বলিনি কিছুই তবু
এন জুলফিকার
আমার বাসার পাশে, জানালার ঠিক পাশে যে বকুল গাছ
তাকে আমি মনে মনে বলি, কিশোরী হও।
লাল পাড় ডুরে শাড়ি পুজোর অঞ্জলি দিতে
উড়ে যাও পাড়ায় পাড়ায়।
সমর্পনী অশ্রু নিয়ে যোজনগন্ধা নারী কাছে এলে
বলি, শোনো মেয়ে, আমাদের স্বপ্নের ডিকশনারি থেকে
কেটে বাদ দিয়েছি 'অশ্রু' আর 'চোখের জল'।
ঘরে ফেরো, চোখে মুখে মেখে এসো জ্যোৎস্নার রেণু।
বর্ষার আকুল নদী ডাক দেয় শিকড় আর মূলে,
ইশারায় ফুলে ওঠে ঢেউয়ের ফেনায়।
ঘরমুখো মানুষের গমনচিহ্ন ছুঁয়ে বলি তাকে,
রামীর আঁচল ধরো, ভেসে যাও কৃষ্ণ-বাসায়।
তারপর মাতাল রাত, বৃষ্টির তীব্র বিলাপ
গোপন বিদ্যুৎরেখা ক্রমশই মেতে ওঠে সুপ্ত পাড়ায়।
প্রগাঢ় স্বপ্ন ভেঙে বৃষ্টিকে বলি, যাও
অভিসারিকার দেহে এঁকে দাও ঝলমলে রোদ।
কিশোর বাগানে রোজ ফুল তোলে, একা ;
জল দেয়, কুয়াশায় মুখ ঢেকে হাস্নু হেনাকে রোজ ডাকে।
দূরের পাহাড় থেকে ভেসে আসে মাদলের তান।
হঠাৎ চমকে দেখি, বলিনি কিছুই তবু
ফুলের মায়াবী চোখে আলো চলকায়।
মাতাল পথের বাঁকে সোনাঝুরি রেণুমাখা ভোরে
কিশোরের নত মুখ, এলোমেলো চুলে
মত্ত বালিকা এক বাসর সাজায়।
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।