রবল। অথচ আমাদের বাংলাদেশ একটি স্বাধীন দেশ হওয়া সত্ত্বেও নিজেদের স্বার্থ বিকিয়ে ভারত হতে সিনেমা আমদানীর নিষেধাজ্ঞা তুলে দিছি। সেই স্বাধীনতার পরে মুজিব সরকার দেশের বাংলা সিনেমার স্বার্থে উপমহাদেশের কোন দেশের সিনেমা আমদানী নিষিদ্ধ করছেন।
অথচ আজকে তারই কন্যা হাসিনা বাংলাদেশের মানুষের মতামত ও অনুমতি না নিয়েই ভারতের জন্য এই দেশের সিনেমার বাজার খুলে দিছে। এখন আমাদের সিনেমার জন্য এটা ক্ষতিকর। হিন্দি সিনেমা ভারতেই ব্যাপক লাভবান। বাংলাদেশে যা পাবে সেটা তাদের অতিরিক্ত আয়। তাদের মূভি এই দেশে না আসলেও তাদের কোন ক্ষতি নাই।
কিন্তু পশ্চিমবঙ্গের দাদা বাবুরা নিজেদের ব্যার্থতায় এখন বাংলাদেশের বাজারেও হিন্দি সিনেমার জন্য পথ খুলে দিচ্ছে। তোরা তোদের সিনেমা চালানোর কোন উদ্যোগ না নিয়ে ৪১ বছরের বাংলাদেশের সিনেমা ও দর্শকের উপর কেন ফায়দা নিতে চাস? তোরা তোদের চর্কায় তেল দে! আমাদের ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারীর ভাষা শহীদ ও সৈনিকরা নিজেদের বাংলা ভাষাকে হুমকিগ্রস্থ করার জন্য আন্দোলন করেনি। তিলে তিলে গড়ে উঠা বাংলাদেশের সিনেমা ভারতের কাছে মার খাবে এটা কোন দেশপ্রেমিক ও সচেতন নাগরিক মেনে নিবে না।
তাই আমার দাবী ভারত সহ উপমহাদেশের অন্য রাষ্ট্রের সিনেমা আমদানী নিষিদ্ধই থাকুক! ।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।