আমার প্রথম প্রকাশিত উপন্যাস "অচেনা শ্রাবণে" অমর একুশে বইমেলা-২০১৩ তে স্টল নাম্বার-২৭৭ ""গদ্যপদ্য"" পাওয়া যাচ্ছে।
একটি অপ্রকাশিত চিঠি ...আট বছর আগের কোন লিখা। যখন মাত্র লিখালিখি শুরু করেছিলাম, তখনকার একটা লিখা। আবেগটা অনেক বেশি ছিল বোধয়... এই চিঠি যদিও কারও কাছেই যায়নি আর যাবেও না, তবুও এই স্বপ্নটা কিন্তু মিথ্যে ছিল। সত্যি সত্যি আমি নিজে এই স্বপ্ন টা দেখেছিলাম।
সবচেয়ে আজব বিষয় হলও, আমি এখনও চোখ বুজলে স্বপ্নটা দেখি এখনও। জানি না কেন। প্রতিটা জোছনা হলেই আমার হৃদয় হাহাকার করে কেমন জানি!!!
প্রথমেই তোমাকে একগুচ্ছ নীল অপরাজিতার শুভেচ্ছা। চিরচেনা ভঙ্গিতেই তোমাকে চিঠি লিখতে শুরু করেছি। যদি অদ্ভুত কোন খেয়াল আসতো, তাহলে অদ্ভুত কিছু দিয়েই চিঠিটা শুরু করতাম।
কিন্তু অদ্ভুত কিছু করার সামর্থ্য নেই আমার। কারণ, আমি অতি সামান্য এবং অতি সাধারণ একটা ছেলে। তোমার কাছে আজ আমার প্রথম চিঠি, বুঝতেই পেড়েছ বিশেষ কোন কারণ আছে!! তুমি হয়তো আমার কাণ্ড দেখে বিরক্ত হচ্ছ। কারন ,আমি কল্পনায় দেখতে পাচ্ছি, বিরক্তিতে তোমার কপাল কুঁচকে গেছে। আবারও বিরক্ত হচ্ছ তুমি?? ভাবছ, কল্পনায় তোমাকে আমি কি করে দেখতে পাই? আরে কল্পনা তো দুরের কথা, আমার তো সবসময়ই মনে হয়, তুমি আমার আশেপাশেই আছো।
খুব একান্তই নিজের একটা স্বপ্নর কথা বলব তমাকে। মনে হচ্ছে বলার সময় এসে গেছে। তাই তো এই চিঠিটার অবতারণা। দুঃখিত, ভাষাটা বোধয় একটু কঠিন হয়ে যাচ্ছে। আচ্ছা,আর কোন ভণিতা না।
তুমি আমার স্বপ্নটা একটু শোন। মোহময় খুব মায়াবী নির্জন একটা দ্বীপ। তখন অনেক গভীর রাত। আকাশের বুকে হাস্যউজ্জ্বলভাবে ফুটে আছে রুপালী চাঁদ। সেই চাঁদের নীল জোছনায় দ্বীপের চারিপাশটা কেমন যেন অদ্ভুত রহস্যময় হয়ে উঠেছে।
পুরো দ্বীপটা যেন প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে স্বর্গে পরিণত হয়েছে। চারিদিকে কেমন যেন নীরবতা। শুধু মাত্র দূর থেকে সমুদ্রের কল্লোলের গর্জন শোনা যাচ্ছে। আমি সমুদ্রের কিনারায় একা একা হাঁটছি। মোটকথা, পুরো দ্বীপটা কেমন জানি স্বপ্ন স্বপ্ন হয়ে উঠছে।
হটাত সমুদ্রের গর্জন ছাপিয়ে , দূর থেকে ভেসে এলো নূপুর আর ধ্বনি। আমি সঙ্গে সঙ্গে চারিদিকে তাকালাম। কিন্তু কাউকে দেখতে পেলাম না। আবারও শুনতে পেলাম। এবার আমি দেখতে পেলাম, সমুদ্র সৈকত এর নারিকেল গাছের সারি থেকে একটি মেয়ে দৌড়ে আসছে।
নূপুর এর শব্দটা ওইখান থেকেই আসছে। মেয়েটা দৌড়ে সমুদ্রের দিকে যাচ্ছে। নীল জোছনায় আমি আবছা ভাবে দেখতে পেলাম কিংবা মনে হলও... মেয়েটা কালো রঙের একটা শাড়ি পড়ছে, সেই সাথে কপালে কালো টিপ। তাঁর ঘন কালো চুল উড়ছে, সেই সাথে কালো চুল, যেটার প্রতি আমি বরাবরই অনেক বেশি দুর্বল!!! তুমি বিশ্বাস করবে না, আমি এক ঝলক দেখেছিলাম শুধু। মেয়েটি অসম্ভব রূপবতী ছিল।
আমি কিন্তু মেয়েটির চেহারা পুরোপুরি দেখতে পাই নাই। তবুও পাগলের মতো মনে হচ্ছে, ভয়ঙ্কর সুন্দর মেয়েটা। আমার কি হলও আমি জানি না, আমি সেই মেয়েতার পিছন পিছন দৌড়ানো শুরু করলাম। কিসের আকর্ষণ আমি জানি না। কেমন যেন একটা মাতাল অনুভব।
মেয়েটি সেই সময় সমুদ্রের কিনারাই ছুটছিল। সমুদ্রের মৃদু কল্লোল, তাঁর দুপা কে আলতো করে ছুঁয়ে যাচ্ছে। হটাত মেয়েটি থমকে দাঁড়িয়ে গেলো। সেই সাথে আমিও। তারপর সে স্থির দৃষ্টিতে আমার দিকে তাকিয়ে রইল।
আমিও...। আমি কেবলই মনে হচ্ছে, ও স্বর্গের কোন অপ্সরী। মেয়েটা আমার খুব কাছাকাছি এসে দাঁড়ালো। আমার হাত তাঁর নিজের হাতে নিয়ে নিলো এবং তাঁর সুরেলা মাদকতাময় কণ্ঠে একটি শব্দই উচ্চারণ করল---
“ভালোবাসি!!!!”
আমার স্বপ্নটা এখানেই শেষ। আমি জানি, তোমার এখনও কৌতূহল হচ্ছে, কেন আমি তোমাকে এই স্বপ্নটার কথাঁ বললাম।
তাঁর কারণ আমি ঘুম থেকে উঠা মাত্রই মেয়ে টা কে চিনতে পারলাম। মেয়েটা আর কেউ না...
“তুমি!!!”
হ্যাঁ, শুধুই তুমি!!! জানি তুমি চমকে গেছো। আর এই চিঠি লিখার বিশেষ কারণটাই হলও, তোমাকেও আমি বলতে চাই, বলতেই হবে আমাকে---
“ভালোবাসি!!!”
আর কিই বা বলার থাকতে পারে??? তোমার হাত বাড়ানোর আশায় থাকলাম। কি!!!! আমি তোমার হাত ধরতে পারব না??? এখনও বিরক্ত হবে??? ভালো থেকো তুমি, খুব ভালো... সবসময়ই।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।