Shams
এ আষাঢ়ে বৃষ্টি নাই। ‘আইলা’য় মৌসুমি বায়ু উড়িয়ে দিয়েছে। আষাঢ়ে বৃষ্টি নাই তাই বলে কি আষাঢ়ের গল্পও নাই! বৃষ্টিহীন আষাঢ়ের গল্গ শুনুন।
৯ম জতীয় সংসদ নির্বাচনে জয় লাভের পর মহাজোটের প্রধান শরীক আওয়ামী লীগের নীতি নির্ধারকরা ‘দিনবদল’ এর মন্ত্রীসভা গঠন করার জন্য সকল সদ্য নির্বাচিত সংসদদের নিয়ে আলোচনায় বসেছে। এ মন্ত্রীসভার মন্ত্রী হলে শুধু পতাকাওয়ালা গাড়ীতে ঘুরা হবে না।
বিশাল বড় কাজের ভার নিতে হবে, দেশ কে ডিজিটাল করতে হবে। সভায় উপস্থিত সবাই তৎপর। সভায় সবার প্রথম সর্ব সম্মতিক্রমে মন্ত্রীসভা’র কান্ডারী প্রধান মন্ত্রী নির্বাচন করা হলো। এর পর একে-একে অর্থ মন্ত্রী- স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী নির্ধারণ করা হলো। তার পর পররাষ্ট্র মন্ত্রী নির্ধারণ করার জন্য সভার সভাপতি জিজ্ঞেস করলেন , ‘ নির্বাচিত সংসদদের মধ্যে কেও কি আছেন যিনি ফরেন মিনিস্ট্রী সম্পর্কে ভালো জননেন?’
সভায় পিছনের দিকে বসে থাকা সদ্য নির্বাচিত নবিন সংসদ ডা. দীপু মনি ভুলে শুনলেন, ‘ নির্বাচিত সংসদদের মধ্যে কেও কি আছেন যিনি ফরেনসিক মেডিসিন সম্পর্কে ভালো জননেন?’ ডা. দীপু মনি তখন ভাবলেন দেশের সেরা মেডিকেল কলেজ ঢাকা মেডিকেল কলেজে এম.বি.বি.এস পড়ার সময় তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষে ১০০ নম্বরের ফরেনসিক মেডিসিন পড়েছেন, খুব ভালো নম্বরও পেয়েছেন, অতএব তিনি বিশেষজ্ঞ না হলেও বেস ভালো জানেন।
বিনা দ্বিধায় হাত তুললেন তিনি।
সভাপতি এক জন মহিলা কে হাত তুলতে দেখে খুব খুশি হলেন। তিনি তাকে জিঙ্গেস করলেন, ‘কোথাকার সংসদ আপনি?’
‘চাঁদপুর-৩। ’
সভাপতি তার ল্যাপটপে দেখলেন সংসদের ২৬১ নম্বর চাঁদপুর-৩ হাইমচর-সদর) আসন থেকে ১,৩৪,৮৩৬ ভোট পেয়ে গত বারের বিএনপি’র সংসদ জি.এম ফজলুল হক কে হারিয়ে প্রথম সংসদ হয়েছেন Dr. Dipu Moni. সভাপতি ‘ Dr..’ টার মানে মনে করলেন ডক্টরেট । তিনি দেখলেন এই মহিলা তিনটা গুন: ১.ডক্টরেট, ২. ফরেন মিনিস্ট্রী সম্পর্কে ভালো জননেন, আর ৩. তিনি একজন নারী।
সভাপতি ঘোষণ দেন,‘ চমৎকার, আপনি হবেন আমাদের পররাষ্ট্র মন্ত্রী!’ অনান্যরাও তাঁর কথায় সমর্থন দিল।
এভাবেই দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী বনে যান নাকি?
মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী দয়িত্ব গ্রহণের পরপরি আবার একদিন ভুল শুনলেন-ভারতীয় সংবাদিকের প্রশ্ন ছিল ‘বাংলাদেশ কি পাকিস্থানের বাফার স্টেট?’ তিনি শুনলেন ‘বাংলাদেশ কি পাকিস্থানের বাপের স্টেট?’ ব্যাস নিন্দুকেরা পেয়ে বসলো। নিন্দুকেরা ইংরেজী প্রবাদ “ মর্নিং সো দ্যা ডে” বলতে লাগলো।
আমাদের বড় সমস্যা হলো আমরা ছোট বেলায় গণিত করতাম ‘মনে করি’ দিয়ে। চলার পথের গণিত করি ‘মনে করি’ দিয়ে! যেমন ধরেন মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রী’ মানে মনে করেছেন, যে মন্ত্রী পরের রাষ্ট্রে থাকে।
এ জন্য তিনি প্রায় বিদেশ সফরের উপরে আছেন। কিংবা ‘পররাষ্ট্র মন্ত্রী’ মানে মনে করেছেন পরের রাষ্ট্রের মন্ত্রী- এ জন্য বোধায় পরের রাষ্ট্রে কর্তাদের(ভারতীয়) সুরে সুর মিলাচেছন।
মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রীর নির্বচিত এলাকা চাঁদপুরের বড় সমস্য নদীভাঙ্গন। উনি বোধায় এখানেও মনে করেছেন, উজানে ভারত থেকে যদি জল কম পাওয়া যায় তাহলে নদীতে না থাকবে পানি না থাকবে নদীভাঙ্গেন সমস্যা! না থাকবে সারাদেশের বন্যার সমস্যা! এ জন্য পীনাক বাবু যখন বলেন যথেষ্ট পদ্মায় পানি পাওয়া যায়। উনি প্রতিবাদ করেন না।
মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী কাছে আমার বিনীত নিবেদন কোথায় ভারতীয় বিশেষজ্ঞের কথা শোনেন আমাদের রাজশাহীতে এসে দেখে যান, পদ্মায় পায়ের পাতা ঢোবানোর মতো পানি নাই। রাজশাহীতে আমাদের পাঁচ পুরুষের বাস, পদ্মা কি ছিল আর কি হয়েছে আমার মনে হয় না আমাদের থেকে মেড ইন ইন্ডিয়া’র বিশেষজ্ঞরা ভালো জানবে। রাজশাহী তে “কচু গাছের সাথে গলায় দড়ি দেওয়া” এর বদলে এখন বলা হয় “ পদ্মায় ঢুবে মরা”।
রাজশাহীবাসী’র কাছে এ যাবত কালে সবচেয়ে বড় জোকস্ হলো পীনাক বাবুর উক্তি- পদ্মায় যথেষ্ট পানি পাওয়া যায়!
অহিংসা আন্দোলনের জন্য কৃর্তিমান মহাত্মা গন্ধী’র দেশ ভারত। মাননীয় পররাষ্ট্র মন্ত্রী ভারত পনি দিচ্ছেনা বলে অভিযোগ-অনুযোগ, ঝগড়া-বিবাদ না করে বোধায় গান্ধীবাদী হয়ে গান্ধীগিরি করছেন।
ভারতকে ভারতীয় অস্ত্র দিয়ে মাত করার কুর্টনৈতিক পরিকল্পনা! জনপ্রিয় হিন্দি চলচ্চিত্র ‘লাগেরাহো মুন্না ভাই’ এর মত পন্থা অবলম্বন করছেন। ভারত ফারাক্কায় বাঁধ দিয়ে উত্তর অঞ্চলের ১২টা বাজিয়েছে এখন টিঁপায় মুখে বাঁধ দিয়ে পূর্ব অঞ্চলে ১২টা বাজিয়ে আমাদের কাছে বিদ্যুৎ বিক্রি করার পাঁয়তারা করছে! তাতেও গান্ধীবাদী হয়ে এক গালে থাপ্পড় খাওয়ার পর আরেক গাল এগিয়ে দেবার মত অবিচল। কারণ গান্ধীগিরি’র ফলে যেমন ব্রিটিস’রা ভারতবর্ষ থেকে চলে গেছে, তেমুনি এক সময় ভারতও নিজে থেকে সব বাঁধ তুলে নিবে, আমাদের নদীর পানির নায্য হিস্সা দিবে!
সব শেষে আমার একটা গল্প শোনায়। এক মার্কেট রিসার্চ ফার্মে আমি কাজ করতাম এক সময় সেখানে সবচেয়ে সিনিয়ার ও অভিজ্ঞ হবার পরও রাজশাহী’র প্রধান কর্মকর্তা আমাকে প্রমোশন না দিয়ে কি মনে করে আনকোরা- অনাভিজ্ঞ এক জন কে সুপার ভইজার করলো। এ ক্ষোভে প্রতিবাদ করে আমি কাজ ছেড়ে দিয়।
ক’দিন আগে শুনলাম সে আনকোরা এখনও কাজ শিখতে পারেনি তাকে নিয়ে বিপাকে আমার সাবেক বস্; না পারছে বিদায় করতে না রাখতে- তার বোঝা হয়ে গেছে। এখন শুনলাম তিনি নিজেই সে ফার্ম ছাড়ছেন। এখন আমার কথা হলো আমার সে সাবেক বস্ না হয় অন্য কোথায় কাজ জুটিয়ে নিতে পারবে, কিন্তু সে নীতি নির্ধারকদের কি হবে! তারা তো বয়েজেষ্ট! নতুন কোন কাজ খুঁজা তাঁদের জন্য নানা সমস্যা ও বিড়ম্বনা হয়ে দাঁড়াতে পারে। আর ডা. দীপু মনি তো ডাক্তার , তাঁর আইনেরও ডিগ্রী আছে! তার উপর তাঁর বয়স খুব বেশী না, তাঁর নতুন কোন কাজ খুঁজা খুব একটা সমস্যার না।
আষাঢ়ের গল্গটা বোধায় বিদ্যুৎহীন জ্যৈষ্ঠের দুপুরের প্যাঁচাল হয়ে গেল!
।
অনলাইনে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা কথা গুলোকেই সহজে জানবার সুবিধার জন্য একত্রিত করে আমাদের কথা । এখানে সংগৃহিত কথা গুলোর সত্ব (copyright) সম্পূর্ণভাবে সোর্স সাইটের লেখকের এবং আমাদের কথাতে প্রতিটা কথাতেই সোর্স সাইটের রেফারেন্স লিংক উধৃত আছে ।